Ajker Patrika

হজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত কয়টি ও কী কী

ইসলাম ডেস্ক 
আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ১৩: ০৬
হজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত কয়টি ও কী কী

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে ‘হজ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজের এই দীর্ঘ সফরটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি ও বিধানের সমষ্টি। হজের প্রতিটি ধাপ এবং কাজকে ইসলামি শরিয়ত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে— ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নত।

হজের পূর্ণতা ও কবুলিয়তের জন্য এই বিধানগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। কারণ, কোনো একটি ‘ফরজ’ বাদ পড়লে হজ বাতিল হয়ে যায়। ‘ওয়াজিব’ বাদ পড়লে কাফফারা বা দণ্ড দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। সুন্নত বাদ পড়লে হজের আধ্যাত্মিকতায় কমতি আসে।

হজের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত কাজগুলোর বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো—

হজের ফরজ তিনটি

হজের প্রধান প্রধান কাজগুলোর মধ্যে এই তিনটি কাজ ফরজ। এর যেকোনো একটি বাদ পড়লে হজ আদায় হবে না—

  • ১. ইহরাম বাঁধা: হজের নিয়তে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চাদর পরিধান করা।
  • ২. আরাফার ময়দানে অবস্থান: ৯ জিলহজ জোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা।
  • ৩. তাওয়াফে জিয়ারত: আরাফার ময়দান থেকে ফেরার পর ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে কাবা শরিফ সাতবার প্রদক্ষিণ করা।

হজের ওয়াজিব ৬ টি

পবিত্র হজ পালনের ক্ষেত্রে ফরজ পালনের পাশাপাশি ওয়াজিবগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিচে হজের প্রধান ছয়টি ওয়াজিব বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

  • ১. মুজদালিফায় অবস্থান: ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মুজদালিফায় অবস্থান করা।
  • ২. সাফা-মারওয়ায় সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার চক্কর দেওয়া।
  • ৩. কঙ্কর নিক্ষেপ (রমি): মিনায় শয়তানকে পাথর মারা।
  • ৪. কোরবানি করা: তামাত্তু ও কিরান হজকারীদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব।
  • ৫. মাথার চুল কাটা: মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা (হলক বা কসর)।
  • ৬. বিদায়ী তাওয়াফ: মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য মক্কা ত্যাগের আগে সর্বশেষ তাওয়াফ করা।

হজের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত

পবিত্র হজ পালনের ক্ষেত্রে ফরজ এবং ওয়াজিব পালনের পাশাপাশি সুন্নতগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সুন্নতের অনুসরণ হজের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং ইবাদতকে পূর্ণতা দান করে। নিচে হজের প্রধান ১০টি সুন্নত বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. তাওয়াফে কুদুম করা: মক্কার বাইরে থেকে আগত ইফরাদ ও কিরান হজ পালনকারীদের জন্য মক্কায় পৌঁছে সর্বপ্রথম যে তাওয়াফ করতে হয়, তাকে তাওয়াফে কুদুম বলে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

২. তাওয়াফে রমল করা: হজের তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের জন্য বীরদর্পে বা সৈনিকের মতো কাঁধ হেলিয়ে দ্রুত পদক্ষেপে চলা সুন্নত। একে ইসলামি পরিভাষায় ‘রমল’ বলা হয়।

৩. নির্ধারিত খুতবা শোনা: হজের সময় তিনটি স্থানে খুতবা বা ভাষণ প্রদান করা সুন্নত।

৭ জিলহজ হারাম শরিফে।

৯ জিলহজ আরাফার মসজিদে নামিরাতে।

১১ জিলহজ মিনাতে।

৪. মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রাত যাপন: ৮ জিলহজ মক্কা থেকে মিনায় গিয়ে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং ওই রাতে সেখানে অবস্থান করা সুন্নত।

৫. আরাফাতের দিকে রওনা হওয়া: ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হওয়া।

৬. আরাফায় অবস্থানের পূর্বে গোসল: ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের উদ্দেশ্যে দুপুরের আগে (জোহরের পূর্বে) গোসল করা সুন্নত।

৭. সূর্যাস্তের পর আরাফা ত্যাগ: ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে তারপর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হওয়া।

৮. মুজদালিফার দিকে যাত্রা: আরাফা থেকে ফেরার পথে মুজদালিফার দিকে অগ্রসর হওয়া এবং সেখানে রাত যাপন করা।

৯. মিনাতে রাত যাপন: হজের কোরবানির দিনগুলোতে অর্থাৎ ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ রাতগুলো মিনাতে অতিবাহিত করা সুন্নত।

১০. হাজরে আসওয়াদে চুমু: তাওয়াফের প্রত্যেক চক্করে হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া। চুমু দেওয়া সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত উঁচিয়ে ইশারা করে হাতে চুমু দেওয়া সুন্নত।

হজ একটি দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত। এর প্রতিটি পদক্ষেপে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ করলে হজের আধ্যাত্মিকতা বৃদ্ধি পায়। যদিও সুন্নত ছুটে গেলে হজ বাতিল হয় না, তবে জেনে-বুঝে সুন্নত ত্যাগ করা মাকরুহ এবং সওয়াব কমানোর কারণ হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত