ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে ‘হজ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজের এই দীর্ঘ সফরটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি ও বিধানের সমষ্টি। হজের প্রতিটি ধাপ এবং কাজকে ইসলামি শরিয়ত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে— ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নত।
হজের পূর্ণতা ও কবুলিয়তের জন্য এই বিধানগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। কারণ, কোনো একটি ‘ফরজ’ বাদ পড়লে হজ বাতিল হয়ে যায়। ‘ওয়াজিব’ বাদ পড়লে কাফফারা বা দণ্ড দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। সুন্নত বাদ পড়লে হজের আধ্যাত্মিকতায় কমতি আসে।
হজের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত কাজগুলোর বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো—
হজের প্রধান প্রধান কাজগুলোর মধ্যে এই তিনটি কাজ ফরজ। এর যেকোনো একটি বাদ পড়লে হজ আদায় হবে না—
পবিত্র হজ পালনের ক্ষেত্রে ফরজ পালনের পাশাপাশি ওয়াজিবগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিচে হজের প্রধান ছয়টি ওয়াজিব বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
পবিত্র হজ পালনের ক্ষেত্রে ফরজ এবং ওয়াজিব পালনের পাশাপাশি সুন্নতগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সুন্নতের অনুসরণ হজের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং ইবাদতকে পূর্ণতা দান করে। নিচে হজের প্রধান ১০টি সুন্নত বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. তাওয়াফে কুদুম করা: মক্কার বাইরে থেকে আগত ইফরাদ ও কিরান হজ পালনকারীদের জন্য মক্কায় পৌঁছে সর্বপ্রথম যে তাওয়াফ করতে হয়, তাকে তাওয়াফে কুদুম বলে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
২. তাওয়াফে রমল করা: হজের তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের জন্য বীরদর্পে বা সৈনিকের মতো কাঁধ হেলিয়ে দ্রুত পদক্ষেপে চলা সুন্নত। একে ইসলামি পরিভাষায় ‘রমল’ বলা হয়।
৩. নির্ধারিত খুতবা শোনা: হজের সময় তিনটি স্থানে খুতবা বা ভাষণ প্রদান করা সুন্নত।
৭ জিলহজ হারাম শরিফে।
৯ জিলহজ আরাফার মসজিদে নামিরাতে।
১১ জিলহজ মিনাতে।
৪. মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রাত যাপন: ৮ জিলহজ মক্কা থেকে মিনায় গিয়ে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং ওই রাতে সেখানে অবস্থান করা সুন্নত।
৫. আরাফাতের দিকে রওনা হওয়া: ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হওয়া।
৬. আরাফায় অবস্থানের পূর্বে গোসল: ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের উদ্দেশ্যে দুপুরের আগে (জোহরের পূর্বে) গোসল করা সুন্নত।
৭. সূর্যাস্তের পর আরাফা ত্যাগ: ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে তারপর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হওয়া।
৮. মুজদালিফার দিকে যাত্রা: আরাফা থেকে ফেরার পথে মুজদালিফার দিকে অগ্রসর হওয়া এবং সেখানে রাত যাপন করা।
৯. মিনাতে রাত যাপন: হজের কোরবানির দিনগুলোতে অর্থাৎ ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ রাতগুলো মিনাতে অতিবাহিত করা সুন্নত।
১০. হাজরে আসওয়াদে চুমু: তাওয়াফের প্রত্যেক চক্করে হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া। চুমু দেওয়া সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত উঁচিয়ে ইশারা করে হাতে চুমু দেওয়া সুন্নত।
হজ একটি দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত। এর প্রতিটি পদক্ষেপে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ করলে হজের আধ্যাত্মিকতা বৃদ্ধি পায়। যদিও সুন্নত ছুটে গেলে হজ বাতিল হয় না, তবে জেনে-বুঝে সুন্নত ত্যাগ করা মাকরুহ এবং সওয়াব কমানোর কারণ হতে পারে।

নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পাঠ করার পর দরুদ শরিফ পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আবার কোনো কোনো ফকিহের মতে তা ওয়াজিব। আমল ও ফজিলতের দিক থেকে নামাজের মধ্যে দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম ও সর্বজনবিদিত। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নামাজে পাঠ করার জন্য বিশেষভাবে এই...
৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো পবিত্রতা। ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানলে আমাদের নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হবে না। গোসলের সময় যদি এই তিনটি কাজের কোনো একটি বাদ পড়ে, তবে গোসল শুদ্ধ হবে না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যাবেন: এক. ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়াসহকারে কুলি করা।
১৪ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৮ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআনুল কারিম হলো মানবজাতির জন্য পরম হেদায়েত, আত্মিক আরোগ্য ও সুরক্ষার এক অবিনশ্বর ভান্ডার। আর এই মহাগ্রন্থের ১১৪টি সুরার হাজারো আয়াতের মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত, ফজিলতপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ আয়াত হলো ‘আয়াতুল কুরসি’।
২ দিন আগে