মানুষের জীবনের অবিরাম দৌড়ঝাঁপ, শ্রম আর সাধনার অন্তরালে লুকিয়ে আছে একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা—একটুখানি শান্তি ও প্রশান্তি। কেউ মনে করে, বিপুল অর্থ-সম্পদের মাঝেই সুখ নিহিত, কেউ আবার ক্ষমতার উচ্চ আসনে শান্তি খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম; বাহ্যিক চাকচিক্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের অন্তরের অস্থিরতা কেবল বেড়েই চলেছে।
আজকের পৃথিবীতে চারপাশের কোলাহল থেমে গেলেও মানুষের মনের ভেতরের ঝড় থামছে না। চোখে ঘুম নেই, বুকে অজানা চাপা কষ্ট আর অদৃশ্য এক শূন্যতা মানুষকে কুরে কুরে খাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে এই মানসিক অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কেবল দু-একজন মানুষের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি মহামারিতে রূপ নিয়েছে।
প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর আধুনিকতার চমক সত্ত্বেও মানুষের হৃদয় থেকে প্রশান্তি বিদায় নিচ্ছে। পরিবারে অশান্তি, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও তরুণসমাজের হতাশা আজ এক চরম বাস্তবতা।
প্রশান্তি বা ‘সাকিনাহ’ আমাদের নাগালের বাইরের কোনো বিষয় নয়। আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে অন্ধকারে ছেড়ে দেননি; বরং তিনি আমাদের জন্য পাঠিয়েছেন ইসলাম নামের এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়, এটি এমন এক সুশীতল ছায়া, যেখানে ক্লান্ত হৃদয় খুঁজে পায় পরম স্থিরতা।
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
‘তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তাদের ইমানের সঙ্গে আরও ইমান বৃদ্ধি পায়।’ (সুরা ফাতহ: ০৪) /
আজকের সমাজে আমরা এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। আমাদের অশান্তির পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে শান্তির একটি গ্যারান্টিযুক্ত ফর্মুলা দিয়েছেন:
‘জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ: ২৮)
জিকির মানে শুধু তাসবিহ পাঠ নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণে রাখা। এ ছাড়া অস্থিরতা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো নামাজ। যখনই রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো সংকটে পড়তেন, তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। তিনি বলতেন, ‘হে বিলাল, আজানের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।’ (সুনানে আবু দাউদ)
আধুনিক প্রজন্মের বিষণ্নতার এক বড় কারণ হলো ‘রাত জাগা’। আল্লাহ তাআলা রাতকে করেছেন বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছেন জীবিকা অর্জনের জন্য। ইসলামে এশার নামাজের পর দ্রুত ঘুমানো ও ভোরে জাগ্রত হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
একটি শান্তিময় ও কল্যাণময় জীবনের জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
শান্তিময় জীবন কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া একটি বিশেষ পুরস্কার। আমরা যদি প্রতিটি ঘরে কোরআন ও সুন্নাহর চর্চা শুরু করতে পারি, তবেই সমাজ থেকে ঘৃণা, অস্থিরতা এবং হতাশা দূর হবে। আল্লাহ আমাদের সেই প্রশান্ত আত্মার অধিকারী হওয়ার তৌফিক দান করুন, যাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন—‘হে প্রশান্ত আত্মা, তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।’
লেখক: মুফতি আহমাদুল্লাহ মাসউদ
শিক্ষক, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে ‘হজ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজের এই দীর্ঘ সফরটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি ও বিধানের সমষ্টি। হজের প্রতিটি ধাপ এবং কাজকে ইসলামি শরিয়ত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
নিজের শক্তি, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক দাপটের কারণে কোনো মানুষ হিদায়েত লাভ করতে পারে না। হিদায়েত সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার হাতে। তিনি নিজ অনুগ্রহে যাকে ইচ্ছা হিদায়েত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা স্বীয় ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পথভ্রষ্ট করেন।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের প্রথাটি ইসলাম-পূর্ব যুগেও বিশ্বের প্রায় সকল ধর্ম ও সমাজে প্রচলিত ছিল। আরব, ভারতীয় উপমহাদেশ, ইউরোপসহ বিভিন্ন সভ্যতায় এটি প্রচলিত ছিল কোনো প্রকার সংখ্যা নির্ধারণ বা বাধা-নিষেধ ছাড়াই। কিন্তু ইসলাম এই সীমাহীন প্রথায় নিয়ন্ত্রণ এনে নারী জাতির মর্যাদা রক্ষা এবং সমাজে...
১ দিন আগে