মদিনার রাত তখন শান্ত, নিস্তব্ধ। কিন্তু আবু হুরায়রা (রা.)-এর চোখে ঘুম নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জাকাত-ফিতরার কিছু জিনিস দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন। এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সারা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। হঠাৎ তিনি দেখতে পান, এক রহস্যময় ছায়ামূর্তি গুদামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একটু পর সেই ছায়ামূর্তিটি গুদাম থেকে খাদ্যদ্রব্য চুরি করতে শুরু করেছে।
আবু হুরায়রা (রা.) তৎক্ষণাৎ তাকে পাকড়াও করেন। ‘তোমাকে অবশ্যই আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে নিয়ে যাব!’ ছায়ামূর্তিটিকে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন তিনি।
লোকটি তখন কেঁদে বলল, ‘আমি একজন অভাবী মানুষ। আমার পরিবার আছে, সন্তান আছে। আমার দারুণ অভাব, তাঁদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তারা না খেয়ে আছে। আমি এই খাবার নিয়ে গেলে তাদের পেটে আহার জুটবে। দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন।’
আবু হুরায়রার (রা.) নরম দিলের মানুষ। তাঁর মন নরম হয়ে গেল। তিনি তাঁর প্রতি দয়া করে ছেড়ে দিলেন।
পরদিন সকালে তিনি যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলেন, নবীজি (সা.) মুচকি হেসে বললেন, ‘আবু হুরায়রা, গত রাতে তোমার বন্দী কেমন আচরণ করেছে?’
আবু হুরায়রা (রা.) অবাক হয়ে গেলেন। নবীজি (সা.) কীভাবে জানলেন? তিনি সব খুলে বললেন। নবীজি (সা.) বললেন, ‘সতর্ক থেকো। সে আবার আসবে।’
নবীজির কথা শুনে আবু হুরায়রা (রা.) নিশ্চিত হলেন যে সে আবার আসবে। তিনি দ্বিতীয় রাতেও সতর্ক প্রহরায় রইলেন। সত্যিই, সেই ব্যক্তি আবার এল। আবু হুরায়রা (রা.) তাকে আবারও ধরলেন। এবার তিনি আরও দৃঢ়, ‘এবার তোমাকে নবীজি (সা.)-এর কাছে হাজির করবই!’
লোকটি এবারও কান্নার স্বরে বলল, ‘আমি অভাবী, আমার পরিবারের দায়িত্ব আমার ওপর। আমাকে আটকে রাখে আমার স্ত্রী-সন্তান না খেয়ে মরবে। আমাকে ছেড়ে দিন, আমি আর আসব না।’
আবু হুরায়রা (রা.)-এর মন আবারও নরম হলো। তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন।
তৃতীয় রাতে আবু হুরায়রা (রা.) এবার আরও সতর্ক। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন, এবার তাকে কোনোমতেই যেতে দেবেন না। তৃতীয়বার সেই ব্যক্তি আবার এল। আবু হুরায়রা (রা.) তাকে পাকড়াও করে বললেন, ‘এবার তোমাকে নবীজির কাছে হাজির করবই। তুমি এর আগে দুইবারই মিথ্যা বলেছ।’
লোকটি এবার ভিন্ন কৌশল নিল। সে বলল, ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কিছু শব্দ শিখিয়ে দেব, যার কারণে আল্লাহ তোমার কল্যাণ করবেন।’
আবু হুরায়রা (রা.) কিছুটা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সেগুলো কী?’
লোকটি বলল, ‘যখন তুমি ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’
চমৎকার এই আমল শেখানোর বিনিময়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন।
পরদিন সকালে তিনি যখন নবীজির কাছে গেলেন, নবীজি (সা.) আবারও সেই একই প্রশ্ন করলেন। আবু হুরায়রা (রা.) সব খুলে বললেন। নবীজি (সা.) মৃদু হেসে বললেন, ‘শোনো, সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী, তবে তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবু হুরায়রা, তুমি কি জানো, তিন রাত ধরে তুমি কার সঙ্গে কথা বলছিলে?’
আবু হুরায়রা (রা.) হতবাক হয়ে গেলেন। ‘না, ইয়া রাসুলাল্লাহ!’
নবীজি (সা.) বললেন, ‘সে ছিল ইবলিস শয়তান।’
তথ্যসূত্র: সহিহ্ বুখারি: ২৩১১

নফল ইবাদত বান্দার আমলনামার সৌন্দর্য। নফল ইবাদতের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে আল্লাহ তাআলার অনেক কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়া যায় অনেক সহজে। মুমিন যখন ফরজ ও সুন্নতে মুআক্কাদা পালন শেষে নফল ইবাদতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে—প্রতিটি রুকু-সেজদা এবং তাসবিহের বিনিময়ে তার মর্যাদা বাড়তে থাকে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইবাদত ও আমলকে গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রধান ও বহুল চর্চিত পরিভাষা হলো ‘ফরজ’ ও ‘নফল’। ফরজ, ওয়াজিব কিংবা সুন্নতের মতো পরিভাষাগুলো সরাসরি আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসুল (সা.) নির্ধারণ করে দিয়ে যাননি।
১৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পাঠ করার পর দরুদ শরিফ পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আবার কোনো কোনো ফকিহের মতে তা ওয়াজিব। আমল ও ফজিলতের দিক থেকে নামাজের মধ্যে দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম ও সর্বজনবিদিত। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নামাজে পাঠ করার জন্য বিশেষভাবে এই...
১ দিন আগে