রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন। এই সংযম ইসলামের অন্যতম মূল স্তম্ভ। কিন্তু রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য কি কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকা? না, রোজার আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে অন্তরের পরিশুদ্ধিতে। দেহের রোজার মূল ভিত্তি অন্তরের রোজায়। যে কোনো ইবাদতেই অন্তরের স্থান সবার আগে।
অন্তর এমন এক বস্তু, যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে মানবজীবনের সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘জেনে রেখো, দেহের মধ্যে এমন একটি গোশতের টুকরা রয়েছে, তা যখন সংশোধিত ও ঠিক হয়ে যায়, তখন গোটা দেহই ঠিক হয়ে যায়। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায়, তখন পুরো দেহই নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রাখো, সেটি হলো হৃদয়।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১৫৯৯)
হৃদয়ের পরিশুদ্ধি অর্জিত না হলে বাহ্যিক রোজা মূল্যহীন হয়ে যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ পরিত্যাগ করল না, তার শুধু পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ্ বুখারি: ১৯০৩)। এই হাদিস থেকেই বোঝা যায় যে, বাহ্যিক সংযমের পাশাপাশি আত্মিক সংযমও অপরিহার্য।
অন্তরের রোজা মানে হলো হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, লোভ ও কুধারণা থেকে মনকে মুক্ত রাখা। চোখের রোজা হলো হারাম দৃষ্টি থেকে বিরত থাকা। কানের রোজা হলো গিবত, অশ্লীলতা ও মিথ্যা না শোনা। জিভের রোজা হলো মুখে মিথ্যা, গালি ও পরনিন্দা না আনা। হাতের রোজা হলো অন্যায় কাজের প্রতি হাত না বাড়ানো।
অনেকেই রমজান মাসে সারাদিন না খেয়ে থাকেন, অথচ সন্ধ্যায় ইফতারের আসরে বসেই পরের দোষ চর্চায় মেতে ওঠেন। দিনের বেলা ব্যবসায় ঠকানো বা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকেন না। এ ধরনের রোজা বাহ্যিকভাবে পালিত হলেও আত্মিকভাবে অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২ ঘণ্টা আগে
ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন হলো মহররমের ১০ তারিখ। যাকে ‘আশুরা’ বলা হয়। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস ও ঐতিহ্যে এ দিন বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে এ দিনের বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্যের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তাফসির, ইতিহাস ও ফাজায়েলবিষয়ক গ্রন্থে আশুরার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনাও
১১ ঘণ্টা আগে
মহররম ও আশুরা উপলক্ষে আমাদের সমাজে বেশ কিছু কাজ প্রচলিত আছে। বিভিন্ন আলেমের কাছ থেকে শুনেছি—এসব কাজের মধ্যে অনেকগুলোই ইসলাম সমর্থন করে না। মহররম ও আশুরায় কী কী বিষয় থেকে বিরত থাকা উচিত? বিস্তারিত জানতে চাই।
১ দিন আগে
মহররম মাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় দিন আশুরা। ইসলামে এ দিনের ইবাদতের তাৎপর্য অনেক। বছরের বরকতময় এই দিন কোরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার, জিকির-আসকার, নফল নামাজ, তসবিহ-তাহলিল, দরুদ পাঠ ও দান-সদকার মাধ্যমে অতিবাহিত করা উত্তম।
১ দিন আগে