
রমজান মাসে মুসলমানরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন। এই সংযম ইসলামের অন্যতম মূল স্তম্ভ। কিন্তু রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য কি কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকা? না, রোজার আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে অন্তরের পরিশুদ্ধিতে। দেহের রোজার মূল ভিত্তি অন্তরের রোজায়। যে কোনো ইবাদতেই অন্তরের স্থান সবার আগে।

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সময়। এই ইবাদতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেহরি ও ইফতার—দিনের শুরু ও সমাপ্তির দুই বরকতময় মুহূর্ত। সেহরি কেবল খাবারের নাম নয়, বরং এটি সুন্নাহর অনুসরণ; আর ইফতার হলো আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের বিশেষ সময়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)। মুত্তাকি হওয়ার এই মহৎ যাত্রায় সিয়াম ও কিয়ামের পাশাপাশি মানবসেবা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আগমন করে। এই বরকতময় মাসের শেষ দশকে এমন একটি রাত রয়েছে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য অসীম কল্যাণ ও রহমত লাভের উৎস। সেই মহিমান্বিত রাতের নাম লাইলাতুল কদর। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি করা হাজার মাস ইবাদত করার চেয়েও অধিক সওয়াবের।