Ajker Patrika

ঘুমের আগে ৪ ‘কুল’ পাঠ করলে যে ফজিলত

ইসলাম ডেস্ক 
ঘুমের আগে ৪ ‘কুল’ পাঠ করলে যে ফজিলত
সুরা কাফিরুন, সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস। ছবি: সংগৃহীত

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি কাজই ছিল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রাতের ইবাদত ও শোওয়ার আগের বিশেষ আমলসমূহ। নবীজি (সা.) কীভাবে রাত কাটাতেন এবং ঘুমের আগে কোন সুরাগুলো পড়তেন, তা প্রতিটি মুমিনের জন্য অনুসরণীয়।

ঘুমের আগের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আমল

নবীজি (সা.) ঘুমানোর আগে বেশ কিছু আমল করতেন, যা আমাদের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকর:

  • অজু করা: নবীজি (সা.) ঘুমের আগে অজু করে নিতেন।
  • ডান কাতে শোওয়া: ডান কাতে শোওয়া ও হাতের তালু গালের নিচে রাখা সুন্নত।
  • আয়াতুল কুরসি ও সুরা বাকারা: আয়াতুল কুরসি ও সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা।
  • সুরা মুলক: এই সুরা কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা দেয়।
  • তিন তাসবিহ: ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করা।
  • তওবা ও ইস্তিগফার: দিনের সব গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে ঘুমানো।
  • শোওয়ার দোয়া: ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া’ পড়ে ঘুমানো।

ঘুমের আগে চার কুলের আমল ও এর ফজিলত

হাদিস শরিফে ঘুমানোর আগে চার কুল (সুরা কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক ও নাস) পড়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

  • সুরা কাফিরুন: রাসুল (সা.) বলেছেন, ঘুমানোর আগে সুরা কাফিরুন পাঠ করলে তা ব্যক্তিকে শিরক থেকে মুক্ত রাখে। (সুনানে নাসায়ি)
  • সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস: আম্মাজান আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) প্রতি রাতে শোওয়ার আগে দুই হাতের তালু একত্র করে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিতেন এবং সারা শরীরে হাত বোলাতেন। এভাবে তিনি তিনবার করতেন। (সহিহ্ বুখারি)

চার কুলের উচ্চারণ ও অর্থ (একনজরে)

সুরা কাফিরুন

আরবি: قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ

উচ্চারণ: কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন

অর্থ: বলুন, হে কাফিরগণ,

২.

আরবি: لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ

উচ্চারণ: লা আবুদু মা তাবুদুন

অর্থ: তোমরা যার উপাসনা করো, আমি তাঁর উপাসনা করি না।

৩.

আরবি: وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ

উচ্চারণ: ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ

অর্থ: আর আমি যাঁর ইবাদত করি, তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও।

৪.

আরবি: وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ

উচ্চারণ: ওয়ালা আনা আবিদুম মা আবাদতুম

অর্থ: আর তোমরা যাঁর উপাসনা করে আসছ, আমি তাঁর উপাসনাকারী নই।

৫.

আরবি: وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ

উচ্চারণ: ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ

অর্থ: আর আমি যাঁর ইবাদত করি, তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও।

৬.

আরবি: لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ

উচ্চারণ: লাকুম দিনুকুম ওয়া লিয়া দিন

অর্থ: তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম আর আমার জন্য আমার ধর্ম।

শিক্ষা: এই সুরা কাফিরদের সঙ্গে আদর্শিক আপস না করার শিক্ষা দেয়।

সুরা ইখলাস

১.

আরবি: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ

অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ—এক ও অদ্বিতীয়।

২.

আরবি: اللَّهُ الصَّمَدُ

উচ্চারণ: আল্লাহুস সামাদ

অর্থ: আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন, বরং সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী।

৩.

আরবি: لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ

উচ্চারণ: লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ

অর্থ: তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।

৪.

আরবি: وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ: ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ

অর্থ: এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।

ফজিলত: এই সুরা একবার পাঠ করলে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠের সওয়াব পাওয়া যায়।

সুরা ফালাক

১.

আরবি: قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ

উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক

অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই ভোরের রবের কাছে।

২.

আরবি: مِن شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: মিন শাররি মা খালাক

অর্থ: তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে।

৩.

আরবি: وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ

উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররি গাসিকিন ইজা ওয়াকাব

অর্থ: এবং অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়।

৪.

আরবি: وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ

উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফাসাতি ফিল উকাদ

অর্থ: এবং গিঁটে ফুঁ দেয়—এমন জাদুকরদের অনিষ্ট থেকে।

৫.

আরবি: وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

উচ্চারণ: ওয়া মিন শারবি হাসিদিন ইজা হাসাদ

অর্থ: এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।

উপকারিতা: এটি জাদু-টোনা ও হিংসুকদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।

সুরা নাস

১. আরবি: قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ

উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিন নাস

অর্থ: বলুন, আমি মানুষের রবের কাছে আশ্রয় চাই।

২.

আরবি: مَلِكِ النَّاسِ

উচ্চারণ: মালিকিন নাস

অর্থ: মানুষের অধিপতির কাছে।

৩.

আরবি: إِلَٰهِ النَّاسِ

উচ্চারণ: ইলাহিন নাস

অর্থ: মানুষের উপাস্যের কাছে।

৪.

আরবি: مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ

উচ্চারণ: মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস

অর্থ: সেই কুমন্ত্রণা দানকারীর অনিষ্ট থেকে, যে গোপনে কুমন্ত্রণা দেয়।

৫.

আরবি: الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ

উচ্চারণ: আল্লাজি ইউওয়াসউইসু ফি সুদুরিন নাস

অর্থ: যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।

৬.

আরবি: مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ

উচ্চারণ: মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস

অর্থ: সে জিনদের মধ্য থেকে হোক বা মানুষের মধ্য থেকে।

উপকারিতা: শয়তান ও মানুষের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে এই সুরা অত্যন্ত কার্যকর।

নবীজির সুন্নতি পদ্ধতিতে রাত কাটানো কেবল সওয়াবের কাজই নয়, এটি দুশ্চিন্তামুক্ত ও গভীর ঘুমের জন্য এক মহৌষধ। রাতে ঘুমানোর আগে কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে আমল করলে পুরো রাত রহমতের নিচে থাকা যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত