
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্থবির বিনিয়োগ পরিস্থিতি কাটাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের হয়রানি বন্ধ, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং ব্যাংক ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাজেট, উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, ব্যাংক খাত ও দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)।
আজকের পত্রিকা: সরকার বাজেটের আগে পাঁচ বছর মেয়াদি যে কৌশলপত্র তৈরি করছে, সেটির মূল বৈশিষ্ট্য কী?
জোনায়েদ সাকি: এটি শুধু প্রচলিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নয়, বরং বাস্তবায়নকেন্দ্রিক একটি কৌশলপত্র। জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের (এনইসি) সভায় এর প্রাথমিক অনুমোদন হয়েছে। আশা করছি, নতুন অর্থবছরের শুরুতে এটি প্রকাশ করা যাবে। এটি কোনো স্থির দলিল নয়; সময় ও বাস্তবতার আলোকে নিয়মিত পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের সুযোগ থাকবে।
আজকের পত্রিকা: নতুন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল দর্শন কী?
জোনায়েদ সাকি: আমরা ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, উন্নয়ন পরিকল্পনা সেই ভিত্তিতেই সাজানো হচ্ছে। অতীতে একই ধরনের প্রকল্প বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নের কারণে ওভারল্যাপিং, অপচয় ও অতিব্যয় হয়েছে। আমরা প্রকল্পভিত্তিক নয়, প্রোগ্রামভিত্তিক পরিকল্পনায় যেতে চাই; যাতে সমন্বিতভাবে একই লক্ষ্য অর্জন করা যায়। এতে ব্যয়, সময় ও দুর্নীতির সুযোগ কমবে।
আজকের পত্রিকা: উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোন শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে?
জোনায়েদ সাকি: আমাদের মূল নীতি হচ্ছে—সবার জন্য উন্নয়ন। তবে উন্নয়নের শুরুটা হবে প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে। সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষকে বাদ রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আজকের পত্রিকা: মানুষ দ্রুত পরিবর্তন দেখতে চায়। সরকার কীভাবে এই প্রত্যাশা মোকাবিলা করবে?
জোনায়েদ সাকি: বাস্তবতা হলো, কোনো জাদুর কাঠি নেই যে রাতারাতি অর্থনীতি বা মানুষের জীবনমান বদলে যাবে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান সময়সাপেক্ষ। উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাতে সময় লাগে। তাই সেই সময়টাতে সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা মানুষের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চাই, অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না।
আজকের পত্রিকা: বাজেটে জ্বালানি খাত কী ধরনের অগ্রাধিকার পাবে?
জোনায়েদ সাকি: বৈশ্বিক অস্থিরতার বাস্তবতায় জ্বালানি নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে জ্বালানি নিরাপত্তার বিকল্প নেই। সরকার আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি গ্রহণের কাজ করছে। একই সঙ্গে অতীতে এ খাতে যেসব অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে, সেগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আজকের পত্রিকা: বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে?
জোনায়েদ সাকি: আমরা বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চাই। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা হবে। উদ্যোক্তাদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমানো, জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য হ্রাস এবং সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে জবাবদিহি বাড়িয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে। বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী হবে।
আজকের পত্রিকা: ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা কী?
জোনায়েদ সাকি: ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। মানুষের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরে আসুক। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার, তদারকি ও জবাবদিহি জোরদার করা হচ্ছে।
আজকের পত্রিকা: দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের অবস্থান কী?
জোনায়েদ সাকি: দুর্নীতি ও লুটপাটের সংস্কৃতি অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়। আমরা এমন নীতি ও ব্যবস্থা তৈরি করছি, যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বন্ধ হয় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়। উন্নয়ন ব্যয়ের প্রতিটি টাকার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
আজকের পত্রিকা: সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী?
জোনায়েদ সাকি: অতীতে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত অবস্থা না জেনে কার্যকর পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। তাই তথ্যের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের তথ্য বিকৃতি বরদাশত করা হবে না। জনগণের সামনে দেশের প্রকৃত অবস্থাই তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহের সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।
আজকের পত্রিকা: প্রযুক্তি খাত নিয়ে সরকারের ভাবনা কী?
জোনায়েদ সাকি: প্রযুক্তিকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা, বৈশ্বিক প্রযুক্তিবাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং প্রযুক্তি খাতকে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আজকের পত্রিকা: প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরকার কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নিচ্ছে?
জোনায়েদ সাকি: চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য। সরকারি, বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে।

বিশ্বজুড়ে আবারও লাতিন আমেরিকার সাহিত্য নিয়ে আগ্রহের নতুন ঢেউ দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে কলম্বিয়ার ম্যাজিক রিয়ালিজম ধারার কিংবদন্তি লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের। কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই ‘আগস্টে দেখা হবে’ (ইংরেজিতে আনটিল আগস্ট, রুশ ভাষায় ‘আগস্টে দেখা হবে’
১০ দিন আগে
সেবা প্রকাশনী নামটা এককথায় শৈশবের স্মৃতি। কারণ, একসময় যখন সেবার বই মানুষ পড়তেন, তখন তাঁদের কাছে অন্য কোনো বিনোদনের মাধ্যম ছিল না। এটাই ছিল তাঁদের অবসর কাটানোর সবকিছু। তখন তরুণদের বিনোদন ছিল সেবার বইনির্ভর। আর নস্টালজিয়া তো অবশ্যই। শুধু তা-ই নয়, অনেকে আছেন কেবল পড়ার জন্য নয়, বই কেনেন স্মৃতি সংরক্ষণ
১৫ দিন আগে
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বাড়ছে। ইতিমধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৪১ হাজারের বেশি শিশু সন্দেহজনকভাবে আক্রান্ত হয়েছে এবং সাড়ে পাঁচ হাজার শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে গত দেড় বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে সংকট, সেক্টর কর্মসূচি থেকে
০৪ মে ২০২৬
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই দায়িত্ব পালন করছেন। শিশু উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও নীতি প্রণয়নে তাঁর ৩৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে তিনি ভিয়েতনাম, চীন, কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া ও বেলিজে ইউনিসেফের প্রতিনিধি ছিলেন।
২৮ মার্চ ২০২৬