
সেবা প্রকাশনী। কাজী আনোয়ার হোসেনের হাত ধরে যেখান থেকে তৈরি হয়েছিল তুমুল জনপ্রিয় গুপ্তচর চরিত্র মাসুদ রানা। ষাটের দশক থেকে আজ পর্যন্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রে সেবার বই। শুধু পাঠক নয়, লেখক তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটির অবদান কালের খেয়ার মতো। হুট করেই কর্মচারীদের দুর্নীতির অভিযোগে প্রকাশনীটির কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তাতে অনেক পাঠকই চমকে গেছেন। প্রশ্ন উঠেছে—আবার কি ফিরবে সেবা, না একেবারেই বন্ধ হয়েছে? সেসব বিষয়, প্রতিষ্ঠানটির পথচলা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ সেবা প্রকাশনীর উপদেষ্টা মাসুমা মায়মুর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শরীফ নাসরুল্লাহ।
প্রশ্ন: সেবা প্রকাশনী নামটা আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে কী অর্থ বহন করে বলে আপনি মনে করেন?
মাসুমা মায়মুর: সেবা প্রকাশনী নামটা এককথায় শৈশবের স্মৃতি। কারণ, একসময় যখন সেবার বই মানুষ পড়তেন, তখন তাঁদের কাছে অন্য কোনো বিনোদনের মাধ্যম ছিল না। এটাই ছিল তাঁদের অবসর কাটানোর সবকিছু। তখন তরুণদের বিনোদন ছিল সেবার বইনির্ভর। আর নস্টালজিয়া তো অবশ্যই। শুধু তা-ই নয়, অনেকে আছেন কেবল পড়ার জন্য নয়, বই কেনেন স্মৃতি সংরক্ষণ করতে। আপনাকে আমি উদাহরণ দিই, যেমন আপনি দেখবেন, অনেকে কসকো সাবান কিনে রাখেন। তিনি হয়তো এটি ব্যবহার করবেন না। কিন্তু তিনি ছোটবেলায় দেখেছেন যে, সাবানটা তাঁর মা ব্যবহার করতেন। তিনি সেই স্মৃতি ধরে রাখতে কিনে রেখেছেন। সেবা প্রকাশনী অনেকের কাছে ওই রকম অনেকটা। বই কেনার মধ্য দিয়ে মানুষ মেমোরি কেনেন। তাঁদের কাছে এটা মেমোরি। পড়ার জন্য তো কেনেনই, কিন্তু স্মৃতিটাই যেন বেশি।
প্রশ্ন: ষাটের দশকে যখন সেবার যাত্রা শুরু হয়, তখন বাংলাদেশে পাঠক সংস্কৃতি কেমন ছিল?
মাসুমা মায়মুর: এটা তো ওভাবে বলতে পারব না। মানে ওই সময় আমার মায়েরও বিয়ে হয়নি। তবে আব্বার (কাজী আনোয়ার হোসেন) কাছে শুনেছি, যখন তিনি শুরু করলেন, তখন মুসলিমরা ভালো লিখতে পারেন—এই ধারণাটা মানুষের ছিল না। এ কারণে তিনি বিদ্যুৎ মিত্র নামে লিখতেন। বিদ্যুৎ মিত্র ছদ্মনামে লিখে যখন দেখলেন তাঁর লেখা চলল, তখন তিনি সামনে এসে বললেন যে—আমি কাজী আনোয়ার হোসেন, আমি মুসলমান এবং লিখছি। বোঝা যাচ্ছে যে, ওই সময় পাঠক সংস্কৃতিটা ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক।
প্রশ্ন: সেবার প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেন কী স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন?
মাসুমা মায়মুর: সেবার প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেনের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রথমত তাঁর ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। তবে ক্যারিয়ারের চেয়ে তাঁর ফোকাস ছিল যে—‘আমি বাংলাদেশের মানুষকে বই পড়াব’। বই পড়ার অভ্যাস করানো ছিল তাঁর স্বপ্ন।
প্রশ্ন: আপনারা কি কখনো ভেবেছিলেন, একটা প্রকাশনী কয়েক প্রজন্মের অভ্যাস বদলে দেবে?
মাসুমা মায়মুর: শুরুর সময় তো আমি ছিলাম না। কিন্তু আব্বার কাছে যেটা শুনেছি যে—তিনি ভেবেছিলেন, এর মাধ্যমে পাঠকের অভ্যাস বদলাতে পারে। তিনি বেশ বড় একটা ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কারণ, বিদেশি সাহিত্য বাংলাদেশের মানুষ কতটুকু পড়বে না পড়বে, সেটা তো একটা ঝুঁকির বিষয়। তারপরেও অনেক সময় আবার খোলামেলা সাহিত্য ছিল। এটা কতটুকু গ্রহণ করবে, সেটা চিন্তার ছিল। এ জন্য তিনি মামলাও খেয়েছেন।
প্রশ্ন: একজন কিশোরের হাতে প্রথম বই তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সেবার ভূমিকা আপনি কীভাবে দেখেন?
মাসুমা মায়মুর: সেবার ভূমিকা অবশ্যই দারুণ। বিশেষ করে, কিশোর ক্ল্যাসিক ‘তিন গোয়েন্দা’ কিশোর বয়সের চিন্তা-চেতনা বদলে দেয়। কিশোরদের অনুপ্রেরণা জোগানোর কাজে কিশোর ক্ল্যাসিক ‘তিন গোয়েন্দা’ অনবদ্য ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন: মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা, কুয়াশা চরিত্র কীভাবে এত গভীরভাবে মানুষের জীবনে ঢুকে গেল?
মাসুমা মায়মুর: এটা নিয়ে একটা মজার কথা বলি? আমি একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—‘আচ্ছা, মাসুদ রানা বলতে বাস্তবে কোনো চরিত্র নেই, এই কথা কেউ আপনার কাছে জানতে চাইলে কী জবাব দেবেন?’ তিনি আবার মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্টধারী। ছয় ফুট লম্বা, বেশ স্বাস্থ্য, মাসুদ রানার ডাইহার্ট ফ্যান। তিনি দুটি পকেটে হাত ঢুকিয়ে বুকটা বেশ ফুলিয়ে মানে বীরোচিত কণ্ঠে বললেন যে—‘আমি তো কোনো জবাব দেব না’। বললাম, ‘কেন?’ তিনি বললেন, ‘যে আমাকে এ কথা বলবে, আমি ওকে আগে মারব।’ মানে চরিত্রটা উনার মাঝে-ভেতরে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, চরিত্রটা যে বাস্তবে নেই, তা তিনি ভাবতেই পারছেন না। এটা হলো, মানুষের কিছু কল্পনার জগৎ থাকে। সেখানে সে পছন্দের চরিত্রগুলোকে সাজিয়ে রাখে। মনে করেন, আমাদের বাসায় অনেক সময় ক্লজেট থাকে। সেখানে আমরা কিছু মেমোরেবল জিনিস রেখে দিই, শখের জিনিস রেখে দিই, শোপিস রেখে দিই। মানুষের চিন্তার মাঝে ও রকম একটা ক্লজেট থাকে, যেখানে সে তার পছন্দের জিনিসটা সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করে।
প্রশ্ন: লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বড় অংশই ছোটবেলায় সেবা পড়েছে। এটা কি আপনারা অনুভব করেন?
মাসুমা মায়মুর: হ্যাঁ, অনুভব করি, অবশ্যই অনুভব করি। তাঁরা এসে বলেনও। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখকেরা আমাদের কাছে বলেন যে—‘আমরা মাসুদ রানা পড়েছি বা মাসুদ রানার মতো হতে চেয়েছি। মাসুদ রানাকে চিত্রায়ণ করতে চেয়েছি। মাসুদ রানাকে অনুসরণ করে বা সেবা অনুসরণ করে আমরা লেখালেখিতে এসেছি।’ এটা কিন্তু প্রচারিত যে, বাংলাদেশে প্রচুর লেখক তৈরি করেছে সেবা প্রকাশনী।
প্রশ্ন: বিদেশি গল্পকে বাংলায় এনে জনপ্রিয় করার সিদ্ধান্তটা তখন কতটা সাহসী ছিল?
মাসুমা মায়মুর: অবশ্যই অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল। একটা সংস্কৃতি চলছে, সেই সংস্কৃতির স্রোতে আরেকটা সংস্কৃতির উপাদান মিশিয়ে দেওয়াটা তো একটা সাহসী সিদ্ধান্ত। এটা স্রোত নেবে কি না, তাকে কি ফেলে দেবে? কিছু জিনিস আছে স্রোত ফেলে দেয়, আবার ঘূর্ণিপাকে টেনেও নিয়ে যায়। সেই স্রোতে টিকে থাকবে কি না, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেকটা সাহসী ছিল।
প্রশ্ন: সেবার জনপ্রিয়তা কি ধীরে ধীরে কমছে?
মাসুমা মায়মুর: এই জবাব আমি দিতে পারব না। এটা বোধ হয় পাঠক দিতে পারবেন। আমি বলব যে, সেবার জনপ্রিয়তা কমছে না, মানুষের বই পড়ার প্রবণতা কমছে। টোটাল বাজারটাই পড়ে গেছে। সেখানে সেবার জনপ্রিয়তা কমে গেছে না বেড়ে গেছে, এটাকে ইনডিভিজুয়ালি ডিটেক্ট করা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: ডিজিটাল যুগে তরুণদের মনোযোগ বদলে যাওয়াকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?
মাসুমা মায়মুর: আমি যেকোনো পরিবর্তনকে স্বাগত জানাই, যদি সেটা পজিটিভ হয়। অনেকেই বলেন যে—আহা রে, গরুর গাড়ির চল নেই এখন। আমি বলি, গরুর গাড়ি চলে যাবে ওই পরিবর্তনটা ঠিক। একটা পশুকে কষ্ট দেওয়া থেকে আমরা যদি একটা ইঞ্জিনের মাধ্যমে মালামাল বহন করতে পারি, বলব, এটা রাইট। আমি এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু যখন একটা পরিবর্তন হচ্ছে, যেমন—গ্রামে আগে নারকেল কোরানো, গরুর দুধ, গুড়, নারকেল কোরানো দিয়ে মুড়ি বা খই নাশতা হিসেবে দেওয়ার চল ছিল, ওইটা পরিবর্তন হয়ে এখন এসেছে কোমল পানীয়, পুরি বা নুডলস। আমি এই পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখি। পাঠাভ্যাসের মতো ভালো অভ্যাস বদলে যাওয়াটা অবশ্যই খারাপ। কারণ, জীবনে তিনটা জিনিস দরকার—বই, বই এবং বই। বই এমন জিনিস, এমনই বন্ধু যে, কোনো দিন আপনাকে ঠকাবে না, কোনো দিন আপনাকে দিগ্ভ্রান্ত করবে না। পাঠাভ্যাস কমে যাচ্ছে—এটা একটা আতঙ্কের বিষয়।

প্রশ্ন: বইয়ের বাজারে টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা কী ছিল?
মাসুমা মায়মুর: আমার শ্বশুর আব্বার কাছে যেটা শুনেছি—অন্যান্য প্রকাশনীর তুলনায় কম দামে বই দেওয়ার জন্য তাদের বেশ আক্রোশ ছিল। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ব্যবসাটা খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। তিনি বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হতো যে—আমি ফুটপাতে নেমে এখন গেঞ্জি বেচব? বই তো চলে না, কারণ, মানুষের মুক্তিযুদ্ধের পরে টিকে থাকাটাই অনেক কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
প্রশ্ন: সেবার কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ কী?
মাসুমা মায়মুর: কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে দুর্নীতি। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক দুর্নীতি। শুধু তা-ই নয়, শ্বশুর আব্বা মারা যাওয়ার পর থেকে উপদেষ্টা হিসেবে ও মালিকপক্ষ হিসেবে আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিতে চাই, তারা সেই সিদ্ধান্তে সবাই একজোট হয়ে বাধা দিয়ে আসছিল। আমার কাজের সমালোচনা যুক্তি দিয়ে দিলে সমস্যা ছিল না। কিন্তু সেগুলো ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণের মতো কাজ।
আমি সেবা প্রকাশনীতে একেবারে অনুপযুক্ত, শ্বশুর আব্বার কাছ থেকে জোর করে, ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করে পদ নিয়েছি—এই জাতীয় আলোচনা উঠেছে। কাজ করতে দেওয়া হতো না বললে ভুল হবে। কিন্তু সেগুলো ছিল অক্ষরে অক্ষরে নির্দেশনা মানার মতো কাজ। কোনো সিদ্ধান্তে আমাকে রাখা হতো না। মোটামুটি সেবা প্রকাশনীতে আমি থাকি খুব একটা কেউ চাইছে না, কারণ, আমি থাকলে এভাবে অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: আপনাদের এখনকার যে পরিচালনা কাঠামো আছে, সেই জায়গায় কর্মচারীরা কীভাবে মালিকদের প্রভাবিত করল?
মাসুমা মায়মুর: যুগের সঙ্গে আপডেট না থাকাটাই বড় একটা কারণ। বাদ-বাকিটা বলতে চাই না। কিন্তু প্রভাব ছিল মারাত্মক। আমি অনেকবার বলেছি, এত অন্ধ বিশ্বাস ছিল যে, মানতে চাইত না। এবার আমি হাতে নাতে প্রমাণগুলো ধরেছি। ব্যক্তিগতভাবে স্পাইং করেছি। উপদেষ্টা হিসেবে না। আমার কাছে ‘র এভিডেন্স’ আছে—ওরা (কর্মচারীরা) কী পরিমাণে টাকা সরাচ্ছে এখান থেকে। উপদেষ্টা হিসেবে পদক্ষেপ নিয়েছি।
প্রশ্ন: অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
মাসুমা মায়মুর: কাজী আনোয়ার হোসেন সাহেব নেই, গোডাউন দেখা হচ্ছে না, আমার স্বামী অসুস্থ, আমাকে সরিয়ে দেওয়া—মানে পুরো জিনিসটাই ওরা (কর্মচারী) হাতে তুলে নিয়েছে। আমি যতগুলো পদক্ষেপ নিচ্ছি, ওরা মালিকপক্ষকে বোঝাচ্ছে যে—না এই পদক্ষেপগুলো ঠিক না। মালিকপক্ষের (কাজী আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে) উনারা খুব সরল মানুষ। তাদের (কর্মচারী) আমি বলেছি যে—টাকা একটা কার্ডে পে হবে, বিকাশে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে; কিন্তু ওরা বলছে, বিকাশের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট দরকার নাই। কেন দরকার নাই জানেন? কারণ, ওরা ওদের ব্যক্তিগত বিকাশের নম্বর ব্যবহার করে। মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে কেউ অন্য জায়গায় টাকা দেবে না। আমাদের একটা পার্সোনাল অ্যাকাউন্টও আছে, সেখান থেকে তারা ক্যাশ আউট করে টাকা নিয়ে যায়, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে এটা সম্ভব না। আমি ভেবে দেখলাম যে, যেহেতু মালিকেরা বুঝতে চাচ্ছেন না যে সেবাকে আপগ্রেড করা দরকার, কর্মচারীদের কথাই তাঁদের কাছে চূড়ান্ত। ওরা সবাই একপাশে আর এপাশে আমি একা।
তবে একসময় ভেবে দেখলাম যে, আসলে কোনো জিনিস নতুন করে গড়তে গেলে আগে তাকে ভাঙতে হয়। যদিও অনেকে বলছে যে, আমি বন্ধ করে দিয়েছি। তাদের বলতে চাই, সেবা বন্ধ হয়নি, বরং সেটাকে নতুন করে সাজাতে পুরোনোকে ভাঙছি মাত্র।
প্রশ্ন: কর্মচারীদের ব্যাপারে আপনারা কী ভাবছেন?
মাসুমা মায়মুর: আগে অডিট হবে। তারপর আইনের পথেই হাঁটব। অডিট না করলে কত টাকা সরেছে, সেটা না বুঝে কিছুই করা যাচ্ছে না। আসলে আগে সার্বিক প্রমাণ বের করতে চাই।
প্রশ্ন: সেবার মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো?
মাসুমা মায়মুর: ওই যে বললাম, যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি দেখে এ রকম হয়েছে। দুই ভাই তাদের বাবা কাজী আনোয়ার হোসেনের মতো শক্ত হাতে হ্যান্ডেল করতে পারছে না। এখন যতই আমাকে দোষ দিক যে, সেবা প্রকাশনী বন্ধের পেছনে আমি দায়ী। হ্যাঁ, সাময়িক বন্ধের পেছনে ওই দায় আমি নেব। কারণ, আমি তো চুরি ধরেছি, চুরির বিচার না করা পর্যন্ত আর নতুনভাবে ঢেলে না সাজালে আমি এই পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরতে রাজি নই। এটাকে রিফর্ম করতে হবে। সেবা আমার কাছে ব্যবসা নয়, সেবা আমার কাছে কাজী আনোয়ার হোসেনের রেখে যাওয়া স্মৃতি। সেবা আমার কাছে পাঠকদের অনুভূতি। সেবা আমার কাছে কাজী আনোয়ার হোসেনের সম্মান।
প্রশ্ন: কাজী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে আপনার কোনো সুন্দর স্মৃতি আছে?
মাসুমা মায়মুর: উনার এমন কোনো মনের কথা ছিল না যেটা উনি আমার সঙ্গে বলতেন না। উনার কাছের বন্ধু ছিলাম আমি। সবাই বলত যে—সারাক্ষণ গুটগুট করে আমরা গল্প করি। এমনকি আমি ওখানে রান্না করছি, উনি ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতেন মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মতো। সেবার ধাক্কা খাওয়ার দিনগুলোর কথা উনি বলতেন। আর শেখ আবদুল হাকিম যখন মামলাটা করলেন, উনি খুব আহত হয়েছিলেন। যখন আবার শেখ আবদুল হাকিম মারা গেলেন, উনি তখন বললেন—‘হাকিমটা চলেই গেল’। উনার কতটা ভালোবাসা ও কষ্ট ছিল যে—‘হাকিমটা চলেই গেল’ বলেছিলেন উনি।
প্রশ্ন: সেবা প্রকাশনীর পরিচালনা পদ্ধতিতে কী কী পরিবর্তন আসবে?
মাসুমা মায়মুর: আমার ইচ্ছা হচ্ছে, সেবা লিমিটেড কোম্পানি হবে। তারপর ভবিষ্যতে বইমেলায় সেবা প্রকাশনীর প্যাভিলিয়ন আসবে, সেবাতে কল সেন্টার থাকবে, সেবার লেখক-পাঠকদের সঙ্গে গেট টুগেদার হবে ইত্যাদি। কাজী আনোয়ার হোসেন পদক চালু হবে। আমার এ রকম অনেক পরিকল্পনা আছে। মালিকপক্ষ আমাকে সহযোগিতা করবে কি না, এই দ্বিধা ছাড়া আমার সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। এই চ্যালেঞ্জ ছাড়া আমি যেকোনো চ্যালেঞ্জ এলে গুঁড়িয়ে দেব। সেবা পাঠকের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছাবে। তরুণ প্রজন্ম যারা এখন মোবাইলনির্ভর, তাদের আবার বইয়ের জগতে ফেরানোর পরিকল্পনা আছে। আমরা অডিও বুক, ডিজিটাল বুক ও ফিজিক্যাল বুক—সবভাবেই পাঠকদের কাছে পৌঁছে যেতে চাই।
প্রশ্ন: কত দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরু হতে পারে?
মাসুমা মায়মুর: আমার ইচ্ছা, ১৯ জুলাই আব্বার (কাজী আনোয়ার হোসেন) ৯০তম জন্মদিনে শুরু করতে চাই। তবে অনলাইন সেল ঈদের পরপরই খুলে দেব।
প্রশ্ন: পাঠকদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটা কী দিতে চান?
মাসুমা মায়মুর: আমি যদি সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ফিরে আসি, আপনাদের কাজ শুধু একটাই—বই কিনবেন। আপনারা বই না কিনলে আমার সমস্ত যুদ্ধই বিফল। কারণ, একটা প্রকাশনীর কাছে পাঠক হলেন রাজা। আমার লড়াই তো সেই রাজাদের জন্য সিংহাসন উপহার দেওয়ার। আর তো চাওয়া নেই।

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বাড়ছে। ইতিমধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৪১ হাজারের বেশি শিশু সন্দেহজনকভাবে আক্রান্ত হয়েছে এবং সাড়ে পাঁচ হাজার শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে গত দেড় বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে সংকট, সেক্টর কর্মসূচি থেকে
২০ দিন আগে
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই দায়িত্ব পালন করছেন। শিশু উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও নীতি প্রণয়নে তাঁর ৩৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে তিনি ভিয়েতনাম, চীন, কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া ও বেলিজে ইউনিসেফের প্রতিনিধি ছিলেন।
২৮ মার্চ ২০২৬
লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই আসন থেকে তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালেও এমপি হন। এবার বিএনপির সরকারে পেয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। মন্ত্রণালয় এবং নিজের কাজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ২০২১ সাল থেকে এই দায়িত্ব পালন করছেন। যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী তিনি। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার যশোর প্রতিনিধি জাহিদ হাসানের সঙ্গে।
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬