
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের ব্যাংকিং, গুণগত ঋণের প্রয়োজনীয়তা এবং সোনালী ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থান নিয়ে আজকের পত্রিকার মুখোমুখি হয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মৃত্তিকা সাহা।
আজকের পত্রিকা: দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
শওকত আলী খান: উচ্চ খেলাপি ঋণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর পেছনে ঋণগ্রহীতার সদিচ্ছার অভাব, দুর্বল ঝুঁকি মূল্যায়ন, অপর্যাপ্ত জামানত এবং ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহারের প্রবণতা কাজ করে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে ব্যাংকগুলোর সুশাসন, স্বচ্ছতা, কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন ও উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের বিকল্প নেই। আমার বিশ্বাস, গুণগত ঋণই ভবিষ্যতের ব্যাংকিংকে আরও নিরাপদ ও টেকসই করবে।
আজকের পত্রিকা: এই লক্ষ্য অর্জনের প্রধান শর্ত কী?
শওকত আলী খান: নিয়ম মেনে ঋণ বিতরণ, খেলাপি আদায়ে কঠোরতা এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জন। শুধু মুনাফা নয়, দায়িত্বশীল ব্যাংকিংই দীর্ঘ মেয়াদে একটি ব্যাংকের শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।
আজকের পত্রিকা: এই বাস্তবতায় সোনালী ব্যাংকের অবস্থান কোথায়?
শওকত আলী খান: বর্তমানে আমাদের প্রায় সব আর্থিক সূচক ইতিবাচক। গত বছর প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছি। একই সঙ্গে মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি কাটিয়ে উঠেছি। তবে মুনাফাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়; টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের পত্রিকা: এই সাফল্যের মূল ভিত্তি কী?
শওকত আলী খান: দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকের অভ্যন্তরে কঠোর সুশাসন, নিয়ম মেনে কর্মকাণ্ড পরিচালনা, খেলাপি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিবর্তে গুণগত ঋণে জোর দেওয়ার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। পাশাপাশি কৃষি ও সিএমএসএমই খাতে লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন ইতিবাচক ফল দিয়েছে।
আজকের পত্রিকা: সোনালীর খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কতটা অগ্রগতি হয়েছে?
শওকত আলী খান: খেলাপি ঋণের হার ১৮ শতাংশ থেকে প্রায় ১৫ শতাংশে নেমেছে। চলতি বছর এটি ১২ শতাংশের নিচে এবং আগামী বছর এক অঙ্কে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। গত বছর খেলাপি ঋণ থেকে ১ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা আদায় করেছি, যা আগের বছরের প্রায় দ্বিগুণ।
আজকের পত্রিকা: আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কীভাবে সফল হলেন?
শওকত আলী খান: ২০২৫ সালে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা। ২০২৪ সালে প্রায় ৫ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল। এখন তা দূর করে ৮০ কোটি টাকা মূলধন উদ্বৃত্তে এসেছি। খেলাপি নিয়ন্ত্রণ, সতর্ক ঋণ বিতরণ এবং আদায় কার্যক্রম জোরদারের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। চলতি বছর বাফার মূলধন ১২ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করছি।
আজকের পত্রিকা: আমানত ও তারল্য পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন?
শওকত আলী খান: মূল্যস্ফীতি মানুষের সঞ্চয়ে প্রভাব ফেলেছে, কিছু ব্যাংকের প্রতি আস্থার সংকটও রয়েছে। ফলে কোথাও অতিরিক্ত তারল্য, কোথাও সংকট দেখা দিয়েছে। তবে গ্রাহকের আস্থাই ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ। ২০২৪ সালে আমাদের আমানত বেড়ে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬২১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা গ্রাহকের আস্থারই প্রতিফলন।
আজকের পত্রিকা: এখন কোন খাতে ঋণ দিচ্ছেন?
শওকত আলী খান: আমরা সিএমএসএমই, রপ্তানিমুখী এসএমই, কৃষি ও মাইক্রো ক্রেডিট খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এসব খাত উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। বর্তমানে শুধু সিএমএসএমই খাতেই আমাদের ঋণ ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি।
আজকের পত্রিকা: বড় ঋণের বিষয়ে নীতি কী?
শওকত আলী খান: বড় ঋণ বন্ধ নয়। তবে অনিয়ন্ত্রিত বা অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিবর্তে নিরাপদ, উৎপাদনশীল ও গুণগত ঋণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিটি ঋণ এখন ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দেওয়া হচ্ছে।
আজকের পত্রিকা: ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে কতটা এগিয়েছেন?
শওকত আলী খান: করপোরেট আই-ব্যাংকিং, ‘সোনালী ই-সেবা’ ও ‘সোনালী ই-ওয়ালেট’-এর মাধ্যমে হিসাব খোলা, আন্তব্যাংক লেনদেন, বিল পরিশোধ, কিউআরভিত্তিক নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল করা হয়েছে। কল সেন্টারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গ্রাহকসেবাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আজকের পত্রিকা: সর্বজনীন বাংলা কিউআর কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
শওকত আলী খান: এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী উদ্যোগ। একক কিউআর ব্যবস্থা লেনদেনকে সহজ, দ্রুত ও কম খরচের করবে। তবে এর সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং গ্রাহকের সচেতনতা নিশ্চিত করতে হবে।
আজকের পত্রিকা: আগামী দিনের অগ্রাধিকার কী?
শওকত আলী খান: খেলাপি ঋণ আরও কমানো, গুণগত ঋণ বৃদ্ধি, আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণই আমাদের অগ্রাধিকার।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেন পাকিস্তানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএমটি), লাহোরের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম হাসান মুরাদ। সফরকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।
১৯ দিন আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্থবির বিনিয়োগ পরিস্থিতি কাটাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের হয়রানি বন্ধ, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং ব্যাংক ও জ্বালানি...
০৯ জুন ২০২৬
বিশ্বজুড়ে আবারও লাতিন আমেরিকার সাহিত্য নিয়ে আগ্রহের নতুন ঢেউ দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে কলম্বিয়ার ম্যাজিক রিয়ালিজম ধারার কিংবদন্তি লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের। কিছুদিন আগে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই ‘আগস্টে দেখা হবে’ (ইংরেজিতে আনটিল আগস্ট, রুশ ভাষায় ‘আগস্টে দেখা হবে’
৩০ মে ২০২৬
সেবা প্রকাশনী নামটা এককথায় শৈশবের স্মৃতি। কারণ, একসময় যখন সেবার বই মানুষ পড়তেন, তখন তাঁদের কাছে অন্য কোনো বিনোদনের মাধ্যম ছিল না। এটাই ছিল তাঁদের অবসর কাটানোর সবকিছু। তখন তরুণদের বিনোদন ছিল সেবার বইনির্ভর। আর নস্টালজিয়া তো অবশ্যই। শুধু তা-ই নয়, অনেকে আছেন কেবল পড়ার জন্য নয়, বই কেনেন স্মৃতি সংরক্ষণ
২৪ মে ২০২৬