Ajker Patrika

নিন্দার মুখে ওবামা দম্পতিকে ‘বানর’ দেখানোর ভিডিও সরিয়ে নিলেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ১৫
নিন্দার মুখে ওবামা দম্পতিকে ‘বানর’ দেখানোর ভিডিও সরিয়ে নিলেন ট্রাম্প
বারাক ওবামাকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগের ইতিহাস বেশ পুরনো। ছবি: সংগৃহীত

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রায়ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো ছবি, ভিডিও বা মিম শেয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেমনই একটি ভিডিও তিনি শেয়ার করেন, যার একটি অংশে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বানর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠতে থাকে। এ অবস্থায় ভিডিওটি ট্রুথ সোশ্যাল থেকে সরিয়ে নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য টাইমসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৬২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওর শেষ অংশে মাত্র এক সেকেন্ডের একটি ক্লিপে ওবামা দম্পতির মুখ বানরের শরীরে বসানো অবস্থায় দেখানো হয়। ওই দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে জনপ্রিয় গান ‘দ্য লায়ন স্লিপস টুনাইট’।

ভিডিওটি ছিল সেই ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপির দাবিতে বানানো। এর আগেও বহুবার এই দাবি তোলা হয়েছিল এবং মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি।’

ট্রাম্প দাবি করেন, ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার আগে তিনি শুধু শুরুর অংশটি দেখেছিলেন। তিনি জানতেন না যে এতে ওবামা দম্পতির এমন চিত্রায়ণ রয়েছে। তাঁর একজন স্টাফ ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান সিনেটর টিম স্কট বলেন, ‘এই হোয়াইট হাউস থেকে আমি যতটা বর্ণবাদী জিনিস দেখেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে বর্ণবাদী।’

শুরুতে হোয়াইট হাউস এই ক্লিপটিকে একটি ‘ইন্টারনেট মিম ভিডিও’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং সমালোচকদের ‘ভুয়া ক্ষোভ’ প্রদর্শন বন্ধের আহ্বান জানায়। তবে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরসহ সব মহলের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, একজন স্টাফ ‘ভুলবশত’ পোস্টটি দিয়েছিলেন।

গত অক্টোবরে রক্ষণশীল মিম নির্মাতা ‘জেরিয়াস’-এর শেয়ার করা একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট থেকে এই ক্লিপটি নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গদের বানরের সঙ্গে তুলনা করার মতো প্রাচীন বর্ণবাদী ব্যঙ্গচিত্র ফুটে উঠেছে। ওই ভিডিওতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও কলা খাওয়া অবস্থায় একটি বানর হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকেও বিভিন্ন প্রাণীরূপে চিত্রায়িত করা হয়।

ভিডিওটি নিয়ে এখনো ওবামা দম্পতির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি।

ভিডিওটি ছিল ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে রাতারাতি পোস্ট করা কয়েক ডজন ভিডিওর একটি। গতকাল শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হাজার হাজার জিনিস দেখি।’ ভিডিওটির শুধু একটি অংশ দেখার পর তিনি সেটি স্টাফদের দিয়েছিলেন, যারা সাধারণত পুরো ভিডিওটি দেখে। তাঁর দাবি, তিনি ভোট জালিয়াতি সংক্রান্ত ভিডিওটির বার্তাটি পছন্দ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা যদি পুরো ভিডিওটি দেখত, তবে সম্ভবত এটি সরিয়ে নেওয়ার কাণ্ডজ্ঞান তাদের হতো। আমরা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি নামিয়ে নিয়েছি।’

ট্রাম্পের নিজ দলের মধ্যেই সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর টিম স্কট লিখেছেন, ‘আমি প্রার্থনা করছিলাম, এটি যেন ভুয়া হয়। কারণ, এটি এই হোয়াইট হাউস থেকে দেখা সবচেয়ে বর্ণবাদী জিনিস। প্রেসিডেন্টের এটি সরিয়ে নেওয়া উচিত।’

অন্যদিকে নিউইয়র্কের প্রতিনিধি মাইক ললার পোস্টটিকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ উল্লেখ করে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

অবশ্য পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার পরও সমালোচনা থামেনি। উটাহর রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ভিডিওটি ‘স্পষ্টত বর্ণবাদী ও অমার্জনীয়’।

সিবিএসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক ফ্লোরিডার প্রতিনিধি বায়রন ডোনাল্ডস হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, একজন স্টাফের কারণে প্রেসিডেন্ট লজ্জিত হয়েছেন।

তবে প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্টে কতজনের অ্যাকসেস আছে বা পোস্ট করার প্রক্রিয়া কী, সে বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি হোয়াইট হাউস।

এর আগে বিবিসিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ক্লিপটি একটি ‘মিম’ ভিডিও থেকে নেওয়া, যেখানে ট্রাম্পকে ‘কিং অব দ্য জঙ্গল’ এবং ডেমোক্র্যাটদের ‘লায়ন কিং’-এর চরিত্রে দেখানো হয়েছে।

লেভিট আরও বলেন, ‘অনুগ্রহ করে ভুয়া ক্ষোভ বন্ধ করুন এবং আজ এমন কিছু নিয়ে প্রতিবেদন করুন, যা সত্যিই আমেরিকান জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার আগে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপলের (এনএএএসিপি) প্রেসিডেন্ট ডেরিক জনসন ভিডিওটিকে ‘ঘৃণ্য ও জঘন্য’ অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ও পতনমুখী অর্থনীতি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে চেষ্টা করছেন।

ওবামা প্রশাসনে কৌশলগত যোগাযোগবিষয়ক সাবেক উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, ‘ভবিষ্যৎ আমেরিকানরা ওবামা দম্পতিকে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গ্রহণ করবে এবং ট্রাম্পকে আমাদের দেশের ওপর এক কলঙ্ক হিসেবে অধ্যয়ন করবে, এই ভাবনা ট্রাম্প ও তাঁর বর্ণবাদী অনুসারীদের তাড়িয়ে বেড়াক।’

ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে লেখেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন বর্ণবাদী।’ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের দপ্তর এক্সে লেখে, ‘প্রেসিডেন্টের জঘন্য আচরণ। প্রতিটি রিপাবলিকানকে এখনই এর নিন্দা করতে হবে।’

বারাক ওবামাকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগের ইতিহাস বেশ পুরোনো। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ট্রাম্প নিয়মিতভাবে মিথ্যা দাবি করতেন, হাওয়াইয়ে জন্ম নেওয়া ওবামা আসলে কেনিয়ায় জন্মেছেন এবং সে কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। পরে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রেই হয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পুকুরে লুকিয়ে রাখা ছিল বিপুল অস্ত্র-গুলি, পানি সেচে জাল ফেলে উদ্ধার

পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণায় চুক্তি হারানোর শঙ্কায় আইসিসি

ফিলিস্তিনি দমনে পুতিনের কাছে ১০ লাখ রুশ ইহুদি চেয়েছিলেন এহুদ বারাক

আজকের রাশিফল: বিয়ের ফুল ফুটবে, অর্থভাগ্যও তুঙ্গে

এপস্টেইনের ই-মেইল ইনবক্স দেখতে পারেন আপনিও, কীভাবে দেখবেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত