Ajker Patrika

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে এপস্টেইনের সংযোগ: জে ডি ভ্যান্স

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ২০: ১৪
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে এপস্টেইনের সংযোগ: জে ডি ভ্যান্স
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টেইন মামলার প্রায় ৩৫ লাখ ফাইল জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিল। ছবি: ইপিএ

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও ইসরায়েলি ডিপ স্টেট তথা মোসাদের সংযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেছেন, এপস্টেইনসংক্রান্ত গোপন নথি বা এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশের সময় ট্রাম্প প্রশাসন একটা হযবরল অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে।

গত বুধবার বিশ্বখ্যাত পডকাস্টার জো রোগানকে দেওয়া প্রায় তিন ঘণ্টার এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটি ইউটিউবে প্রকাশের পর ইতিমধ্যে ১০ লাখ মানুষ দেখেছেন।

২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা যান কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন। তাঁকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মন্তব্যের পর বিশ্বরাজনীতি ও গোয়েন্দা মহলে তাঁকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পডকাস্টে আলোচনার একপর্যায়ে (১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট) জো রোগান সরাসরি ভ্যান্সকে প্রশ্ন করেন, বেশির ভাগ মানুষই বিশ্বাস করে জেফরি এপস্টেইন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন। এর জবাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, এপস্টেইন মোসাদ, সিআইএ কিংবা অন্য কোনো দেশের ডিপ স্টেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়; তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তা নিশ্চিত।

ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলি রাজনীতির ডানপন্থীদের চেয়ে সে দেশের মধ্যপন্থী বা বাম ঘরানার ডিপ স্টেটের উপাদানগুলোর সঙ্গেই এপস্টেইনের দহরম-মহরম বেশি ছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তাঁর বন্ধু ছিল ডান-বাম উভয় পক্ষেই। ভ্যান্স এটাও বলেন, কোনো গোয়েন্দা সংস্থার দাপ্তরিক নথিতে এপস্টেইনকে সরাসরি তাদের এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—এমন কোনো লিখিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি এবং যদি এমন কোনো নথি থেকেও থাকে, তবে ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে তা আর টিকে থাকার কথা নয়।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) এপস্টেইন মামলার প্রায় ৩৫ লাখ ফাইল জনসম্মুখে প্রকাশ করে, যা বিশ্বজুড়ে ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিতি পায়। এই বিশাল নথিতে কোথাও এপস্টেইনকে সরাসরি ইসরায়েলের গুপ্তচর বলা হয়নি। তবে ২০২০ সালের এফবিআইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে বলা হয়েছিল, এই যৌন অপরাধী মূলত মোসাদের একজন প্রশিক্ষিত এজেন্ট ছিলেন।

এ ছাড়া প্রকাশিত ই-মেইল চালাচালি থেকে জানা যায়, ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক ও মোসাদের বর্ষীয়ান কর্মকর্তা ইয়োনি কোরেনের সঙ্গে এপস্টেইনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তিনি ২০১২ সালে কোরেনের ক্যানসারের চিকিৎসার খরচও বহন করেছিলেন। এমনকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বন্ধুদের একটি সংস্থায় ২৫ হাজার ডলার অনুদানও দিয়েছিলেন এপস্টেইন।

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। এপস্টেইনের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনার মাঝে গত ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিতে বাধ্য হন নেতানিয়াহু। তিনি লিখেছিলেন, ‘এহুদ বারাকের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে যে তিনি ইসরায়েলের জন্য কাজ করেননি, বরং এর উল্টোটিই সত্য।’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন জে ডি ভ্যান্স। আইন অনুযায়ী গত বছরের নভেম্বরের মধ্যে সব ফাইল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বন্ডির বিচার বিভাগ বেশ কিছু স্পর্শকাতর নথি আটকে রেখেছিল এবং বন্ডি দাবি করেছিলেন, এপস্টেইনের হাইপ্রোফাইল ‘ক্লায়েন্ট লিস্ট’ তাঁর ডেস্কে রয়েছে। কিন্তু পরে এটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

এই অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের ব্যর্থ চেষ্টার কারণে চলতি বছরের এপ্রিলে প্যাম বন্ডিকে তাঁর পদ থেকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বন্ডির পক্ষে সাফাই গেয়ে ভ্যান্স রোগানকে জানান, তিনি বন্ডিকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন এবং বন্ডির কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি কেবল সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপ সামলাতে গিয়ে বাড়িয়ে বলে ফেলেছিলেন।

বন্ডির এই নাটকীয়তার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনকে জনসাধারণের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল। বিষয়টি স্বীকার করে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এপস্টেইনের ফাইল নিয়ে পরিস্থিতি হযবরল করে ফেলেছিলাম, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা কিছু লুকাতে চেয়েছিলাম।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত