Ajker Patrika

লাউতারোর ‘স্বপ্নপূরণ’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
লাউতারোর ‘স্বপ্নপূরণ’
জয়সূচক গোলের পর মেসির পিঠে চুমু এঁকে দিলেন গোলদাতা লাউতারো মার্তিনেস। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন মেসিরা। ছবি: এএফপি

৮১ মিনিটে যখন তিনি সাইডলাইন পেরিয়ে মাঠে নামলেন, আটলান্টার আকাশ তখন আলবিসেলেস্তেদের জন্য এক চরম উৎকণ্ঠার চাদরে ঢাকা। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক সেমিফাইনালে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড তখন ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

ইংলিশদের সেই জমাট রক্ষণ ভাঙার ছক যখন ক্রমেই জটিল হচ্ছে, লিওনেল স্কালোনি তখন চাললেন তাঁর শেষ দান। মাঠে নামালেন এক ‘ষাঁড়’কে—আর্জেন্টাইন ফুটবলে যাঁকে সবাই চেনে ‘এল তোরো’ নামে।

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন নিষ্প্রভ। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মহোৎসবেও তাঁর ব্যক্তিগত প্রাপ্তির খাতাটা ছিল তীব্র এক শূন্যতার বেদনায় নীল। কাতার তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল শুরুর একাদশের নিশ্চয়তা। এই বিশ্বকাপেও গল্পটা তেমনই। তাই তো বদলি হিসেবে নামতে হলো।

৮৬ মিনিটে এনসো ফার্নান্দেসের গোলে সমতা ফেরার পর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে ঝুঁকছে, ঠিক ৯২ মিনিটে মঞ্চ কাঁপালেন লাউতারো। লিওনেল মেসির ক্রসে তাঁর হেড আছড়ে পড়ল জালে। ১১ মিনিটের ব্যবধানে আজন্ম লালিত স্বপ্নও রূপ নিল পরম বাস্তবতায়।

কিছু গোল স্কোরলাইন বদলে দেয়। কিছু গোল বদলে দেয় মানুষের জীবন। লাউতারোর গোলটি করেছে দুটোই। শেষ বাঁশির পর তাই তাঁর চোখে জল। ফুটবলে কান্না অনেক রকমের হয়। পরাজয়ের কান্না আছে, স্বস্তির কান্না আছে, আবার এমন কান্নাও আছে, যা আসলে নিজের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ জিতে ফেলার। কান্না সামলে তিনি বলেন, ‘বাবা যেদিন প্রথম বুট কিনে দিয়েছিলেন, সেদিন থেকেই এমন একটি গোলের স্বপ্ন দেখতাম। এই গোল আমার মায়ের জন্যও। রেসিং ক্লাবে যাওয়ার পর থেকে তিনি আজও আমার বিছানা গুছিয়ে রাখেন।’

যে লাফায় না, সে পায় না সাফল্যের দেখা। লাউতারো সেই সাফল্য ছুঁয়েছেন। একদম উঁচুতে ভেসে, আটলান্টা স্টেডিয়ামের তপ্ত আবহাওয়াকে পাশ কাটিয়ে নিজের কপাল, বুক আর পুরো হৃদয়টা সঁপে দিলেন বলের পেছনে। ব্যস! বল জালে।

মুখে চওড়া হাসি আর চোখে স্বপ্ন নিয়ে তৃপ্তির সঙ্গে লাউতারো বলছিলেন, ‘আমি এটা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি আলেক্সিসকে বলেছিলাম যে একটা গোল করব। বেঞ্চে বসা ফাকু মেদিনাকেও বলেছিলাম যে আমি মাঠে নামব আর আমরাই জিতব। এবার সুযোগটা আমার ছিল। এখন মাথা কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর বলতে পারছি, এই দলটা দেখিয়ে দিল তারা কী দিয়ে তৈরি।’

ঘাম মুছতে মুছতে, কিছুটা ভাঙা গলায় খুব সহজভাবেই ফুটিয়ে তুলছিলেন আরও একটি মহাকাব্যিক ম্যাচের গল্প। এমন এক বিশ্বকাপে যেখানে শুরুটা করেছিলেন মূল একাদশে, কিন্তু পরে হুলিয়ান আলভারেসের কাছে জায়গা হারিয়ে চলে যান বেঞ্চে। এই স্টেডিয়ামেই মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনসো ফার্নান্দেসের হেডের জন্য নিখুঁত ক্রসটি বাড়িয়েছিলেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণেও আক্রমণভাগে যোগ দিয়েছিলেন।

কোচ লিওনেল স্কালোনিও তাই প্রশংসায়, ‘লাউতারোর জায়গায় থাকা মোটেও সহজ নয়। সে দলে জায়গা হারিয়েছে, হুলিয়ান এসে দুর্দান্ত খেলছে। কিন্তু লাউতারো যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ইতালির সর্বোচ্চ গোলদাতাকে বেঞ্চে রাখা কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। সে অবশ্যই অসন্তুষ্ট, কিন্তু সে মুখ বুজে কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছে। যখনই মাঠে নামছে, প্রমাণ করছে সে প্রস্তুত। একজন কোচের জন্য এটি অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত