Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধে ধ্বংস হয়েছে ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরান যুদ্ধে ধ্বংস হয়েছে ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা
গত ২৭ মার্চ ইরানের হামলায় ধ্বংস হয় যুক্তরাষ্ট্রের ‘ই-৩জি সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান। ছবি: এক্স

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তেহরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পর পরই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের ছবি এবং ভিডিও বিশ্লেষণ করে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানী দল বিবিসি ভেরিফাই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিবিসি ভেরিফাই বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্যাটেলাইট চিত্র এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্যাটেলাইট ইমেজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট-এর সংরক্ষিত ছবি বিশ্লেষণ করেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত মার্কিন স্থাপনাগুলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন এবং ওমান জুড়ে বিস্তৃত।

যদিও হোয়াইট হাউস বারবার দাবি করে আসছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট যে, মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে দেওয়া বিবৃতির চেয়ে ইরানের পাল্টা হামলাগুলো অনেক বেশি নিখুঁত এবং ব্যাপক ছিল।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে অন্যতম হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুয়াইস ও আল সাদর বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা তিনটি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম ধ্বংস হওয়া।

এ ছাড়া স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রিফুয়েলিং এবং নজরদারি বিমানগুলো ইরানি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর ওই ঘাঁটিতে বিধ্বস্ত বিমান এবং আগুনে পুড়ে যাওয়ার কালো দাগ স্পষ্ট দেখা গেছে।

সামরিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান মায়ার-এর একজন বিশ্লেষক ক্ষতিগ্রস্ত বিমানগুলোর মধ্যে একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমানকে শনাক্ত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের একটি বিমান নতুন করে তৈরি করতে প্রায় ৭০ কোটি (৭০০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

অন্যদিকে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজানেও আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। মায়ার-এর বিশ্লেষকেরা স্যাটেলাইট চিত্রে কুয়েতের ওই ঘাঁটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত জ্বালানি মজুত রাখার বাংকার, বিমানের হ্যাঙ্গার এবং সেনানিবাসের চিত্র শনাক্ত করেছেন, যা প্রমাণ করে চলমান সংঘাতের সময় এই ঘাঁটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জেনেস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলার জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানির করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে পুনরায় সরাসরি আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে দুই পক্ষই একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়ে যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত