
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বড় নেতারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক আগেই জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাওয়ার মনস্থির করেছিলেন বলে জানিয়েছেন দলটির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন। তবে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ দুজন ব্যক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের পক্ষে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তিনি। জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিপক্ষে থাকায় এই দুই ব্যক্তির একজনকে জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দলে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন মুশফিক। আর অন্যজন শেষমেশ দলেই যোগ দেননি।
আজ সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান এনসিপির এই সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা।
ফেসবুক পোস্টে মুশফিক লিখেছেন, ‘মিডিয়ায় যে যাই বলুক না কেন, এনসিপির বড় নেতারা অনেক আগেই মনস্থির করেছিলেন যে নির্বাচন তারা জোটবদ্ধভাবেই করবেন। কিন্তু কাদের সাথে জোট হবে তা নিয়ে সবাই একমত হতে পারছিলেন না। নির্বাচনের আগে সর্বশেষ ইসি মিটিংয়ের ((নির্বাহী কাউন্সিলের বৈঠক) আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে যতোগুলো ইসি বা জেনারেল মিটিং (সাধারণ সভা) হয়েছে, প্রতিটাতেই এককভাবে বা বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় জোট গঠন করে নির্বাচন করার পক্ষে মত বেশি ছিলো। এ সংক্রান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটা মিটিং হয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের গেজেট যেদিন প্রকাশিত হয়, সেদিন রাতে। সেই মিটিংয়ে মূল দল, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অফিসিয়ালি দলের বাইরে থাকা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও সেদিন উপস্থিত ছিলেন।’
মুশফিক জানান, ওই বৈঠকে জোট নিয়ে সবাই যাঁর যাঁর মতামত খোলামেলাভাবে জানান। সেদিনও এককভাবে অথবা তৃতীয় জোট গড়ে নির্বাচন করার পক্ষে সবচেয়ে বেশি ১৮ জন মত দেন। এরপরে বিএনপির সঙ্গে জোট করার পক্ষে আটজন আর জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পক্ষে সাতজন মত দেন। অর্থাৎ, বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পক্ষে ছিলেন মোট ১৫ জন।
সাবেক এই এনসিপি নেতা লিখেছেন, ‘একক বা তৃতীয় জোট করে নির্বাচনে গেলে অন্য দুই জোটের তুলনায় কম আসনে জেতা সম্ভব হবে, এই বাস্তবতা মেনেই আমরা সেই মত দিয়েছিলাম। কিন্তু জামাতের সাথে জোট করার পক্ষে ছিলেন খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি। অতি গুরুত্বপূর্ণ যে দুইজন ব্যক্তি জামাতের সাথে জোটের পক্ষে ছিলেন না, তাদের একজনকে জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দলে যোগ দিতে দেয়া হয় নাই, আরেকজন শেষমেশ আর দলেই যান নাই।’
জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুশফিক উস সালেহীন লিখেছেন, ‘মিটিংয়ের পর আমাদের কয়েকজনকে এসে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে—দল এককভাবে নির্বাচন করলে শুধু হাসনাত আব্দুল্লাহ আর তাসনিম জারা জিতবেন। এই দুইজন জিতবেন কারণ জোট না করলেও জামাত তাদের সাংগঠনিকভাবে ‘‘ব্যাকআপ’’ দিবে, মূলত জামাতের ভোটেই তারা জিতবে, এর বাইরে কেউ সংসদে যেতে পারবে না। আর একারণেই সেই দুইজন এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। সংসদ সদস্য হওয়ার পরে দল চলে যাবে এই দুইজনের নিয়ন্ত্রণে, আর এই দুইজনের নিয়ন্ত্রণ মানে জামাতের নিয়ন্ত্রণে। তাই জামাতের হাতে দল চলে যাওয়া ঠেকাতে জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচন করা লাগবে। আসন কম দেয়া, চাঁদাবাজির কারণে নেতিবাচক ইমেজ ও সংস্কার বিরোধী হওয়ায় বিএনপির সাথে তো যাওয়া যাবে না, তাই জামাতের সাথে জোট করা ছাড়া উপায় নেই।’
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা এই নেতা জানান, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের অনেকের মধ্যেই গুঞ্জন ছিল—তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহ আসলে দলের ভেতরে জামায়াতেরই লোক। কিছু সাবেক শিবির সদস্যও বলে বেড়াতেন যে খালেদ সাইফুল্লাহ অতীতে শিবির করেছেন। দলের কিছু বড় নেতাই এসব ছড়ানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ মুশফিকের। তিনি লিখেছেন, ‘এনসিপিকে জামাতের দিকে নিয়ে যেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন যে ব্যক্তি, তার সাথে এই দুইজনের ব্যক্তিগত সখ্যতাও এই ধারণা তৈরির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এসব প্রচারণায় আমরা অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। অবশেষে জামাতের সাথে জোটের প্রতিবাদে পদত্যাগ করিয়া তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমাণ করিলেন যে তারা জামাতের এজেন্ট নন।’
মুশফিক উস সালেহীন জানান, এনসিপি এমন একটা দল, যেখানে নিজেদের পুরোনো কোরামের বাইরে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। পুরো দলেই একটা অবিশ্বাসের বাতাবরণ ছড়িয়ে আছে। এমনকি কোরামের মধ্যেও কোরাম আছে আর গ্রুপের মধ্যেও আছে গ্রুপ। তিনি লিখেছেন, ‘জুলাই পদযাত্রায় দেখেছি মঞ্চে উঠা, বক্তৃতা দেয়া, হাততালি-স্লোগান পাওয়া নিয়ে একেকজনের ইনসিকিউরিটি (হীনম্মন্যতা) আর জেলাসি (ঈর্ষা)।’
এ বিষয়ে এনসিপির নেতারা জানান, মুশফিক উস সালেহীন যে দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে জোটের পক্ষে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন, তাঁরা হলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। এর মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর গত ২৯ ডিসেম্বর এনসিপিতে যোগ দেন। আর মাহফুজ আলম এনসিপিতে যোগ না দিয়ে ‘অলটারনেটিভস’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়েছেন।

রিজভী বলেন, বিরোধী দল রাজপথে লংমার্চের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে এবং দলকে সেগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে দেখা যাচ্ছে, যা স্পষ্টত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
১ ঘণ্টা আগে
মামুনুল হক বলেন, ‘ক্ষমতার মসনদে বসে ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটকে অবৈধ বলেন, এ দুঃসাহস আপনাকে কে দিয়েছে? জনগণের ভোটাধিকারকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করলে জনগণকেই অসম্মান করা হয়। ভালোয় ভালোয় সংস্কার করেন। গণভোট যদি অবৈধ হয়ে থাকে, আপনার সরকারও অবৈধ সরকার।’
৭ ঘণ্টা আগে
দেশের আর্থিক অবস্থা নাজুক বলে দাবি করেছে বিরোধী দল। তাদের আশঙ্কা, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলে সবার ওপর প্রভাব পড়বে। শনিবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন অভিমত দিয়েছেন কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম খান মিলন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে...
১৬ ঘণ্টা আগে
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল প্রথমে বলেছিল জ্বালানিসংকটের কারণে লংমার্চ করবে, অথচ এই কর্মসূচিতেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পোড়ানো হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তারা দাবি তুলল গণরায় বাস্তবায়নের। একদিকে তারা সংবিধান সংশোধনী কমিটির আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সেখানে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকছে, অন্যদিকে লংমার্চে...
১৮ ঘণ্টা আগে