Ajker Patrika

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় তৎপর চীন ও রাশিয়া, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ১১: ৫৮
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় তৎপর চীন ও রাশিয়া, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ
ছবি: আনাদোলু

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে এরই মধ্যে চড়া মূল্য দিতে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোও এক বিস্তৃত সংঘাতের ঝুঁকির মুখে পড়ে গেছে এবং ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এই অবস্থায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ। ইসরায়েলিরাও এই যুদ্ধ থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য ‘এক্সিট র‍্যাম্প’ বা ‘প্রস্থান পথ’ তালাশ করছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা চললেও ইরান এরই মধ্যে কিছু রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী বলেছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য তেহরানের প্রথম শর্ত হলো ‘আর কোনো আগ্রাসন চালানো যাবে না।’

বিশ্বনেতারা যখন কূটনৈতিকভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে চেষ্টা জোরদার করছেন, সেই সময় তিনি এই মন্তব্য করলেন। গরিবাবাদী আরও জানান, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার বিষয়ে চীন, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এসব দেশ শত্রুতা বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আপাতত ইরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়নি। এর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুদ্ধের ‘রাজনৈতিক লক্ষ্য’ নিয়ে বিভ্রান্তিকে স্পষ্ট করে।

হ্যারিসন বলেন, ট্রাম্প দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যাতে ইরানের জনগণ নিজেদের সরকার নিজেরাই পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে সাধারণ ইরানিদের সমর্থন পাওয়ার আশা করা বাস্তবসম্মত হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক লক্ষ্য স্পষ্ট, কিন্তু রাজনৈতিক লক্ষ্য অস্পষ্ট।’

রস হ্যারিসন আরও বলেন, ইরান সরকার যুদ্ধে জড়িত অন্য শক্তিগুলোর যতটা সম্ভব ক্ষতি করতে চায়। তাঁর মতে, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুদ্ধ যত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে, ততই তাদের কৌশলগতভাবে লাভ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে গেলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখবে এবং সেটি ভবিষ্যতে আরও আগ্রাসনের সুযোগ তৈরি করবে।’

অপর দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এখন ইরানের ওপর চলতে থাকা ক্রমবর্ধমান ও অনির্দিষ্টকালীন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা এমন কিছু সম্ভাব্য ‘এক্সিট র‍্যাম্প’ বা ‘প্রস্থান পথ’ বা সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এমনটি হলে হয়তো যুদ্ধ আরও বিস্তার লাভ করার আগেই থেমে যেতে পারে এবং অঞ্চল ও বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

যুদ্ধের শেষ পরিণতি বা ‘এন্ডগেম’ নিয়ে আলোচনা এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। হামলা থামানো হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরই নির্ভর করছে। তিনি এখনো পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের লক্ষ্যে এগোতে চাইছেন। তবে রোববার এক টেলিফোন আলাপে ইরান যুদ্ধের পরিকল্পনা ও কৌশলের সঙ্গে পরিচিত একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ট্রাম্পের দাবি করা ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর বিকল্প কিছু সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানান।

গত কয়েক দিনে যেসব কর্মকর্তার সঙ্গে ওয়াশিংটন পোস্ট কথা বলেছে, তাঁদের এবং ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্বেগের মূল কারণ হলো—‘যুদ্ধের মূল্য ক্রমাগত বাড়ছে।’ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ঠেলে দিতে পারে। আর ট্রাম্প নিজেও রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। কারণ, জনসমর্থন ছাড়াই তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে নিয়ে গেছেন।

ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে পতন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের স্বার্থে কি না, আমি নিশ্চিত নই। কেউই অনন্তকাল ধরে চলা কোনো গল্প চায় না।’

তাঁর মতে, ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বোমা হামলা প্রায় সেই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যেখানে তাদের প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জিত হতে পারে। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের পর ইরানের যে অবশিষ্ট পারমাণবিক কর্মসূচি ছিল, তা ধ্বংসের কাছাকাছি। একই সঙ্গে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং সামরিক, গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বও লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে।’ তবে এই সামরিক লক্ষ্য পূরণে আর কত সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা চাই শাসনব্যবস্থা পতন হোক। কিন্তু সেটাই একমাত্র শেষ লক্ষ্য নয়।’ বড় বড় সামরিক লক্ষ্য ধ্বংস হয়ে গেলেও ‘ইসরায়েল তার উদ্দেশ্য অর্জন করবে।’ তাঁর ভাষায়, ‘ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার বার্তা পাঠাতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে উপসাগরীয় মিত্রদের সৌদির ‘গোপন বার্তা’

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত