Ajker Patrika

৬০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে হরমুজ পাড়ি দিল ৩ সুপারট্যাংকার, গন্তব্য এশিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ২২: ৪৫
৬০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে হরমুজ পাড়ি দিল ৩ সুপারট্যাংকার, গন্তব্য এশিয়া
প্রতীকী ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে এশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছে তিনটি সুপারট্যাংকার। বুধবার (২০ মে) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি ও কেপলারের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানা গেছে। একই সময়ে আরও একটি খালি সুপারট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ করে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি ও ইরানের কঠোর নির্দেশনার কারণে বহু জাহাজ উপসাগর এলাকায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল।

রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী ‘ইউনিভার্সাল উইনার’ নামের একটি ভিএলসিসি (ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার) প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল কুয়েতি অপরিশোধিত তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালি ত্যাগ করেছে। জাহাজটি আগামী ৯ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান বন্দরে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উলসানে দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার এসকে এনার্জি।

এ ছাড়া চীনা পতাকাবাহী ‘ইউয়ান গুই ইয়াং’ নামের আরেকটি সুপারট্যাংকার ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি তেল নিয়ে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শুইদং বন্দরের দিকে রওনা হয়েছে। এটি সিনোপেকের ট্রেডিং শাখা ইউনিপেক ভাড়া নিয়েছিল। হংকং পতাকাবাহী ‘ওশান লিলি’ নামের আরেকটি ট্যাংকার কাতার ও ইরাকের মোট ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করছে এবং এটি পূর্ব চীনের শুয়ানঝৌ বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ ও কড়া নজরদারির একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

শিপিং-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নতুন সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, ড্রোন হামলা, মাইন বিস্ফোরণ, অতিরিক্ত জাহাজজট ও সীমিত সামরিক নজরদারির কারণে প্রণালিতে জাহাজ চালানো এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। বর্তমানে উপসাগরের ভেতরে শত শত জাহাজ আটকে রয়েছে এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল শুরু হলে বড় ধরনের নৌ-ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত