Ajker Patrika

এই যুদ্ধে ট্রাম্পকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে: ইব্রাহিম রেজায়ি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ২১: ১৭
এই যুদ্ধে ট্রাম্পকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে: ইব্রাহিম রেজায়ি
ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকির মুখে পাল্টা হুংকার ছেড়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, চলমান এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকেই পিছু হটতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে।’ ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের সামনে কেবল দুটি পথ খোলা আছে, হয় তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, নয়তো তাঁকে আত্মসমর্পণ করতেই হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এরপর এই উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

যুদ্ধের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রতিরোধের সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলায় ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতার বড় অংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে, তাতে মনে হয় না ইরান খুব একটা দুর্বল হয়েছে।

এদিকে গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই দিন ধরে ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত সোমবার ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। এর জবাবেই মঙ্গল ও বুধবার রাতে ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আব্বাস আসলানি মনে করেন, চলমান এই সংঘাত মূলত নিজেদের শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই।

ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে আসলানি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে নিজেদের পাল্লা ভারী করতে চাইছে, যাতে তারা তেহরানকে এমন কিছু শর্ত বা ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারে, যা ইরান অতীতে কখনো দেয়নি।’

আব্বাস আসলানির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই লড়াই ইরানের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, এর আগে মার্কিন হামলার জবাবে ইরান যে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা ওয়াশিংটনকে পুনরায় আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

আব্বাস আসলানি বলেন, ঠিক এই কারণে ইরান এবার ‘সংঘাত কমানোর উদ্দেশ্যে সংঘাত তীব্র করার’ কৌশল নিয়েছে। তারা দেখাতে চায়, তাদের ওপর আঘাত করা হলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষার স্বার্থে ইরানের এই প্রতিরোধক্ষমতাকে হয়তো আরও ‘তীব্র ও কঠোর’ রূপ নিতে হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত