Ajker Patrika

হামলা না করার শর্তে ইরানকে বিপুল টাকা দিয়েছে আমিরাত, ‘ভিত্তিহীন খবর’ বলল আবুধাবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হামলা না করার শর্তে ইরানকে বিপুল টাকা দিয়েছে আমিরাত, ‘ভিত্তিহীন খবর’ বলল আবুধাবি
আবুধাবিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (বামে) ও আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মাধ্যমে ইরানে কোনো ধরনের অর্থ বা অবরুদ্ধ (ফ্রিজড) তহবিল স্থানান্তর করার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে আবুধাবি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে বর্ণনা করেছে।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে চারজন কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা বন্ধের বিনিময়ে আবুধাবি তেহরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে।

ইউএই-র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের কোনো অবরুদ্ধ তহবিল ছাড় করা হয়নি, স্থানান্তর করা হয়নি কিংবা এই ধরনের কোনো প্রক্রিয়াকে সহায়তাও করা হয়নি।

বিবৃতিতে গণমাধ্যমগুলোকে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার, অফিশিয়াল উৎসের ওপর নির্ভর করার এবং যাচাই না করে কোনো অনুমিত তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে, এই অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমিরাতি কর্মকর্তা বলেছিলেন, তাঁদের দেশ মূলত আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং টেকসই শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘ইউএই-র পররাষ্ট্র নীতি সর্বদা আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেয়।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে ইউএই-র ওপর ইরানের হামলার পর এটি আমিরাতের একটি ‘কৌশলগত নীতি পরিবর্তন’। এই অর্থ ছাড়ের আলোচনার সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি আলোচনারও যোগসূত্র রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।

আঞ্চলিক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানকে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই চুক্তির বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র দাবি করেছে, এই তহবিলের মোট পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। ইউএই-র ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করার শর্তে এই সমঝোতা হয়েছে।

তবে এই অর্থ কি আমিরাতের নিজস্ব তহবিল নাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব তেল রাজস্বের অংশ, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

নেপথ্যে উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক

একটি সূত্রের দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হলেও সম্প্রতি তা গতি পায়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের শীর্ষ কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে আবুধাবি সফর করেন। সেখানে তাঁরা ইউএই-র জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং আবুধাবির উপ প্রশাসক শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর অতিথি ভবনে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ইউএই-র একটি প্রতিনিধি দল বিস্তারিত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে তেহরান সফর করে।

এই সমঝোতা আমিরাত ও ইরানের দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য শত্রুতার সম্পর্কে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের সময় ইউএই-তে ইরানের হামলার কারণে দুবাইয়ের হোটেলগুলো খালি হয়ে পড়েছিল এবং অনেক প্রবাসী দেশ ছেড়েছিলেন। ফলে ব্যবসা ও পর্যটন হাব হিসেবে দুবাইয়ের যে নিরাপদ ভাবমূর্তি রয়েছে, তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল। সর্বশেষ গত ৪ মে ওমান উপসাগরে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে সরাসরি হামলা চালিয়েছিল ইরান।

চুক্তিটির বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি সংঘাত এড়ানোর একটি কৌশল। এর মাধ্যমে কোনো পক্ষই তাদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করে সংকটের সমাধান করতে পারছে। ইরান দাবি করতে পারবে তারা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে, ওয়াশিংটন বলতে পারবে তারা কোনো অর্থ দেয়নি, আর আবুধাবি নিজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক হাব হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের নীরবতা

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গতকাল শুক্রবার বলেছেন, শুধু কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর বা বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানকে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। কোনো সম্ভাব্য চুক্তি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে ইরান তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পায়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিপুল পরিমাণ আমানত রয়েছে, যা বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, কালো তালিকাভুক্ত ইরানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে যেকোনো আন্তর্জাতিক ব্যাংক মার্কিন আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত