Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৯: ১৫
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
প্রতীকী ছবি

ইরানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই বড় ধরনের উত্তেজনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছু আঞ্চলিক দেশের সহযোগিতায়’ (দেশগুলোর নাম উল্লেখ না করে) কেশম দ্বীপসহ বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমেরিকান আগ্রাসী, সন্ত্রাসী এবং দস্যু বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।’ এতে আরও দাবি করা হয়, ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন জাহাজগুলোর ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ হয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনী বলেছে, ‘অপরাধী ও আগ্রাসী আমেরিকা এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোর জানা উচিত যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান অতীতের মতোই যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।’

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ও অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল এবং উচ্চ বিস্ফোরক ওয়ারহেডসমৃদ্ধ ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, তারা ‘বিনা উসকানিতে ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করেছে’ এবং ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’র মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’ তারা যোগ করেছে, সেন্টকম কোনো উত্তেজনা চায় না, তবে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে তারা সদা প্রস্তুত।

এই সংঘর্ষগুলো মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের বিরুদ্ধে প্রথম ইরানি সামরিক প্রতিক্রিয়া। গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকটি ইরানি জাহাজ জব্দ করে এবং আরও কয়েক ডজন জাহাজকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরানের ওপর ট্রাম্পের চাপের অভিযানের মূল অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে এই নৌ অবরোধ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর মিনাবের বন্দরগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম একটি জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার ইরানি হামলার মুখে পড়ে ওমান উপসাগরের দিকে পালিয়ে গেছে।

এমন একসময়ে এই সংঘর্ষের খবর এল, যখন ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে উন্নত পর্যায়ের আলোচনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজে ইরানের অবরোধ ভাঙার জন্য একটি অভিযানের নির্দেশ দেন, যা উত্তেজনাকে এমন একপর্যায়ে নিয়ে যায় যে যুদ্ধবিরতি প্রায় ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা ইরানের সাতটি ছোট ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইরানও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত