
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নাটক তুঙ্গে উঠেছে। সাবেক অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সতর্ক করে বলেছে, যদি দুই দ্রাবিড় দল—এমকে স্টালিনের দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) এবং এদাপ্পাদি কে পালানিস্বোয়ামীর অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) সরকার গঠনের দাবি তোলার চেষ্টা করে, তাহলে দলের প্রতিটি বিধায়ক (এমএলএ) পদত্যাগ করবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে। ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শিবিরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই এই টিভিকে সিদ্ধান্ত এল। টিভিকের সন্দেহ, সরকার গঠনের জন্য দুই দল নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করছে এবং সবচেয়ে বেশি জনসমর্থন পাওয়া দলটিকে বাইরে রেখে ক্ষমতার সমীকরণ সাজাতে চাইছে।
১০৭টি আসনে জয় পাওয়া টিভিকের যুক্তি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ তাদেরই পাওয়া উচিত। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের গভর্নর আর ভি আরলেকার থালাপতি বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানানোর অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর বক্তব্য, টিভিকের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই। বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের যে রূপরেখা পেশ করেছিলেন, সেটিও তিনি গ্রহণ করেননি। সূত্র জানায়, দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো হওয়া বৈঠকটি শেষ হয় গভর্নরের এই অবস্থানে অনড় থাকার মধ্য দিয়ে বিজয়কে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র দেখাতে হবে।
রাজভবনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গভর্নর ব্যাখ্যা করেছেন যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন, যা তামিলনাড়ু বিধানসভায় অপরিহার্য, তা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। ইতিমধ্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস, যাদের পাঁচজন বিধায়ক রয়েছে। বাকি আসনের জন্য বাম দল ও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, দলটি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে গতকাল ডিএমকে একটি বৈঠক করেছে, যেখানে চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর একটি ছিল দলীয় প্রধান এমকে স্টালিনকে ‘জরুরি সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া। এ বিষয়ে ডিএমকে বলেছে, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য আরেকটি নির্বাচন এড়ানো, একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করা এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির জন্য কোনো সুযোগ না রাখা।’
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবকে ‘জটিল সংকট’ আখ্যা দিয়ে ডিএমকে তাদের সব বিধায়ককে ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইয়ে অবস্থান করতে বলেছে। তবে ডিএমকের শীর্ষ সূত্র এনডিটিভিকে নিশ্চিত করেছে, এমন একটি পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে যেখানে ই পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এবং বাইরে থেকে তাঁকে সমর্থন দেবে ডিএমকে।
ডিএমকের তরুণ নেতৃত্বের একটি অংশ, বিশেষ করে উদয়ানিধি স্টালিনের ঘনিষ্ঠমহল আশঙ্কা করছে, বিজয় একবার ক্ষমতায় এলে তিনি হয়ে উঠতে পারেন এমজি রামাচন্দ্রনের (এমজিআর) মতো এক প্রভাবশালী নেতা, যাকে ক্ষমতা থেকে সরানো প্রায় অসম্ভব হবে। কিংবদন্তি এমজিআর জীবিত থাকা পর্যন্ত ডিএমকেকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তবে এমকে স্টালিনসহ দলের প্রবীণ নেতারা এখনো এই সমীকরণে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন বলে সূত্র জানিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, বহু দশক ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করা দুটি দল যদি একই নৌকায় উঠে পড়ে, তাহলে জনমনে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।
এআইএডিএমকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটি তাদের বিধায়কদের আপাতত অপেক্ষা করতে বলেছে। দলের একটি অংশ টিভিকের সঙ্গে জোটে আগ্রহী হলেও জ্যেষ্ঠ নেতারা তা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় ৪৫ জনের বেশি বিধায়ক পালানিস্বোয়ামীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তিনি বিধায়কদের বলেন, টিভিকে ও এআইএডিএমকের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই মুহূর্তে ভাঙিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এআইএডিএমকে তাদের বিধায়কদের আরও দুই দিন শান্ত থাকতে ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলেছে।
গভর্নরের অবস্থান টিভিকের সম্ভাব্য মিত্রদেরও ক্ষুব্ধ করেছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিআই) তামিলনাড়ু শাখা গভর্নরকে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। দলটি বলেছে, শপথ অনুষ্ঠানের আগেই বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলা ‘অনুচিত’। এক বিবৃতিতে সিপিআই বলেছে, ‘একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকেকে অবশ্যই গভর্নরের কাছ থেকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তারা বিধানসভার মেঝেতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এস আর বোম্মাই মামলাসহ একাধিক রায়ে এই নীতিকে সমর্থন করেছে।’
এদিকে, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) প্রধানও বলেছেন, বিজয় যেহেতু রাজ্যের একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছেন, তাই তিনি অন্যদের সমর্থন চাইতেই পারেন এবং বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পর তাঁকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘গভর্নর টিভিকেকে সমর্থন করা ব্যক্তিদের তালিকা চাইতে পারেন না।’ তিনি বলতে পারেন না, ‘কে আপনাকে সমর্থন করছে? ১১৮ জনকে নিয়ে এসে আমাকে দেখান, তারপর শপথ অনুষ্ঠানে আসুন।’
টিভিকে ডিএমকের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছে। বিদায়ী দলটি গভর্নরের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘জনরায়ের প্রতি অসম্মান’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অভিনেতা কমল হাসানও বিজয়ের পক্ষে কথা বলেছেন।

শান্তি আলোচনার এই সংকটময় মুহূর্তে খলিল আল-হাইয়ার ছেলের মৃত্যু গাজা উপত্যকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা মার্কিন মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল।
২৬ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলাকে ‘ছেলেখেলা’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল তবিয়তেই আছে। তবে কে প্রথম গুলি ছুড়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন বাণিজ্য আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, ১৯৭০-এর দশকের একটি বাণিজ্য আইনের অধীনে এই ধরনের ঢালাও শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইরানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই বড় ধরনের উত্তেজনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে