
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছর না যেতেই সেই মূল্যস্ফীতিই এখন তাঁর প্রশাসনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির জন্য অনেক ভোটার সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনকেই দায়ী করছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ইতিহাসে তেলের দামের ধাক্কায় বহু প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জিমি কার্টার থেকে জো বাইডেন—সবার আমলেই জ্বালানি সংকট অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে ট্রাম্পের পরিস্থিতি ভিন্ন। সমালোচকেরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে তাঁর প্রশাসন নিজেই মূল্যস্ফীতির আগুন ডেকে এনেছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে জ্বালানির ওপর কর তুলনামূলক কম থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন দ্রুত ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ডিজেলের দামও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী, যা কৃষি ও পরিবহন খাতে বড় চাপ তৈরি করছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ট্রাক পরিবহন খরচ ও কৃষিতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগামী মাসগুলোতে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে। এদিকে জেট ফুয়েলের দাম ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান ভাড়াও বেড়েছে। এতে স্পিরিট-এর মতো কম খরচের বিমান সংস্থা সংস্থাগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
কৃষকদের ওপরও চাপ বাড়ছে। সারের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্কনীতি আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। গাড়ি, পোশাক ও আসবাবপত্রের মতো পণ্যে মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর ক্রিস ওয়ালারসহ অনেক অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন, জ্বালানি ও শুল্ক—এই দুই ধরনের মূল্যচাপ একসঙ্গে কাজ করায় মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।
এদিকে বিদ্যুতের বাজারেও চাপ বাড়ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারের প্রসারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আবাসন খাতেও নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে, পাশাপাশি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে নির্মাণশ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছে।
এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসন এখন অনেকটাই নিজেদের নীতির ফল ভোগ করছে বলে বিশ্লেষকদের মত। জীবনযাত্রার ব্যয় যে নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখে, তা ট্রাম্প নিজেই অতীতে বুঝেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই ইস্যুতেই তিনি জনসমর্থন হারাচ্ছেন।
সম্প্রতি এবিসি নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬২ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনে অসন্তুষ্ট। অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর প্রতি অসন্তোষের হার ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সব দিকই নেতিবাচক নয়। দেশটির তেল রপ্তানি বেড়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে এবং শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের কাছে এসব সূচকের চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই দাম এখনো বাড়ছেই। সমালোচকেরা বলছেন, নিজের হঠকারী এবং দাম্ভিক সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা আর কেউ করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান সংঘাত বন্ধে একটি স্বল্পমেয়াদি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরান বর্তমানে এমন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যা যুদ্ধ থামাতে পারে। তবে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও বিতর্কিত বিষয়গুলো এখনো...
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ২০২৬ সালের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলপত্রে মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘আধুনিক ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের মূল শিকড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে ইরানকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন শিভন জিলিস। ওপেনএআইকে ঘিরে চলমান আইনি লড়াইয়ে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি জানান, মাস্ক একসময় তাঁকে ‘প্লেটোনিক’ বা ‘মিলন ছাড়াই’ শুক্রাণু দান করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
৪ ঘণ্টা আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল টি এন রবি। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) লোকভবনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার (বি) উপধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে