Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হবে, খামেনির হুঁশিয়ারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হবে, খামেনির হুঁশিয়ারি
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মহড়ায় অংশ নেওয়া এক নৌ সেনা। ছবি: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে এটি শুধু দ্বিপক্ষীয় সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশের অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করায় এবং যে কোনো মুহূর্তে হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কার মধ্যে এই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া বক্তব্যে খামেনি বলেন, ‘আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার সেটা আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে।’ তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিতভাবে যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কথা বললেও ইরানের জনগণ এসব হুমকিতে ভয় পায় না।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান বর্তমানে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়’ রয়েছে এবং তিনি আশা করেন, এসব আলোচনা গ্রহণযোগ্য কোনো সমাধানে পৌঁছাবে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিও জানিয়েছেন, আলোচনার একটি কাঠামো ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের কারণে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। দেশটির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পাঠানো হয়েছে এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা আরব সাগরে সক্রিয় রয়েছে। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা ভয় পায় না এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত।

বিবিসি জানিয়েছে, ইরান রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী সরাসরি গোলাবর্ষণসহ নৌ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অতীতে ইরান হুমকি দিয়েছিল, হামলা হলে তারা এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সেখানে ‘অসুরক্ষিত ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে শনিবার ইরানে ঘটে যাওয়া দুটি বিস্ফোরণে দেশজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। দেশটির বন্দর আব্বাসে এক ভবনে গ্যাস লিকজনিত বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। আর আহভাজ শহরে আরেক বিস্ফোরণে অন্তত চারজন মারা গেছেন। সরকার বলছে, দুটিই দুর্ঘটনা।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে খামেনি বলেছেন—নিরাপত্তা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে একটি ‘অভ্যুত্থান’ ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল, যা দমন করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি করে আসছে, সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন—যা ইরান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কারাগারে প্রথম ‘সেক্স রুম’ চালু করল ইতালি

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার

ইরানে হামলা হতে পারে আজই, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সতর্ক করেছেন ট্রাম্প

বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বাড়াল ভারত

‘সব খারিজ হবে, তুই খালি টাকা পাঠাবি’, ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত