
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন নীরব ইসরায়েল। চলতি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানানো ছাড়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে খুব একটা কিছু বলেননি। তাঁর সরকারও একই অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই ইসরায়েলের কৌশল। দেশটির নেতৃত্ব এখন ইরানে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ দেখছে; আর সেই লক্ষ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা এবং বর্তমানে ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, নেতানিয়াহুর কাছে এটি একধরনের ‘সোনালি মুহূর্ত’। পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এত শক্তি মোতায়েন, আর ট্রাম্পের ইরান আক্রমণের খুব কাছাকাছি থাকা—এ সুযোগ তিনি হারাতে চান না।
ইসরায়েলের সাবেক সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপপরিচালক আসাফ কোহেনও মনে করেন, নীরবতার পেছনে পরিষ্কার কৌশল আছে। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েলি নেতৃত্ব বিশ্বাস করে, এবার আমেরিকানদের সামনে এগোতে দেওয়া উচিত। তারা শক্তিশালী, তাদের সক্ষমতা বেশি এবং আন্তর্জাতিক বৈধতাও অনেক বেশি।
ইরানকে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখেন নেতানিয়াহু। প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নীরব সমন্বয় অব্যাহত আছে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান শ্লোমি বাইন্ডার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই আলোচনায় ইরানে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়েই কথা হয়েছে।
সিত্রিনোভিচের দাবি, নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সর্বোচ্চ মাত্রার হামলার’ দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, যার লক্ষ্য ইরানে সরকার পরিবর্তন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু মনে করেন, আগের পরিকল্পিত হামলাগুলো ছিল খুবই সীমিত। তাঁর দৃষ্টিতে, ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি বন্ধ করতে হলে সরকার পরিবর্তন ছাড়া উপায় নেই; আর সেটা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই সম্ভব।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তেহরানে সরকার পরিবর্তন হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহসহ ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোও দুর্বল হবে।
ইসরায়েলের সংসদের প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্য ও বিরোধী ইয়েশ আতিদ দলের নেতা মোশে তুর-পাজ বলেন, ‘যখন আপনি চরম অশুভ শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করেন, তখন সীমিত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। ইরানের মতো শত্রুর প্রশ্নে আমাদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই—সবাই হুমকিটা বোঝে।’
মোশে তুর-পাজের মতে, সীমিত হামলা বা নতুন কোনো চুক্তি হলে বর্তমান সরকার টিকে যাবে, যা ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে সরকার পরিবর্তনের ঝুঁকিও কম নয়। গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইসরায়েলের দিকে। তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে আঘাতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত পুনর্গঠন করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তেল আবিবে ‘তাৎক্ষণিক ও নজিরবিহীন’ প্রতিক্রিয়া আসবে।
সিত্রিনোভিচ বলেন, নেতানিয়াহুর ভয়, আবার যদি হামলা আসে, কিন্তু সরকার না বদলায়, তাহলে ইসরায়েলকে শুধু আঘাত সহ্য করেই যেতে হবে। তাই তাঁর ধারণা, ঝুঁকি নিয়েও সরকার পরিবর্তনই একমাত্র পথ।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হওয়া, আঞ্চলিক প্রভাব কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ—এই সব মিলিয়ে অনেক ইসরায়েলি বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি ‘এখনই বা কখনোই নয়’ ধরনের মুহূর্ত।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—সরকার বদলালে ইরানকে কে চালাবে? বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শুধু আকাশপথের হামলা দিয়ে সাধারণত কোনো সরকার পতন হয় না। আর একটি গৃহযুদ্ধ শুধু ইরান নয়, গোটা অঞ্চলকেই অস্থির করে তুলতে পারে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইসরায়েলের দৃষ্টি এখন ওয়াশিংটনের দিকে, বিশেষ করে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ, ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ইরানে সরকার পরিবর্তনের চাবিকাঠি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই।
বিবিসি থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

জার্মানিতে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে—‘জার্মানরা আলু ভালোবাসে।’ পরিসংখ্যানও বলছে, গড়ে একজন জার্মান বছরে ৬৩ কেজি আলু খান। কিন্তু এবারের ফলন সেই ভালোবাসার সীমাও ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলন হওয়ায় বার্লিনে শুরু হয়েছে কার্টফেল-ফ্লুট বা আলুর বন্যা।
১২ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত বহুল আলোচিত এপস্টেইন ফাইলে পাওয়া একটি ই-মেইলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির নাম উঠে এসেছে। ই-মেইলটিতে আইসিডিডিআরবিকে বাংলাদেশে একটি ‘অতি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রোবায়োটিক
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে এটি শুধু দ্বিপক্ষীয় সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
২ ঘণ্টা আগে
চাবাহার প্রকল্পে ভারতের সম্পৃক্ততা দুই দশকেরও বেশি পুরোনো। ২০০২ সালে তৎকালীন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হাসান রুহানি এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্রের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরের বছর ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ মোহাম্মদ খাতামির ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী অটল
৩ ঘণ্টা আগে