Ajker Patrika

ফিলিস্তিনের বিশ্বখ্যাত জলপাই তেল গেল কোথায়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ফিলিস্তিনের বিশ্বখ্যাত জলপাই তেল গেল কোথায়
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটে ফিলিস্তিনি জলপাই তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পেছনে রয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া, ইসরায়েলি দখলনীতি, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং পশ্চিম তীরে চলমান অস্থিরতা। ফলে ফিলিস্তিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য ও রপ্তানি খাত ভয়াবহ সংকটে পড়েছে।

পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে রোববার (১৯ জুলাই) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ উল্লেখ করেছে—অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরুজালেমের দক্ষিণে বেইত জালার কৃষক কামাল মুকারকারের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম জলপাই চাষের সঙ্গে যুক্ত। একসময় জলপাই তেল বিক্রির আয়েই তাদের সংসার চলত। কিন্তু এবার তিনি বলছেন, ২০০৯ সালের পর এটিই সবচেয়ে খারাপ মৌসুম। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে জলপাই উৎপাদন ৭০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

গাজা যুদ্ধের পর পশ্চিম তীরের অনেক মানুষ, যারা আগে ইসরায়েলে কাজ করতেন, জীবিকার অভাবে আবার কৃষিতে ফিরে এসেছেন। কিন্তু কৃষিতেও তারা প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছেন না। মুকারকার জানান, গত দুই বছরের আবহাওয়া ছিল ‘দুর্যোগ’, আর সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে সহিংসতা ও দখলনীতি।

এদিকে মুকারকারের পরিবারের ৩০ শতাংশ জমি ইসরায়েলের বিভাজন প্রাচীর নির্মাণের সময়ই হারিয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া আশপাশের ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং নতুন আউটপোস্ট স্থাপনের ফলে অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে নিরাপদে যেতে পারছেন না। গত বছরের ফসল সংগ্রহের সময়ও হামলার আশঙ্কায় অনেকে জলপাই তুলতেই যাননি।

ফিলিস্তিনি অলিভ অয়েল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাইয়াদ ফাইয়াদের মতে, গত বছর ফিলিস্তিনে জলপাই তেলের উৎপাদন স্বাভাবিক গড়ের মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমে আসে। উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৭ হাজার টন, অথচ পশ্চিম তীরের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদাই অন্তত ১৩ হাজার টন। ফলে রপ্তানির জন্য কার্যত কোনো উদ্বৃত্ত তেল অবশিষ্ট নেই।

স্বাভাবিক সময়ে ফিলিস্তিনের প্রায় ৪ হাজার টন জলপাই তেল উপসাগরীয় দেশগুলোতে, ১ হাজার টন জর্ডানে এবং আরও ২ হাজার টন বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু এবার সেই রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ফাইয়াদ জানান, জলপাই তেল ফিলিস্তিনের কৃষি খাতের মোট আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ জোগান দেয়। প্রায় ৭০ হাজার জলপাই বাগানের মালিক এবং পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত আরও প্রায় ৩০ হাজার পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ প্রায় এক লাখ পরিবারের জীবিকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জলপাই তেলের সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, গত মৌসুমে প্রায় ২০ শতাংশ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বা বাধার কারণে কৃষকেরা নিজেদের জমিতে প্রবেশ করতে পারেননি। ইসরায়েলি বসতির কাছাকাছি হওয়ায় ৩১ হাজার একরেরও বেশি জমি কার্যত ফিলিস্তিনি মালিকদের নাগালের বাইরে রয়েছে।

তবে চলতি বছরে ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। কিন্তু কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও সহিংসতা ও জমিতে প্রবেশের বাধা অব্যাহত থাকলে সেই আশাও বাস্তবায়িত হবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত