Ajker Patrika

বন্যায় ভেসে গেল লাখো গণেশমূর্তি, উৎসবের আগে বিপর্যয় ভারতে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৬: ৪৫
বন্যায় ভেসে গেল লাখো গণেশমূর্তি, উৎসবের আগে বিপর্যয় ভারতে
ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব গণেশ চতুর্থী। ছবি: বিবিসি

ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব গণেশ চতুর্থীকে সামনে রেখে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার হাজারো মৃৎশিল্পীর জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্যোগ। অস্বাভাবিক বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ গণেশমূর্তি, কাঁচামাল এবং কর্মশালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের কয়েক মাসের শ্রম মুহূর্তেই পানিতে ভেসে গেছে। এতে শুধু উৎসবের প্রস্তুতিই ব্যাহত হয়নি, বিপন্ন হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবারের জীবিকা।

পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে রোববার (১৯ জুলাই) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়—রায়গড়ের ভাস্কর দিলীপ মাটরের কর্মশালায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা মাটির মূর্তির স্তূপ। ছয় মাসের নিরলস পরিশ্রমে তৈরি প্রায় ৫০০টি গণেশমূর্তি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হওয়ার কথা ছিল। প্রায় আট লাখ রুপির এসব মূর্তি বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু মূর্তি নয়, ছাঁচ ও কাঁচামালও হারিয়েছেন তিনি। এখন অগ্রিম নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে ঋণ নেওয়ার কথাও ভাবছেন।

প্রতিবছর গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে লাখো পরিবার ও সামাজিক সংগঠন গণেশের মাটির মূর্তি স্থাপন করে পূজা শেষে তা জলাশয়ে বিসর্জন দেয়। এসব মূর্তির বড় অংশই তৈরি হয় রায়গড়ে। প্রায় ২০ হাজার মৃৎশিল্পালয়ে বছরে প্রায় ৮০ লাখ মূর্তি তৈরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি। এই শিল্পে মৌসুমি কর্মসংস্থান হয় প্রায় দেড় লাখ মানুষের।

কিন্তু এবারের বন্যায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গণেশমূর্তি নির্মাতা সংগঠনের সভাপতি শচীন পাতিল জানান, ভারী বর্ষণে জেলায় প্রায় ১০ লাখ মূর্তি এবং ৩ হাজারের মতো মৃৎশিল্পালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিচ্ছে এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে রায়গড়ে ৫৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা গত বছরের পুরো জুলাই মাসের বৃষ্টিপাতের প্রায় সমান। অতিবৃষ্টিতে নদী ও নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় কারুশিল্পীরা জানান, বর্ষাকালে প্লাস্টিকের আচ্ছাদন ও উঁচু মঞ্চ ব্যবহার করে তাঁরা সাধারণত মূর্তিগুলো রক্ষা করেন। কিন্তু এবার কয়েক দিন ধরে টানা বর্ষণ ও প্রবল বাতাসে সেই প্রতিরক্ষা একেবারেই ব্যর্থ হয়েছে। অনেকের কাঁচামাল, প্লাস্টার অব প্যারিস ও ছাঁচ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে উৎপাদন শুরু করাও সম্ভব হচ্ছে না।

বিবিসি আরও জানায়, বন্যার প্রভাব শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত অনেক চালানও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পীরা ভবিষ্যতে স্থায়ী প্লাস্টিকের ছাউনি নির্মাণ, উঁচু প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস পেলে মূর্তি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

তবে আপাতত তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য—যা কিছু বাঁচানো সম্ভব, তা রক্ষা করা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকিয়ে রাখা এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত