Ajker Patrika

ইউক্রেনের ৩ স্থানে হামলার পরিকল্পনা ছিল ইরানের, কিয়েভ ‘ক্ষমা চাওয়ায়’ বাতিল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইউক্রেনের ৩ স্থানে হামলার পরিকল্পনা ছিল ইরানের, কিয়েভ ‘ক্ষমা চাওয়ায়’ বাতিল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধে ইরান প্রায়ই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করেছে। ছবি: আনাদোলু

ইউক্রেনের তিনটি স্থানে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেছিল ইরান। তেহরানের দাবি, কিয়েভ ‘ক্ষমা চাওয়ার’ পরই কেবল এই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত পথের বাইরে কোনো নৌযান চলাচল করলে তা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী।

তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা বলেছেন, ইউক্রেনের তিনটি স্থানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান। তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে ‘ক্ষমা চাওয়ার’ পর সেই অভিযান বাতিল করা হয়।

গতকাল সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজায়ী বলেন, হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পন্ন করেছিল। পরে অভিযানটি বাতিল করা হয়। রেজায়ী সতর্ক করে বলেন, ইরানের নির্ধারিত পথের বাইরে হরমুজ প্রণালিতে কোনো নৌপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কোনো শত্রু নৌযান ‘অবৈধ পথ’ ব্যবহার করার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে ইরান মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যগুলো ব্যর্থ করে দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

রেজায়ীর এসব বক্তব্যের আগে, গত ২৫ জুলাই ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তোলে। ওই হামলায় জাহাজটির একজন নাবিক নিহত হন বলে ইরান জানায়। পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ওই হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে কিয়েভের প্রতি আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায় এবং ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে লক্ষ্য করে হামলা করে।

এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষর করে। এর লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে গত মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত