
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিকে ঘিরে ইরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন—যদি ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হবে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অশালীন ভাষায় লেখা—‘মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে, আর ব্রিজ ডে’ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের এই হুমকিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিলেও সাধারণ মানুষের মনে তা বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যেও যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি কয়েকজন ইরানির সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ইরানিদের সবাই দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধী।
তেহরানে বসবাসকারী বিশ-এর কোঠার তরুণ কাসরা বলেছেন, ‘আমরা যেন ধীরে ধীরে এক জলাভূমিতে ডুবে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের কিছুই করার নেই। আমি ভাবি—এক মাস পর হয়তো আমরা পানিও পাব না, বিদ্যুৎও থাকবে না, শুধু অন্ধকারে বসে থাকব।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে স্বাভাবিক পরিস্থিতির চিত্র দেখানো হলেও বাস্তবে অনেকেই বাড়ির মধ্যে খাদ্য ও পানির মজুত করছেন। তেহরানের তরুণী মিনা বলেন, ‘আমার মা ঘরের সব বোতল পানি দিয়ে ভরে ফেলছেন। আমরা কী করব জানি না। এখন অনেকেই বুঝতে পারছে ট্রাম্প আমাদের নিয়ে মোটেও ভাবেন না।’
গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ট্রাম্প সমর্থনের কথা বললেও পরে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের সময় তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছিল।
তবে ইরানের ভেতরে মতভেদও রয়েছে। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে সমর্থন করলেও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলাকে ‘লাল দাগ’ হিসেবে দেখছেন। কারাজ শহরের আরমান বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মানে পুরো দেশ অচল হয়ে যাওয়া। এতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে।’
অন্যদিকে তেহরানের রাদিন মনে করেন, যে কোনো হামলাই যদি বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়, তবে তা মেনে নেওয়া যেতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘এই সরকার টিকে গেলে তা চিরস্থায়ী হয়ে যাবে।’
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নির্মাণ প্রকৌশলী বাহমান বলেছেন, ‘এখন আর কোনো কাজ নেই। ছোট ছোট কোম্পানিগুলো কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে।’ তেহরানের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী জামশিদ জানান, তাঁর ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মাসে প্রায় ২০ কোটি তুমান ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি দিশেহারা।
ইন্টারনেট ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। অনেকেই গোপনে স্টারলিংক ব্যবহার করছেন, যদিও এটি ব্যবহারের জন্য কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। টেলিগ্রামে ১ জিবি ডাটা প্রায় ৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
তেহরানের মারজান বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। এত টাকা দিয়ে ইন্টারনেট কিনেও লাভ নেই, যদি বিদ্যুৎই না থাকে। আজ তিনবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক উত্তেজনা, সম্ভাব্য সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষ এক গভীর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চাইলে এক রাতেই ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব এবং সেই রাতটি মঙ্গলবারও হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
৫ মিনিট আগে
মিয়ানমারের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার আদালতে গণহত্যার মামলা করা হয়েছে। রোহিঙ্গা গণহত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গতকাল সোমবার ইন্দোনেশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ মামলা করা হয়। ইয়াসমিন উল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং ইন্দোনেশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ
২৪ মিনিট আগে
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ২১টি সামরিক বিমান শত্রুদের আকাশসীমায় পাঠিয়েছিল। অনেক বিমান নিচ দিয়ে উড়ছিল এবং সেগুলোতে গুলি লাগছিল। দিনের আলোতে টানা সাত ঘণ্টা ইরানে এই অভিযান চালানো হয়। কিছু জায়গায় আমাদের সেনারা শত্রুপক্ষের ভারী গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হয়েছে।’
৩৩ মিনিট আগে
ইরানের তেল নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি এখন আমাদের দখলের অপেক্ষায় আছে, এটি নিয়ে তাদের (ইরান) কিছুই করার নেই। দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকান জনগণ চায়, আমরা বাড়ি ফিরে যাই। যদি এটি আমার ওপর নির্ভর করত, আমি ইরানের তেল নিতাম।
২ ঘণ্টা আগে