Ajker Patrika

টানা নবম রাতের মতো ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
টানা নবম রাতের মতো ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ইরানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ছবি: সেন্টকম

টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার দিবাগত রাতে সিরিক, জাস্ক, তাবরিজ ও চাবাহারসহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের তৃতীয় সেনাসদস্যের মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক মাস আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান সংঘাতের মধ্যে কার্যত ভেঙে পড়ছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য ছিল ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর ও ইমাম খোমেইনি বন্দরনগরীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ উপকূলবর্তী হরমোজগান প্রদেশের সিরিক ও জাস্ক শহরের কাছে এবং বুশেহর প্রদেশের খভোরমুজ শহরের আশপাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আইআরআইবি আরও জানায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবরিজ শহরের কাছে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অন্যদিকে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের কোনারাক ও চাবাহার শহরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। রাজধানী তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানান, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় আবারও ইরানের দক্ষিণ উপকূলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাবরিজে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত হলে, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা শুরুর পর এটিই হবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরটিতে প্রথম হামলা।

আসাদি বলেন, ‘আমরা আবারও গোলাগুলি ও পাল্টা হামলার আরেকটি রাত পার করছি।’ তিনি জানান, ইরানি পক্ষও পাল্টা হামলার প্রস্তুতির কথা বলছে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে তিনি বলেন, লোরেস্তান প্রদেশ থেকে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর আগে কুয়েত জানায়, তারা ‘শত্রুতাপূর্ণ ড্রোন হুমকির’ মোকাবিলা করেছে। রোববার দ্বিতীয়বারের মতো বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। জর্ডানেও সাইরেন বাজলে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

কুয়েত সরকার জানায়, রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে হামলা হয়েছে, যাতে আগুন লেগে যায়। তাদের দাবি, এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা। এ দিকে সমুদ্রপথে উত্তেজনাও বেড়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকেই তারা লক্ষ্যবস্তু করছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চারটি জাহাজ তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ‘অনিরাপদ পথ’ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। এর মধ্যে দুটি জাহাজ ফিরে যায়, আর বাকি দুটি একটি ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি আইআরজিসি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে এবং আরেকটি জাহাজ অচল করে দিয়েছে, যাতে তাদের ঘোষিত নৌ অবরোধের ‘পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন’ নিশ্চিত করা যায়। সেন্টকম আরও জানায়, শনিবার উত্তর ইরাকে ইরানের একটি ভূপাতিত ড্রোনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করার সময় একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। এছাড়া শুক্রবার জর্ডানে ইরানের প্রাণঘাতী হামলার স্থানে ‘অজ্ঞাত পরিচয়ের মানবদেহের অবশিষ্টাংশ’ পাওয়া গেছে এবং সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

শুক্রবারের ওই হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আরেকজন সেনাকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ এই মৃত্যুর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। এছাড়া ৪২০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তীব্র হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত