
রাশিয়ার তৈরি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ইরানে পৌঁছেছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আবুলফজল জোহরেবান্দ গত মঙ্গলবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব যুদ্ধবিমান আনা হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও উন্নত সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান আসবে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীন থেকে বিপুলসংখ্যক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবরে বলা হয়েছে, জোহরেবান্দ জানিয়েছেন, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলো এখন শিরাজে অবস্থান করছে। অন্যদিকে রাশিয়ার সুখোই সু-৩৫ যুদ্ধবিমানও ইরানের পথে আছে।
জোহরেবান্দ আরও জানান, চীনের তৈরি এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও রাশিয়ার এস-৪০০ সিস্টেমও বিপুল পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, মিগ-২৯-এর এই সরবরাহ স্বল্পমেয়াদি সমাধান। দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের ভরসা হবে রাশিয়ার সু-৩৫ যুদ্ধবিমান ও চীনের এইচকিউ-৯ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
ইরানের এই আইনপ্রণেতা নিশ্চিত করেছেন, চীনের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এইচকিউ-৯ ইতিমধ্যে ‘বড় সংখ্যায়’ সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি এটি প্রমাণ করছে, ইরানের সামরিক অবস্থান জোরদারে চীনের ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে।
এই অস্ত্র সংগ্রহের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি সিরিয়ায় ইরানি অবস্থানে ইসরায়েলের হামলা বেড়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষও ঘটেছে। এর ফলে দ্রুত প্রতিরক্ষা জোরদারের তাগিদে নেমেছে তেহরান। বিশেষ করে, তারা এমন ব্যবস্থা চাইছে, যা তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও আকাশ প্রতিরক্ষাকে টিকিয়ে রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান আর চীনের এইচকিউ-৯ একসঙ্গে হাতে আসায় ইরান স্বল্প থেকে দূরপাল্লার একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ছাতা পাচ্ছে। এতে প্রতিপক্ষের আক্রমণের পরিকল্পনা জটিল হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ইরান দূরের আকাশ পর্যন্ত রাডার নজরদারি চালাতে পারবে।
তবে রাশিয়া বা চীন—কেউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ইরান বহুদিন ধরে তাদের পুরোনো বিমানবাহিনী আধুনিক করার চেষ্টা করছে। এখনো তাদের ভরসা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা যুদ্ধবিমান, কিছু রাশিয়ান জেট আর স্থানীয়ভাবে উন্নত করা সীমিতসংখ্যক বিমান।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রথম ধাপে সুখোই সু-৩৫ ইরানের হাতে এসেছে। তবে কতগুলো কার্যকরভাবে চালু আছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ৫০টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান চাইছে। কিন্তু সরবরাহ ধীরগতিতে হচ্ছে, কারণ, রাশিয়ারই ইউক্রেনে এসব বিমানের প্রয়োজন পড়ছে।
যদি সু-৩৫ সরবরাহ অব্যাহত থাকে, তবে ১৯৭৯ সালের পর থেকে এটিই হবে ইরানের বিমানবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তিবৃদ্ধি। বহুমুখী এই যুদ্ধবিমানগুলো ইরানকে প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবাহিনীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা দেবে।
এ ছাড়া রাশিয়া ও চীন—দুই দিক থেকে সমানভাবে অস্ত্র কিনে ইরান নিজেদের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ করছে। এতে তারা কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকছে না। একই সঙ্গে বার্তা দিচ্ছে, ইউরেশিয়ান প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হতে চায় তারা।
ইরানের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন করে জোর দেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ, চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির শেষ রাশিয়ান আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৩০০ ধ্বংস হয়ে গেছে। ২০১৬ সালে রাশিয়া থেকে চার ব্যাটালিয়ন এস-৩০০ কিনেছিল ইরান।

শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও উন্নয়নের দাবিতে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্সের স্কুলশিক্ষার্থীরা। তাদের এই আন্দোলন রূপ নিয়েছে দেশব্যাপী বিক্ষোভে। স্কুলশিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার দেশটিতে বড় ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন—এমন অভিযোগ এনে ৬০০ জনকে তথাকথিত ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে আবার ১৫০ জনকে গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
রোমানিয়ার জলসীমার বাইরে কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের মালিকানাধীন একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুজন নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন ভারতীয় নাগরিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দিল্লির পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় (কেপি) পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারকে ঘিরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রদেশটির মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। চলমান তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে কেপি সরকার সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ তুলে প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি বিবেচনা করছে ইসলামাবাদ।
৩ ঘণ্টা আগে