Ajker Patrika

বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিল হুতিরা, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৫৭
বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিল হুতিরা, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ছবি: এএফপি

লোহিতসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর মধ্যবর্তী পেরিম দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী স্থানটি থেকে পিছু হটার পর এখন হুতি যোদ্ধারা প্রণালির উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপে অবস্থান করছেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত সংবেদনশীল এই রুট এখন সম্পূর্ণভাবে হুতিদের অধীনে চলে গেল।

দ্রুত কৌশলগত অগ্রগতি ও সামরিক হামলা

গত সপ্তাহ থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে হুতিরা। একের পর এক জয়ের ধারাবাহিকতায় তারা প্রণালিটির উপকূলবর্তী পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়। হুতিদের এই অগ্রযাত্রার মুখে সৌদি সামরিক জোট পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দেশটির মোখা বিমানবন্দরেও সৌদি জোট দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলা হুতিদের সামনে এগিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পারেনি।

বিশ্বরাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার খবরের পর ইয়েমেনের এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। লোহিতসাগর হয়ে সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাব আল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে, বিশ্বের অন্যতম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হুতিদের এই দখলের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম (ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে।

চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি এএফপিকে বলেন, সৌদি আরব যুদ্ধ এড়ানোর সব চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি এখন হাতের বাইরে চলে গেছে। হুতিরা সব সীমা অতিক্রম করেছে এবং এখন ব্যবস্থা না নিলে সৌদি আরবকে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে।

মানবিক সংকট ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগ

এদিকে এক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের ফলে অন্তত ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই যোদ্ধা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মতে, যুদ্ধের তীব্রতায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মোখা বন্দর নগরী থেকে পালিয়ে আসা বাসিন্দারা পরিস্থিতিকে ‘প্রলয়ংকরী’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং পথে ডাকাতদের হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত আঞ্চলিক আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যুক্তরাজ্য নিরাপত্তা পরিষদকে হুতিদের হামলা বন্ধ করে অবিলম্বে শান্তির পথে ফিরে আসার বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর চলতি বছরের জুলাইয়ে হুতি ও সৌদি সামরিক জোটের মধ্যে পুনরায় বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতি ইয়েমেনকে আবারও সেই ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা অতীতে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত