Ajker Patrika

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে দুইবার ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ, সাড়া দেননি ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ২৮
হুতিদের ওপর হামলা চালাতে দুইবার ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ, সাড়া দেননি ট্রাম্প
মুহাম্মদ বিন সালমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী তখন লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব এল–মান্দেবের প্রবেশদ্বারের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক সেই সময়েই এই ফোনকল হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—ট্রাম্প এমবিএসের ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা হুতিরা দখল করে নেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির আরও কাছে চলে গেছে। এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এর পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণও যদি হুতিদের হাতে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির জন্য তেহরান আরও একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার পেতে পারে।

ইয়েমেনে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ে সৌদি আরবকে সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব সফর করেছেন।

সৌদি দূতাবাস ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় জুলাইয়ে। ওই সময় রিয়াদ ইরানের একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। বিমানটিতে হুতিদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তারা সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্য থেকে ইয়েমেনে ফিরছিলেন।

এরপর এমবিএস ট্রাম্পের কাছে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ হামলার জন্য সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প তাকে সমর্থন জানান। এর জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হুমকির মুখে পড়ে। পরে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা বাড়িয়ে দেয়।

জবাবে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য সৌদি আরবের এই অনুরোধ জুলাইয়ের অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তন। ওই সময় রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুতিদের মোকাবিলা করতে পারবে। তবে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় সহায়তা চাইতে শুরু করে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা তাদের সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশ হলো মার্কিন বাহিনীকে ইরান ও হরমুজ প্রণালিতে কেন্দ্রীভূত রাখা এবং আরেকটি সামরিক ফ্রন্ট খোলা এড়িয়ে চলা।

বৃহস্পতিবার হুতিরা উপকূলীয় শহর মোখার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী পিছু হটতে থাকলে এমবিএস ট্রাম্পকে ফোন করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফোনে তিনি পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর এমবিএস আবারও ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরবে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন। তারা সেখানে অ-সামরিক বা নন-কাইনেটিক সহায়তা দিচ্ছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো লোহিত সাগরকে উন্মুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাতের দায়িত্ব আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জোরদার করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে আমরা সৌদি আরব এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত