Ajker Patrika

ফিলিস্তিনিদের পলায়ন ঠেকাতে কারাগারে কুমির ব্যবহার করবে ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২: ০১
ফিলিস্তিনিদের পলায়ন ঠেকাতে কারাগারে কুমির ব্যবহার করবে ইসরায়েল
ইসরায়েলের অফার প্রিজন বা অফার কারাগার। ছবি: আনাদোলু

ফিলিস্তিনি বন্দীদের কারাগার থেকে পলায়ন ঠেকাতে কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে নীল নদের কুমিরের সংরক্ষিত প্রাণীর মর্যাদা বাতিল করেছে ইসরায়েল। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিরাপত্তাজনিত উদ্দেশ্যে কুমির ব্যবহারের আইনি পথ তৈরি হয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার ইসরায়েলের পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান এক ডিক্রিতে নীল নদের কুমিরকে ‘বিশেষভাবে ব্যবস্থাপিত বন্যপ্রাণী’ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করেন। নতুন এই আইনি শ্রেণিবিন্যাসের ফলে রাষ্ট্র নির্দিষ্ট শর্তে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কুমির রাখতে পারবে।

ডিক্রিতে সিলমান উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী এখন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কুমির সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অনুমতি পাবে। ওয়াইনেট জানায়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েক মাস ধরে চাপ দিয়ে আসছিলেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির। গত ডিসেম্বরে তিনি কুমিরবেষ্টিত একটি কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দেন, যেখানে ফিলিস্তিনি বন্দীদের রাখা হবে। ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা বেন-গভির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বিতর্কিত অভিবাসন আটককেন্দ্র অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ থেকে তিনি এ ধারণা পেয়েছেন।

এর আগে ইসরায়েল নেচার অ্যান্ড পার্কস অথরিটির কর্মকর্তারা মত দেন যে, কুমির কেবল শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে রাখা উচিত। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা নেতা দ্রোরিও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে বলেন, এতে পর্যাপ্ত আইনি ও পেশাগত ভিত্তি নেই।

ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস দাবি করেছিল, আক্রমণাত্মক কুকুর সামলানোর অভিজ্ঞতা থাকায় তাদের কর্মীরা কুমিরও পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। তবে দ্রোরি এ যুক্তি নাকচ করে লিখেছেন, ‘ইসরায়েলি প্রিজন সার্ভিস কুমিরের মতো বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী পালনের কোনো বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতা আছে বলে মনে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ হয়নি।

তবে আইন উপদেষ্টার আপত্তি উপেক্ষা করে চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন পরিবেশমন্ত্রী সিলমান। গত বৃহস্পতিবার ফেসবুকে সিদ্ধান্তটি উদযাপন করেন বেন-গাভির। তিনি নিজের হাতে দড়িতে বাঁধা একটি কুমির ধরে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘অভিশপ্ত সন্ত্রাসীরা, পালানোর কথা ভাবছ? আবার ভাবো।’

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর বেন-গাভিরের অধীনে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে আটক ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বন্দীদের ওপর নির্যাতন, অনাহার এবং অপমানজনক আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকটি সংগঠন কিছু আটককেন্দ্রকে ‘নির্যাতন শিবির’ বলেও অভিহিত করেছে।

সিলমানের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইসরায়েল নেচার অ্যান্ড পার্কস অথরিটি এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ বেআইনি এবং এটি কুমির ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে। ইসরায়েল নেচার অ্যান্ড পার্কস অথরিটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা স্থাপনায় কুমির রাখার অনুমতি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পেশাগত ভিত্তি নেই। সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস কুমিরের যথাযথ পরিচর্যা করতে পারবে বলে তাদের বিশ্বাস নেই।

এক যৌথ বিবৃতিতে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো জানায়, তারা পাহারা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের উপায় হিসেবে প্রাণী ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের ভাষ্য, কুমির সংবেদনশীল প্রাণী; তাদের পর্যাপ্ত জায়গা, পানি, উপযুক্ত তাপমাত্রা এবং স্বাভাবিক আচরণের পরিবেশ প্রয়োজন। তাই কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করা উচিত। তারা আরও উল্লেখ করে, শীতকালে কুমিরের বিপাকীয় হার কমে যায়, তারা অত্যন্ত অলস হয়ে পড়ে এবং প্রায় খাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কুমির ব্যবহারের কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ।

এর আগে, ২০১৩ সাল থেকে নীল নদের কুমির ইসরায়েলে সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। তারও আগে দেশটিতে কুমিরের খামারগুলো পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হলেও দর্শনার্থী কমে যাওয়ায় অনেক খামার পরে কুমিরের চামড়ার জন্য প্রজনন শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত বছর অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতিতে অবস্থিত একটি খামারে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২৫০ টিরও বেশি নীল নদের কুমির হত্যা করে। এ ঘটনায় প্রাণীকল্যাণ সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ তোলে, সংরক্ষিত প্রাণীগুলোকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত