Ajker Patrika

মাদুরোকে ধরে নিয়ে গিয়ে কোথায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ২০
নিকোলাস মাদুরোর এই ছবিটি প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিকোলাস মাদুরোর এই ছবিটি প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র গতকাল শনিবার কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায়। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে রাজধানী কারাকাস থেকে ধরে নিয়ে যায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে।

গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মাদুরোকে আটকের দাবি করেন। তিনি জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে ধরে ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার বাইরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্টুয়ার্ট বিমানঘাঁটি থেকে হেলিকপ্টারে করে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন বরোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের র‍্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের পাহারায় মাদুরোকে সেখানকার একটি ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলা এবং দেশটির নেতা নিকোলা মাদুরোর ওপর বড় ধরনের একটি সফল হামলা চালিয়েছে। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দী করা হয়েছে এবং তাঁদের দেশের বাইরে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। আজ বেলা ১১টায় মার-এ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিয়ে আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প।’

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেছেন, মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি অবিলম্বে তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ান বলছে, দেলসি নিকোলা মাদুরোকে বন্দী করার খবরটি ‘নিশ্চিত’ করেছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ’ অবিলম্বে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র কারাকাস, মিরান্ডা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরায় হামলা করেছে। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে মাদুরো সরকার। আজ স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে কারাকাসে কমপক্ষে সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যার সঙ্গে উড়ন্ত যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ব রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘকাল ধরেই টালমাটাল ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদুরো সরকারের সম্পর্ক ছিল চরম বৈরী। যদি ট্রাম্পের এই দাবি সত্য হয়, তবে এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে ওয়াশিংটন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরাতে ইতিবাচক আইসিসি

১২০ বছরে ৩৬ দেশের সরকার উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্র, পরিণতি ভয়াবহ

শীতের সকালে গুলশানের মাদ্রাসায় নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন

বিএনপি প্রার্থীর এনআইডিতে স্নাতক, হলফনামায় এইচএসসি

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন: হুমকিতে চীনের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত