আজকের পত্রিকা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় চীনের স্বার্থ বিপুল। কারাকাসে নিকোলা মাদুরোর প্রশাসন টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে বেইজিং। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ঋণ ও আর্থিক সহায়তায় দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশকে প্রায় ১০৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে চীন। ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে চীনের বিপুল আর্থিক স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মার্কিন সামরিক আগ্রাসনে অপহৃত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও লাতিন আমেরিকাবিষয়ক চীনা দূত কিউ শিয়াওচির সঙ্গে বৈঠক করেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। গতকাল শনিবারের ওই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং এবং সস্ত্রীক মাদুরোর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন ‘আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ মেনে চলতে হবে এবং অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার বহু আগেই চীনের জন্য দরজা খুলে দেয় ভেনেজুয়েলা। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের ‘পেট্রো-সমাজতন্ত্র’ নীতির সময় সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করে চীন। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয় ভেনেজুয়েলা।
ব্রাজিল, চিলি, ভেনেজুয়েলাসহ এই অঞ্চলের বহু দেশ চীনের কাছ থেকে জ্বালানি, অবকাঠামো এমনকি মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় ২০২৪ সালের মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সিইএলএসি নামে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় রাষ্ট্রসমূহের জোটের জন্য ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি দেন। এই জোটের সদস্য ৩৩টি দেশ।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় লাতিন আমেরিকায় বিমানবন্দর, বন্দর ও বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগকে ‘শতাব্দীর সেরা প্রকল্প’ আখ্যা দিয়েছেন সি চিন পিং। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ দিয়েছে চীন।
মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ১৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অঞ্চলটি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ ও সয়াবিন রপ্তানি করে আর চীন রপ্তানি করে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিপণ্য।
২০০৯ সালে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যায় চীন। তা ছাড়া তাইওয়ানকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করাও বেইজিংয়ের অন্যতম লক্ষ্য। এখনো যে ১২টি দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয়, সেগুলোর বেশির ভাগ দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের।
Live: ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ‘ধরে নিয়ে গেল’ যুক্তরাষ্ট্রভেনেজুয়েলা: চীনের বড় জুয়া
চীনের লাতিন আমেরিকা কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। ২০০৬ সালে হুগো শাভেজের শাসনামলে বেইজিং-কারাকাস একাধিক বাণিজ্য চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বেইজিংকে ‘গ্রেট ওয়াল’ আখ্যা দেয় কারাকাস। প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল তেল চীনে রপ্তানির প্রতিশ্রুতি দেয় ভেনেজুয়েলা। বিনিময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য কারাকাসকে সমর্থনের আশ্বাস দেয় বেইজিং।
চীনের অর্থনীতি যখন রূপান্তরিত হয়ে উৎপাদন খাতের বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠছিল, ঠিক সে সময়টায় তেল নিয়ে পাশে দাঁড়ায় ভেনেজুয়েলা। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে তেলের নিট রপ্তানিকারক চীন ১৯৯৩ ও ২০০৮ সালের মধ্যে নিট আমদানিকারকে পরিণত হয়। এ সময় ভেনেজুয়েলা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে ওঠে।
চীন ও শাভেজের মধ্যে গড়ে ওঠা অংশীদারত্বের ফলে বেইজিং ভেনেজুয়েলাকে বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি কলেজের গবেষণাগার এইডডেটার তথ্যানুযায়ী, ২০০৬ সালে চীন ভেনেজুয়েলাকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়, যা পরের বছর বেড়ে ৭০০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
২০০৭ সালে চীন ও ভেনেজুয়েলা যৌথভাবে ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করে। এর মধ্যে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (সিডিবি) থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ এবং কারাকাস সরকারের প্রতিষ্ঠিত এল ফন্দো দে দেসারোইয়ো নাসিওনাল এসএ (ফনডেন) থেকে ২ বিলিয়ন ডলার যোগ করা হয়। এই ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ থেকে চীনে তেল রপ্তানি জামানত হিসেবে রাখা হয়।
দুই বছর পর ওই তহবিলের আকার দ্বিগুণ করে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয় দুই দেশ। এতে সিডিবি থেকে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ এবং আগের চুক্তির মতোই ফনডেন থেকে সমপরিমাণ অর্থ যোগ করা হয়।
যৌথ তহবিল চুক্তির আওতায় পেট্রোলিয়াম বিক্রয় চুক্তিও ছিল, যেখানে পিডিভিএসএ প্রতিদিন অন্তত ১ লাখ ব্যারেল তেল পূর্বনির্ধারিত দামে চায়না অয়েলের কাছে বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেয়। ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের চুক্তি চীনের জন্য সাধারণ ঘটনা।
এইডডেটার তথ্য অনুযায়ী, অন্য চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০১৪ সালে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য পিডিভিএসএকে দেওয়া ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণসুবিধা এবং একই বছরে পরিচালন মূলধনের জন্য রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলোকে দেওয়া আরও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। ২০১৪ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিও ভেঙে পড়ে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চীন ভেনেজুয়েলা সরকারের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ দেয়, যা আবারও পিডিভিএসএর তেল বিক্রির মাধ্যমে জামানত রাখা হয়। অর্থনীতির নাজুক অবস্থা বুঝে ২০১৫ সালে কারাকাসকে দেওয়া প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধের শর্ত আরও শিথিল করে চীন।
মার্কিন ডলারের ঋণ প্রথম ২০০৭ সালে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পুনর্গঠনের ফলে প্রতিদিন চীনে রপ্তানিযোগ্য তেলের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়, যা তখন দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ পরিশোধের সুযোগও দেওয়া হয়।
তবে ২০১৬ সালের পর থেকে চীনের নতুন ঋণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেইজিং ও কারাকাস মূলত বিদ্যমান আর্থিক অঙ্গীকারগুলোর পুনর্গঠনের দিকেই মনোযোগ দেয়। চীনের জন্য ভেনেজুয়েলা এখনো অন্যতম বড় ঋণগ্রহীতা দেশ আর কারাকাসে ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন হলে তা বেইজিংয়ের জন্য বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় চীনের স্বার্থ বিপুল। কারাকাসে নিকোলা মাদুরোর প্রশাসন টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে বেইজিং। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ঋণ ও আর্থিক সহায়তায় দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশকে প্রায় ১০৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে চীন। ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে চীনের বিপুল আর্থিক স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মার্কিন সামরিক আগ্রাসনে অপহৃত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেও লাতিন আমেরিকাবিষয়ক চীনা দূত কিউ শিয়াওচির সঙ্গে বৈঠক করেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। গতকাল শনিবারের ওই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বেইজিং এবং সস্ত্রীক মাদুরোর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন ‘আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ মেনে চলতে হবে এবং অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার বহু আগেই চীনের জন্য দরজা খুলে দেয় ভেনেজুয়েলা। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের ‘পেট্রো-সমাজতন্ত্র’ নীতির সময় সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করে চীন। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয় ভেনেজুয়েলা।
ব্রাজিল, চিলি, ভেনেজুয়েলাসহ এই অঞ্চলের বহু দেশ চীনের কাছ থেকে জ্বালানি, অবকাঠামো এমনকি মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় ২০২৪ সালের মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সিইএলএসি নামে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় রাষ্ট্রসমূহের জোটের জন্য ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি দেন। এই জোটের সদস্য ৩৩টি দেশ।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় লাতিন আমেরিকায় বিমানবন্দর, বন্দর ও বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগকে ‘শতাব্দীর সেরা প্রকল্প’ আখ্যা দিয়েছেন সি চিন পিং। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ দিয়েছে চীন।
মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ১৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অঞ্চলটি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ ও সয়াবিন রপ্তানি করে আর চীন রপ্তানি করে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিপণ্য।
২০০৯ সালে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যায় চীন। তা ছাড়া তাইওয়ানকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করাও বেইজিংয়ের অন্যতম লক্ষ্য। এখনো যে ১২টি দেশ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয়, সেগুলোর বেশির ভাগ দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের।
Live: ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ‘ধরে নিয়ে গেল’ যুক্তরাষ্ট্রভেনেজুয়েলা: চীনের বড় জুয়া
চীনের লাতিন আমেরিকা কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। ২০০৬ সালে হুগো শাভেজের শাসনামলে বেইজিং-কারাকাস একাধিক বাণিজ্য চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বেইজিংকে ‘গ্রেট ওয়াল’ আখ্যা দেয় কারাকাস। প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল তেল চীনে রপ্তানির প্রতিশ্রুতি দেয় ভেনেজুয়েলা। বিনিময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য কারাকাসকে সমর্থনের আশ্বাস দেয় বেইজিং।
চীনের অর্থনীতি যখন রূপান্তরিত হয়ে উৎপাদন খাতের বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠছিল, ঠিক সে সময়টায় তেল নিয়ে পাশে দাঁড়ায় ভেনেজুয়েলা। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে তেলের নিট রপ্তানিকারক চীন ১৯৯৩ ও ২০০৮ সালের মধ্যে নিট আমদানিকারকে পরিণত হয়। এ সময় ভেনেজুয়েলা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে ওঠে।
চীন ও শাভেজের মধ্যে গড়ে ওঠা অংশীদারত্বের ফলে বেইজিং ভেনেজুয়েলাকে বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি কলেজের গবেষণাগার এইডডেটার তথ্যানুযায়ী, ২০০৬ সালে চীন ভেনেজুয়েলাকে ২০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়, যা পরের বছর বেড়ে ৭০০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
২০০৭ সালে চীন ও ভেনেজুয়েলা যৌথভাবে ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করে। এর মধ্যে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (সিডিবি) থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ এবং কারাকাস সরকারের প্রতিষ্ঠিত এল ফন্দো দে দেসারোইয়ো নাসিওনাল এসএ (ফনডেন) থেকে ২ বিলিয়ন ডলার যোগ করা হয়। এই ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ থেকে চীনে তেল রপ্তানি জামানত হিসেবে রাখা হয়।
দুই বছর পর ওই তহবিলের আকার দ্বিগুণ করে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয় দুই দেশ। এতে সিডিবি থেকে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ এবং আগের চুক্তির মতোই ফনডেন থেকে সমপরিমাণ অর্থ যোগ করা হয়।
যৌথ তহবিল চুক্তির আওতায় পেট্রোলিয়াম বিক্রয় চুক্তিও ছিল, যেখানে পিডিভিএসএ প্রতিদিন অন্তত ১ লাখ ব্যারেল তেল পূর্বনির্ধারিত দামে চায়না অয়েলের কাছে বিক্রির প্রতিশ্রুতি দেয়। ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের চুক্তি চীনের জন্য সাধারণ ঘটনা।
এইডডেটার তথ্য অনুযায়ী, অন্য চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০১৪ সালে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য পিডিভিএসএকে দেওয়া ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণসুবিধা এবং একই বছরে পরিচালন মূলধনের জন্য রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলোকে দেওয়া আরও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ। ২০১৪ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিও ভেঙে পড়ে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চীন ভেনেজুয়েলা সরকারের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ দেয়, যা আবারও পিডিভিএসএর তেল বিক্রির মাধ্যমে জামানত রাখা হয়। অর্থনীতির নাজুক অবস্থা বুঝে ২০১৫ সালে কারাকাসকে দেওয়া প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধের শর্ত আরও শিথিল করে চীন।
মার্কিন ডলারের ঋণ প্রথম ২০০৭ সালে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পুনর্গঠনের ফলে প্রতিদিন চীনে রপ্তানিযোগ্য তেলের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়, যা তখন দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ পরিশোধের সুযোগও দেওয়া হয়।
তবে ২০১৬ সালের পর থেকে চীনের নতুন ঋণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেইজিং ও কারাকাস মূলত বিদ্যমান আর্থিক অঙ্গীকারগুলোর পুনর্গঠনের দিকেই মনোযোগ দেয়। চীনের জন্য ভেনেজুয়েলা এখনো অন্যতম বড় ঋণগ্রহীতা দেশ আর কারাকাসে ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন হলে তা বেইজিংয়ের জন্য বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্যচিত্র এখন শুধু দুর্বল তকমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এদের ব্যবসার ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ টিকে থাকা নিয়েই তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। কোম্পানির সঙ্গে সরকারি ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) মেয়াদ শেষ ও নতুন চুক্তির অনিশ্চয়তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ
১৪ ঘণ্টা আগে
ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় নতুন রেকর্ড স্পর্শ করলেও বিশ্ববাজারে ধাক্কা খেয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা, মার্কিন শুল্ক, ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন ব্যয় এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর চাপ বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আয় ১৪ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের রপ্তানি আয়ের সার্বিক
১৪ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেপ্তারের মতো নাটকীয় ঘটনার মধ্যেও তেল উৎপাদনে কোনো পরিবর্তন আনছে না ওপেক প্লাস জোট। গতকাল রোববারের বৈঠকে উৎপাদনে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়েছেন জোটের একাধিক প্রতিন
১৪ ঘণ্টা আগে
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় এবং এ লক্ষ্যে দলের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১৬ ঘণ্টা আগে