
কানাডায় খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সপক্ষে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরবর্তী সময় সেই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় পশ্চিমের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিমের অনেকে দেশেই বিপুলসংখ্যক শিখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য। এখন যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশে প্রভাবশালী কয়েকজন শিখের মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে শিখদের আলাদা রাষ্ট্র খালিস্তান প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন অবতার সিং খন্দ (৩৫)। চলতি বছরের জুনে বার্মিংহামে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘনিষ্ঠজনদের সন্দেহ, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম মিডল্যান্ড পুলিশ বলছে, তারা এ ঘটনা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং সন্দেহজনক কিছু পায়নি। এ ঘটনার পুনঃতদন্তের প্রয়োজন নেই।
তবে ব্রিটিশ শিখরা দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী চাপে থাকার অভিযোগ করে আসছেন। কারণ, ভারত সরকার শিখ ‘চরমপন্থীদের’ দমন করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে বেশ কয়েকবার আহ্বান করেছে।
স্কটল্যান্ডের ডাম্বারটন শহরের বাসিন্দা গুরপ্রীত জোহাল পেশায় আইনজীবী ও শ্রম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়ই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।
ছয় বছর আগে গুরপ্রীতের ভাই জগতার বিয়ে করার জন্য ভারতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন তিনি বিনা বিচার জেলা খাটছেন। জগতার খালিস্তানপন্থী ও শিখ অধিকারকর্মী হিসেবে সুপরিচিত।
জোহালের পরিবার বলে, পাঞ্জাবের রামি মন্ডি নামে একটি শহরে জগতারকে অপরিচিত একটি গাড়িতে জোর করে তোলা হয়। এর পর থেকে জগতার বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের কারাগারেই আছেন।
জগতার জোহাল বলেন, তাঁকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে। কয়েক বছর পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে তাঁর বিচার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
জাস্টিন ট্রুডো ঠিক কাজ করেছেন উল্লেখ করে গুরপ্রীত জোহাল বলেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে যুক্তরাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ বলে, ভারতে জোহালের গ্রেপ্তারের পেছনে ব্রিটিশ সিকিউরিটি এজেন্সির হাত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
জগতারের ঘটনায় ব্রিটিশ শিখ কমিউনিটি ক্ষুব্ধ। এমনকি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং বৈষম্যমূলকভাবে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে জগতার জোহালের মুক্তি চেয়েছে জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ। যুক্তরাজ্য সরকার এ ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
জোহাল বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে নাগরিকদের চেয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জগতার জোহালের মুক্তি দাবি করে কোনো লাভ হবে না, বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, তিনি জোহালের মামলার যত দ্রুত সম্ভব সমাধান দেখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় কর্মকর্তারা প্রায়ই ব্রিটেনে শিখদের তৎপরতার বিষয়টি উত্থাপন করেন।
চলতি বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিখ অধিকার ও খালিস্তানপন্থী বিক্ষোভকারীরা লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারত সরকার বারবার ব্রিটেনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা চরমপন্থীদের দমন করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
১৯৮০-এর দশকে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। পরবর্তী সময় ভারতের সব রাজনৈতিক দল এমন ধারণার তীব্র বিরোধিতা করলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে, সম্প্রতি শিখ প্রবাসীদের মধ্যে আবারও এ আন্দোলনের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে খালিস্তানপন্থীদের সমর্থন শান্তিপূর্ণ তৎপরতায় রূপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা প্রায়ই ভারত-যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে। একে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
২০১৪ সালে লন্ডন সফরকালে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় জেনারেল কুলদীপ সিং ব্রারকে গলায় ও মুখে ছুরিকাঘাত করা হয়। ১৯৮৪ সালে শিখ অধ্যুষিত পাঞ্জাব প্রদেশে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রার অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। শিখ ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র এ স্থান সে সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রধান আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
স্বর্ণ মন্দিরে চালানো সে অভিযানে শত শত শিখ নিহত হন। তাঁদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী থাকলেও বেশির ভাগই ছিলেন তীর্থযাত্রী। এর প্রতিশোধ হিসেবে চার মাস পরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁরই শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন।
সে ঘটনার কিছুটা হলেও প্রভাব আজও শিখদের চেতনায় রয়ে গেছে।
২০১৪ সালে লন্ডনে হামলায় জেনারেল ব্রার বেঁচে যান। তাঁকে হামলাকারীর মধ্যে একজন ব্রিটিশ শিখ, যিনি স্বর্ণ মন্দির অভিযানে তাঁর বাবা ও ভাই হারিয়েছেন। হামলাকারীদের আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সম্প্রতি কয়েক বছরে স্কটল্যান্ডের নাগরিক জগতার জোহালের কারাদণ্ডসহ অনেক ব্রিটিশ শিখই দিল্লির চাপে নিজ দেশে হয়রানি বা জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালে লন্ডন ও মিডল্যান্ডের পাঁচ শিখ নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তাঁদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। শিখ সংগঠনগুলো বলছে, এ অভিযানের বিস্তারিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, এ অভিযানে দিল্লির হাত ছিল।
এদিকে চলতি বছর ব্রিটেনের ধর্মবিশ্বাস ও বিশ্বাসীদের তৎপরতা নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের ফেইথ এনগেজমেন্ট অ্যাডভাইজর কলিন ব্লুম। সেখানে অন্য ধর্মবিশ্বাসের তুলনায় শিখদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে ব্রিটেনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিখরা তাঁদের অবস্থান নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বিগ্নও।
কয়েক বছরের গবেষণা শেষে কলিন ব্লুম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেছেন, শিখদের ‘চরমপন্থী এবং নাশকতামূলক কার্যক্রম’ সামগ্রিকভাবে মুসলিম, চরম ডানপন্থী এবং হিন্দু চরমপন্থীদের চেয়েও বেশি। ব্রিটিশ সরকারের এই প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ বার্তাই দিচ্ছে যে বিশেষ করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে শিখ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তাঁর যে অবস্থান সেটি যথার্থ।
গত মাসে ‘খালিস্তানপন্থী উগ্রবাদ’ মোকাবিলায় নতুন করে ৯৫ হাজার পাউন্ড তহবিল ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কানাডায় খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সপক্ষে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরবর্তী সময় সেই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় পশ্চিমের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিমের অনেকে দেশেই বিপুলসংখ্যক শিখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য। এখন যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশে প্রভাবশালী কয়েকজন শিখের মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে শিখদের আলাদা রাষ্ট্র খালিস্তান প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন অবতার সিং খন্দ (৩৫)। চলতি বছরের জুনে বার্মিংহামে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘনিষ্ঠজনদের সন্দেহ, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম মিডল্যান্ড পুলিশ বলছে, তারা এ ঘটনা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং সন্দেহজনক কিছু পায়নি। এ ঘটনার পুনঃতদন্তের প্রয়োজন নেই।
তবে ব্রিটিশ শিখরা দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী চাপে থাকার অভিযোগ করে আসছেন। কারণ, ভারত সরকার শিখ ‘চরমপন্থীদের’ দমন করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে বেশ কয়েকবার আহ্বান করেছে।
স্কটল্যান্ডের ডাম্বারটন শহরের বাসিন্দা গুরপ্রীত জোহাল পেশায় আইনজীবী ও শ্রম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়ই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।
ছয় বছর আগে গুরপ্রীতের ভাই জগতার বিয়ে করার জন্য ভারতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন তিনি বিনা বিচার জেলা খাটছেন। জগতার খালিস্তানপন্থী ও শিখ অধিকারকর্মী হিসেবে সুপরিচিত।
জোহালের পরিবার বলে, পাঞ্জাবের রামি মন্ডি নামে একটি শহরে জগতারকে অপরিচিত একটি গাড়িতে জোর করে তোলা হয়। এর পর থেকে জগতার বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের কারাগারেই আছেন।
জগতার জোহাল বলেন, তাঁকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে। কয়েক বছর পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে তাঁর বিচার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
জাস্টিন ট্রুডো ঠিক কাজ করেছেন উল্লেখ করে গুরপ্রীত জোহাল বলেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে যুক্তরাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ বলে, ভারতে জোহালের গ্রেপ্তারের পেছনে ব্রিটিশ সিকিউরিটি এজেন্সির হাত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
জগতারের ঘটনায় ব্রিটিশ শিখ কমিউনিটি ক্ষুব্ধ। এমনকি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং বৈষম্যমূলকভাবে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে জগতার জোহালের মুক্তি চেয়েছে জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ। যুক্তরাজ্য সরকার এ ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
জোহাল বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে নাগরিকদের চেয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জগতার জোহালের মুক্তি দাবি করে কোনো লাভ হবে না, বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, তিনি জোহালের মামলার যত দ্রুত সম্ভব সমাধান দেখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় কর্মকর্তারা প্রায়ই ব্রিটেনে শিখদের তৎপরতার বিষয়টি উত্থাপন করেন।
চলতি বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিখ অধিকার ও খালিস্তানপন্থী বিক্ষোভকারীরা লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারত সরকার বারবার ব্রিটেনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা চরমপন্থীদের দমন করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
১৯৮০-এর দশকে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। পরবর্তী সময় ভারতের সব রাজনৈতিক দল এমন ধারণার তীব্র বিরোধিতা করলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে, সম্প্রতি শিখ প্রবাসীদের মধ্যে আবারও এ আন্দোলনের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে খালিস্তানপন্থীদের সমর্থন শান্তিপূর্ণ তৎপরতায় রূপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা প্রায়ই ভারত-যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে। একে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
২০১৪ সালে লন্ডন সফরকালে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় জেনারেল কুলদীপ সিং ব্রারকে গলায় ও মুখে ছুরিকাঘাত করা হয়। ১৯৮৪ সালে শিখ অধ্যুষিত পাঞ্জাব প্রদেশে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রার অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। শিখ ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র এ স্থান সে সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রধান আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
স্বর্ণ মন্দিরে চালানো সে অভিযানে শত শত শিখ নিহত হন। তাঁদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী থাকলেও বেশির ভাগই ছিলেন তীর্থযাত্রী। এর প্রতিশোধ হিসেবে চার মাস পরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁরই শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন।
সে ঘটনার কিছুটা হলেও প্রভাব আজও শিখদের চেতনায় রয়ে গেছে।
২০১৪ সালে লন্ডনে হামলায় জেনারেল ব্রার বেঁচে যান। তাঁকে হামলাকারীর মধ্যে একজন ব্রিটিশ শিখ, যিনি স্বর্ণ মন্দির অভিযানে তাঁর বাবা ও ভাই হারিয়েছেন। হামলাকারীদের আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সম্প্রতি কয়েক বছরে স্কটল্যান্ডের নাগরিক জগতার জোহালের কারাদণ্ডসহ অনেক ব্রিটিশ শিখই দিল্লির চাপে নিজ দেশে হয়রানি বা জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালে লন্ডন ও মিডল্যান্ডের পাঁচ শিখ নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তাঁদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। শিখ সংগঠনগুলো বলছে, এ অভিযানের বিস্তারিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, এ অভিযানে দিল্লির হাত ছিল।
এদিকে চলতি বছর ব্রিটেনের ধর্মবিশ্বাস ও বিশ্বাসীদের তৎপরতা নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের ফেইথ এনগেজমেন্ট অ্যাডভাইজর কলিন ব্লুম। সেখানে অন্য ধর্মবিশ্বাসের তুলনায় শিখদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে ব্রিটেনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিখরা তাঁদের অবস্থান নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বিগ্নও।
কয়েক বছরের গবেষণা শেষে কলিন ব্লুম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেছেন, শিখদের ‘চরমপন্থী এবং নাশকতামূলক কার্যক্রম’ সামগ্রিকভাবে মুসলিম, চরম ডানপন্থী এবং হিন্দু চরমপন্থীদের চেয়েও বেশি। ব্রিটিশ সরকারের এই প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ বার্তাই দিচ্ছে যে বিশেষ করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে শিখ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তাঁর যে অবস্থান সেটি যথার্থ।
গত মাসে ‘খালিস্তানপন্থী উগ্রবাদ’ মোকাবিলায় নতুন করে ৯৫ হাজার পাউন্ড তহবিল ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কানাডায় খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সপক্ষে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরবর্তী সময় সেই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় পশ্চিমের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিমের অনেকে দেশেই বিপুলসংখ্যক শিখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য। এখন যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশে প্রভাবশালী কয়েকজন শিখের মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে শিখদের আলাদা রাষ্ট্র খালিস্তান প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন অবতার সিং খন্দ (৩৫)। চলতি বছরের জুনে বার্মিংহামে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘনিষ্ঠজনদের সন্দেহ, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম মিডল্যান্ড পুলিশ বলছে, তারা এ ঘটনা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং সন্দেহজনক কিছু পায়নি। এ ঘটনার পুনঃতদন্তের প্রয়োজন নেই।
তবে ব্রিটিশ শিখরা দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী চাপে থাকার অভিযোগ করে আসছেন। কারণ, ভারত সরকার শিখ ‘চরমপন্থীদের’ দমন করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে বেশ কয়েকবার আহ্বান করেছে।
স্কটল্যান্ডের ডাম্বারটন শহরের বাসিন্দা গুরপ্রীত জোহাল পেশায় আইনজীবী ও শ্রম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়ই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।
ছয় বছর আগে গুরপ্রীতের ভাই জগতার বিয়ে করার জন্য ভারতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন তিনি বিনা বিচার জেলা খাটছেন। জগতার খালিস্তানপন্থী ও শিখ অধিকারকর্মী হিসেবে সুপরিচিত।
জোহালের পরিবার বলে, পাঞ্জাবের রামি মন্ডি নামে একটি শহরে জগতারকে অপরিচিত একটি গাড়িতে জোর করে তোলা হয়। এর পর থেকে জগতার বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের কারাগারেই আছেন।
জগতার জোহাল বলেন, তাঁকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে। কয়েক বছর পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে তাঁর বিচার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
জাস্টিন ট্রুডো ঠিক কাজ করেছেন উল্লেখ করে গুরপ্রীত জোহাল বলেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে যুক্তরাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ বলে, ভারতে জোহালের গ্রেপ্তারের পেছনে ব্রিটিশ সিকিউরিটি এজেন্সির হাত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
জগতারের ঘটনায় ব্রিটিশ শিখ কমিউনিটি ক্ষুব্ধ। এমনকি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং বৈষম্যমূলকভাবে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে জগতার জোহালের মুক্তি চেয়েছে জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ। যুক্তরাজ্য সরকার এ ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
জোহাল বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে নাগরিকদের চেয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জগতার জোহালের মুক্তি দাবি করে কোনো লাভ হবে না, বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, তিনি জোহালের মামলার যত দ্রুত সম্ভব সমাধান দেখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় কর্মকর্তারা প্রায়ই ব্রিটেনে শিখদের তৎপরতার বিষয়টি উত্থাপন করেন।
চলতি বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিখ অধিকার ও খালিস্তানপন্থী বিক্ষোভকারীরা লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারত সরকার বারবার ব্রিটেনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা চরমপন্থীদের দমন করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
১৯৮০-এর দশকে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। পরবর্তী সময় ভারতের সব রাজনৈতিক দল এমন ধারণার তীব্র বিরোধিতা করলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে, সম্প্রতি শিখ প্রবাসীদের মধ্যে আবারও এ আন্দোলনের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে খালিস্তানপন্থীদের সমর্থন শান্তিপূর্ণ তৎপরতায় রূপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা প্রায়ই ভারত-যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে। একে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
২০১৪ সালে লন্ডন সফরকালে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় জেনারেল কুলদীপ সিং ব্রারকে গলায় ও মুখে ছুরিকাঘাত করা হয়। ১৯৮৪ সালে শিখ অধ্যুষিত পাঞ্জাব প্রদেশে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রার অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। শিখ ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র এ স্থান সে সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রধান আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
স্বর্ণ মন্দিরে চালানো সে অভিযানে শত শত শিখ নিহত হন। তাঁদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী থাকলেও বেশির ভাগই ছিলেন তীর্থযাত্রী। এর প্রতিশোধ হিসেবে চার মাস পরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁরই শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন।
সে ঘটনার কিছুটা হলেও প্রভাব আজও শিখদের চেতনায় রয়ে গেছে।
২০১৪ সালে লন্ডনে হামলায় জেনারেল ব্রার বেঁচে যান। তাঁকে হামলাকারীর মধ্যে একজন ব্রিটিশ শিখ, যিনি স্বর্ণ মন্দির অভিযানে তাঁর বাবা ও ভাই হারিয়েছেন। হামলাকারীদের আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সম্প্রতি কয়েক বছরে স্কটল্যান্ডের নাগরিক জগতার জোহালের কারাদণ্ডসহ অনেক ব্রিটিশ শিখই দিল্লির চাপে নিজ দেশে হয়রানি বা জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালে লন্ডন ও মিডল্যান্ডের পাঁচ শিখ নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তাঁদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। শিখ সংগঠনগুলো বলছে, এ অভিযানের বিস্তারিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, এ অভিযানে দিল্লির হাত ছিল।
এদিকে চলতি বছর ব্রিটেনের ধর্মবিশ্বাস ও বিশ্বাসীদের তৎপরতা নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের ফেইথ এনগেজমেন্ট অ্যাডভাইজর কলিন ব্লুম। সেখানে অন্য ধর্মবিশ্বাসের তুলনায় শিখদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে ব্রিটেনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিখরা তাঁদের অবস্থান নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বিগ্নও।
কয়েক বছরের গবেষণা শেষে কলিন ব্লুম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেছেন, শিখদের ‘চরমপন্থী এবং নাশকতামূলক কার্যক্রম’ সামগ্রিকভাবে মুসলিম, চরম ডানপন্থী এবং হিন্দু চরমপন্থীদের চেয়েও বেশি। ব্রিটিশ সরকারের এই প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ বার্তাই দিচ্ছে যে বিশেষ করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে শিখ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তাঁর যে অবস্থান সেটি যথার্থ।
গত মাসে ‘খালিস্তানপন্থী উগ্রবাদ’ মোকাবিলায় নতুন করে ৯৫ হাজার পাউন্ড তহবিল ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কানাডায় খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সপক্ষে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরবর্তী সময় সেই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় পশ্চিমের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিমের অনেকে দেশেই বিপুলসংখ্যক শিখ অভিবাসী রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য। এখন যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশে প্রভাবশালী কয়েকজন শিখের মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে শিখদের আলাদা রাষ্ট্র খালিস্তান প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন অবতার সিং খন্দ (৩৫)। চলতি বছরের জুনে বার্মিংহামে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘনিষ্ঠজনদের সন্দেহ, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম মিডল্যান্ড পুলিশ বলছে, তারা এ ঘটনা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং সন্দেহজনক কিছু পায়নি। এ ঘটনার পুনঃতদন্তের প্রয়োজন নেই।
তবে ব্রিটিশ শিখরা দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী চাপে থাকার অভিযোগ করে আসছেন। কারণ, ভারত সরকার শিখ ‘চরমপন্থীদের’ দমন করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে বেশ কয়েকবার আহ্বান করেছে।
স্কটল্যান্ডের ডাম্বারটন শহরের বাসিন্দা গুরপ্রীত জোহাল পেশায় আইনজীবী ও শ্রম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়ই তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।
ছয় বছর আগে গুরপ্রীতের ভাই জগতার বিয়ে করার জন্য ভারতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন তিনি বিনা বিচার জেলা খাটছেন। জগতার খালিস্তানপন্থী ও শিখ অধিকারকর্মী হিসেবে সুপরিচিত।
জোহালের পরিবার বলে, পাঞ্জাবের রামি মন্ডি নামে একটি শহরে জগতারকে অপরিচিত একটি গাড়িতে জোর করে তোলা হয়। এর পর থেকে জগতার বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের কারাগারেই আছেন।
জগতার জোহাল বলেন, তাঁকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে। কয়েক বছর পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে তাঁর বিচার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
জাস্টিন ট্রুডো ঠিক কাজ করেছেন উল্লেখ করে গুরপ্রীত জোহাল বলেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে যুক্তরাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ বলে, ভারতে জোহালের গ্রেপ্তারের পেছনে ব্রিটিশ সিকিউরিটি এজেন্সির হাত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
জগতারের ঘটনায় ব্রিটিশ শিখ কমিউনিটি ক্ষুব্ধ। এমনকি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং বৈষম্যমূলকভাবে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে জগতার জোহালের মুক্তি চেয়েছে জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ। যুক্তরাজ্য সরকার এ ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
জোহাল বলেন, ‘মনে হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে নাগরিকদের চেয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জগতার জোহালের মুক্তি দাবি করে কোনো লাভ হবে না, বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, তিনি জোহালের মামলার যত দ্রুত সম্ভব সমাধান দেখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারতীয় কর্মকর্তারা প্রায়ই ব্রিটেনে শিখদের তৎপরতার বিষয়টি উত্থাপন করেন।
চলতি বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিখ অধিকার ও খালিস্তানপন্থী বিক্ষোভকারীরা লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনে ভাঙচুর চালানোর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারত সরকার বারবার ব্রিটেনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা চরমপন্থীদের দমন করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
১৯৮০-এর দশকে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা। পরবর্তী সময় ভারতের সব রাজনৈতিক দল এমন ধারণার তীব্র বিরোধিতা করলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে, সম্প্রতি শিখ প্রবাসীদের মধ্যে আবারও এ আন্দোলনের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে খালিস্তানপন্থীদের সমর্থন শান্তিপূর্ণ তৎপরতায় রূপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা প্রায়ই ভারত-যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে। একে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
২০১৪ সালে লন্ডন সফরকালে অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় জেনারেল কুলদীপ সিং ব্রারকে গলায় ও মুখে ছুরিকাঘাত করা হয়। ১৯৮৪ সালে শিখ অধ্যুষিত পাঞ্জাব প্রদেশে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রার অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে সেনা অভিযানে নেতৃত্ব দেন। শিখ ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র এ স্থান সে সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রধান আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
স্বর্ণ মন্দিরে চালানো সে অভিযানে শত শত শিখ নিহত হন। তাঁদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী থাকলেও বেশির ভাগই ছিলেন তীর্থযাত্রী। এর প্রতিশোধ হিসেবে চার মাস পরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁরই শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন।
সে ঘটনার কিছুটা হলেও প্রভাব আজও শিখদের চেতনায় রয়ে গেছে।
২০১৪ সালে লন্ডনে হামলায় জেনারেল ব্রার বেঁচে যান। তাঁকে হামলাকারীর মধ্যে একজন ব্রিটিশ শিখ, যিনি স্বর্ণ মন্দির অভিযানে তাঁর বাবা ও ভাই হারিয়েছেন। হামলাকারীদের আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সম্প্রতি কয়েক বছরে স্কটল্যান্ডের নাগরিক জগতার জোহালের কারাদণ্ডসহ অনেক ব্রিটিশ শিখই দিল্লির চাপে নিজ দেশে হয়রানি বা জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালে লন্ডন ও মিডল্যান্ডের পাঁচ শিখ নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তাঁদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। শিখ সংগঠনগুলো বলছে, এ অভিযানের বিস্তারিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশের পক্ষ থেকে তল্লাশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ থেকে বোঝা যায়, এ অভিযানে দিল্লির হাত ছিল।
এদিকে চলতি বছর ব্রিটেনের ধর্মবিশ্বাস ও বিশ্বাসীদের তৎপরতা নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের ফেইথ এনগেজমেন্ট অ্যাডভাইজর কলিন ব্লুম। সেখানে অন্য ধর্মবিশ্বাসের তুলনায় শিখদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে ব্রিটেনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিখরা তাঁদের অবস্থান নিয়ে একধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা উদ্বিগ্নও।
কয়েক বছরের গবেষণা শেষে কলিন ব্লুম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলেছেন, শিখদের ‘চরমপন্থী এবং নাশকতামূলক কার্যক্রম’ সামগ্রিকভাবে মুসলিম, চরম ডানপন্থী এবং হিন্দু চরমপন্থীদের চেয়েও বেশি। ব্রিটিশ সরকারের এই প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ বার্তাই দিচ্ছে যে বিশেষ করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে শিখ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তাঁর যে অবস্থান সেটি যথার্থ।
গত মাসে ‘খালিস্তানপন্থী উগ্রবাদ’ মোকাবিলায় নতুন করে ৯৫ হাজার পাউন্ড তহবিল ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ যখন ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তিনি কি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন?
৬ ঘণ্টা আগে
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন
৬ ঘণ্টা আগে
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
৯ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
৯ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ যখন ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তিনি কি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘নো কমেন্ট’ (কোনো মন্তব্য নয়)। কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে তাঁর এই অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো রফাদফা না হলে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফ্রান্স, জার্মানিসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর যে শুল্কের হুমকি তিনি দিয়েছেন, তা থেকে একচুলও নড়বেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এটি করবই, শতভাগ নিশ্চিত থাকেন।’
ইউরোপীয় নেতারা যখন গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সোচ্চার, তখন ট্রাম্প তাঁদের রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের উচিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের দিকে নজর দেওয়া। কারণ, সত্যি বলতে, সেই যুদ্ধ তাদের কোথায় নিয়ে গেছে, তা আপনারা দেখছেন। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে ওদিকেই তাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।’
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরকে লেখা চিঠি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের ওপর নরওয়ে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি বলেন, নরওয়ে এই পুরস্কার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে, তারা মুখে যা-ই বলুক না কেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর নোবেল না পাওয়ায় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। তবে নরওয়ে সরকার বরাবরই বলে আসছে, নোবেল কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
এদিকে আজ সোমবার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, যেহেতু তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়নি, তাই তিনি আর শান্তির তোয়াক্কা করবেন না। এখন থেকে তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কথাই ভাববেন। আর সেই স্বার্থেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় ওয়াশিংটন। নরওয়ের সংবাদমাধ্যম ভিজিকে চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর।

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ যখন ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তিনি কি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘নো কমেন্ট’ (কোনো মন্তব্য নয়)। কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে তাঁর এই অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো রফাদফা না হলে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফ্রান্স, জার্মানিসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর যে শুল্কের হুমকি তিনি দিয়েছেন, তা থেকে একচুলও নড়বেন না। তিনি বলেন, ‘আমি এটি করবই, শতভাগ নিশ্চিত থাকেন।’
ইউরোপীয় নেতারা যখন গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সোচ্চার, তখন ট্রাম্প তাঁদের রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের উচিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের দিকে নজর দেওয়া। কারণ, সত্যি বলতে, সেই যুদ্ধ তাদের কোথায় নিয়ে গেছে, তা আপনারা দেখছেন। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে ওদিকেই তাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।’
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরকে লেখা চিঠি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের ওপর নরওয়ে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি বলেন, নরওয়ে এই পুরস্কার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে, তারা মুখে যা-ই বলুক না কেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর নোবেল না পাওয়ায় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। তবে নরওয়ে সরকার বরাবরই বলে আসছে, নোবেল কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
এদিকে আজ সোমবার নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, যেহেতু তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়নি, তাই তিনি আর শান্তির তোয়াক্কা করবেন না। এখন থেকে তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কথাই ভাববেন। আর সেই স্বার্থেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় ওয়াশিংটন। নরওয়ের সংবাদমাধ্যম ভিজিকে চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর।

কানাডায় খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সপক্ষে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরবর্তী সময় সেই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় পশ্চিমের সঙ্গে ভার
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন
৬ ঘণ্টা আগে
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
৯ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
৯ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

সিরিয়ার আল-রোজ ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা আইএসপত্নী শামীমা বেগম এখন মুক্তির দ্বারপ্রান্তে, তবে তা কোনো আইনিপ্রক্রিয়ায় নয়, বরং যুদ্ধের ডামাডোলে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ তাদের নিয়ন্ত্রিত রাকা ও দেইর আল-জোর প্রদেশ থেকে পিছু হটায় সেখানকার কারাগার ও ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের মধ্যে চুক্তি হলেও আজ সোমবার রাকার তিনটি প্রধান কারাগারের কাছে ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই তিন কারাগার হলো আল-আকতান, দেইর আল-জোর ও আল-শাদ্দাদি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন।
ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইতিমধ্যে আল-আকতান ও দেইর আল-জোর কারাগার থেকে বেশ কয়েকজন জঙ্গি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরাক তাদের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আইএসের বন্দিশিবিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সহিংস লড়াইয়ের মধ্যে সিরিয়ায় আটক থাকা শামীমা বেগমও শিগগির মুক্তি পেতে পারেন। ২৬ বছর বয়সী শামীমা বেগম এক দশকের বেশি আগে পূর্ব লন্ডন ছেড়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-রোজ বন্দিশিবিরে আটক রয়েছেন। আইএসে যোগ দেওয়ার পর ২০১৯ সালে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে যুক্তরাজ্য।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একসময় এই আইএস বন্দিশিবিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের হাতে। কিন্তু চুক্তির পর তারা পিছু হটায় বন্দিশিবিরগুলোর নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একসময় নিজেও জিহাদি যোদ্ধা ছিলেন। পরে রাজনীতিতে আসেন এবং সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অধিকাংশ এলাকা দখলে নিয়ে এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন। কিন্তু এসডিএফ পিছু হটায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এলাকায় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে এই বন্দীরা মুক্ত হয়ে যেতে পারেন।
এ বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, যদি বন্দিশিবিরগুলো ভেঙে পড়ে, তাহলে সেখানে থাকা আইএস জঙ্গিরা বেরিয়ে পড়বে।
এসডিএফ জানিয়েছে, নতুন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোই এই সহিংসতায় জড়িত থাকতে পারে। তারা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছে।
আজ সোমবার আল-আকতানের বাইরে সরকারি সেনাদের কুর্দি বাহিনীর দিকে রকেট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ছুড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে সেনাদের ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে শোনা গেছে এবং পাল্টা গুলিও ছুড়তে দেখা গেছে।

এর আগে গতকাল রোববার দেইর আল-জোর কারাগার থেকে খালি পায়ে বন্দীদের দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের বেশির ভাগই আরব গোত্র বা ফ্রি সিরিয়ান আর্মির হলেও জীবনে মুক্ত হব—এটা ভাবিনি।’
এসডিএফ সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তাহলে তা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসবাদের পথ খুলে দিতে পারে।
এই অঞ্চলের আটককেন্দ্রে ২০ জন ব্রিটিশ নারী, ৪০টি শিশু ও ১০ জন পুরুষ বন্দী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুর্দি কর্মকর্তারা এসব কারাগারকে ‘টাইমবোমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এসডিএফের সঙ্গে আহমেদ আল-শারার চুক্তিতে বলা হয়েছে, আইএস বন্দী ও শিবিরগুলোর পূর্ণ আইনি ও নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন দামাস্কাস নেবে। তবে সরকার বন্দীদের নিয়ে কী করবে—তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে চুক্তির পরেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে এসডিএফ ও শারার সরকার একে অপরকে দোষারোপ করছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন ছেড়ে দুই বন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ার পথে পাড়ি জমান শামীমা বেগম। কয়েক দিন পর তুরস্কের সীমান্ত পার হয়ে সিরিয়ায় রাকার আইএস সদর দপ্তরে পৌঁছান তিনি। সেখানে ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি আইএসে যোগ দেওয়া এক ডাচ্ নাগরিককে বিয়ে করেন। চার বছর পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ার একটি শরণার্থীশিবির থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ একটি ট্রাইব্যুনাল রায় দেন, শামীমা বেগম ‘বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক’। এর প্রতিক্রিয়ায় সে সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়ার পর ফিরে আসা যুক্তরাজ্যের নাগরিক শামীমা বেগম কখনোই বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না। কাজেই তাঁকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না।

সিরিয়ার আল-রোজ ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা আইএসপত্নী শামীমা বেগম এখন মুক্তির দ্বারপ্রান্তে, তবে তা কোনো আইনিপ্রক্রিয়ায় নয়, বরং যুদ্ধের ডামাডোলে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ তাদের নিয়ন্ত্রিত রাকা ও দেইর আল-জোর প্রদেশ থেকে পিছু হটায় সেখানকার কারাগার ও ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের মধ্যে চুক্তি হলেও আজ সোমবার রাকার তিনটি প্রধান কারাগারের কাছে ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই তিন কারাগার হলো আল-আকতান, দেইর আল-জোর ও আল-শাদ্দাদি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন।
ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইতিমধ্যে আল-আকতান ও দেইর আল-জোর কারাগার থেকে বেশ কয়েকজন জঙ্গি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরাক তাদের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আইএসের বন্দিশিবিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সহিংস লড়াইয়ের মধ্যে সিরিয়ায় আটক থাকা শামীমা বেগমও শিগগির মুক্তি পেতে পারেন। ২৬ বছর বয়সী শামীমা বেগম এক দশকের বেশি আগে পূর্ব লন্ডন ছেড়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-রোজ বন্দিশিবিরে আটক রয়েছেন। আইএসে যোগ দেওয়ার পর ২০১৯ সালে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে যুক্তরাজ্য।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একসময় এই আইএস বন্দিশিবিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের হাতে। কিন্তু চুক্তির পর তারা পিছু হটায় বন্দিশিবিরগুলোর নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একসময় নিজেও জিহাদি যোদ্ধা ছিলেন। পরে রাজনীতিতে আসেন এবং সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অধিকাংশ এলাকা দখলে নিয়ে এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন। কিন্তু এসডিএফ পিছু হটায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এলাকায় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে এই বন্দীরা মুক্ত হয়ে যেতে পারেন।
এ বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, যদি বন্দিশিবিরগুলো ভেঙে পড়ে, তাহলে সেখানে থাকা আইএস জঙ্গিরা বেরিয়ে পড়বে।
এসডিএফ জানিয়েছে, নতুন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোই এই সহিংসতায় জড়িত থাকতে পারে। তারা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছে।
আজ সোমবার আল-আকতানের বাইরে সরকারি সেনাদের কুর্দি বাহিনীর দিকে রকেট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ছুড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে সেনাদের ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে শোনা গেছে এবং পাল্টা গুলিও ছুড়তে দেখা গেছে।

এর আগে গতকাল রোববার দেইর আল-জোর কারাগার থেকে খালি পায়ে বন্দীদের দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের বেশির ভাগই আরব গোত্র বা ফ্রি সিরিয়ান আর্মির হলেও জীবনে মুক্ত হব—এটা ভাবিনি।’
এসডিএফ সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তাহলে তা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসবাদের পথ খুলে দিতে পারে।
এই অঞ্চলের আটককেন্দ্রে ২০ জন ব্রিটিশ নারী, ৪০টি শিশু ও ১০ জন পুরুষ বন্দী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুর্দি কর্মকর্তারা এসব কারাগারকে ‘টাইমবোমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এসডিএফের সঙ্গে আহমেদ আল-শারার চুক্তিতে বলা হয়েছে, আইএস বন্দী ও শিবিরগুলোর পূর্ণ আইনি ও নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন দামাস্কাস নেবে। তবে সরকার বন্দীদের নিয়ে কী করবে—তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে চুক্তির পরেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে এসডিএফ ও শারার সরকার একে অপরকে দোষারোপ করছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন ছেড়ে দুই বন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ার পথে পাড়ি জমান শামীমা বেগম। কয়েক দিন পর তুরস্কের সীমান্ত পার হয়ে সিরিয়ায় রাকার আইএস সদর দপ্তরে পৌঁছান তিনি। সেখানে ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি আইএসে যোগ দেওয়া এক ডাচ্ নাগরিককে বিয়ে করেন। চার বছর পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ার একটি শরণার্থীশিবির থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ একটি ট্রাইব্যুনাল রায় দেন, শামীমা বেগম ‘বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক’। এর প্রতিক্রিয়ায় সে সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়ার পর ফিরে আসা যুক্তরাজ্যের নাগরিক শামীমা বেগম কখনোই বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না। কাজেই তাঁকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না।

কানাডায় খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সপক্ষে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরবর্তী সময় সেই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় পশ্চিমের সঙ্গে ভার
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ যখন ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তিনি কি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন?
৬ ঘণ্টা আগে
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
৯ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
৯ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে অন্তত আটটি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, যেহেতু তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়নি, তাই তিনি আর শান্তির তোয়াক্কা করেন না। এখন থেকে তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কথাই ভাববেন। আর সেই স্বার্থেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় ওয়াশিংটন।
আজ সোমবার নরওয়ের সংবাদমাধ্যম ভিজিকে চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর। প্রধানমন্ত্রী স্টোর জানান, গত সপ্তাহে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠানো একটি বার্তার জবাবে ট্রাম্প এই চিঠি লিখেছেন।
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক শ বছর আগে একটি নৌকা সেখানে ভিড়েছিল বলেই তারা এর মালিক হতে পারে না।
ট্রাম্পের দাবি, ডেনমার্ক এই ভূখণ্ডকে রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তাই বিশ্বকে নিরাপদ করতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ জরুরি।
প্রসঙ্গত, গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে মাচাদো নিজের পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন। তবে ট্রাম্প খুশিমনে সেই পদক গ্রহণ করলেও নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পদক হাতবদল হতে পারে, কিন্তু ‘নোবেল লরিয়েট’ খেতাবটি হস্তান্তরযোগ্য নয়। ধারণা করা হচ্ছে, কমিটির এই অনমনীয় অবস্থানই ট্রাম্পকে খেপিয়ে তুলেছে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড বিক্রিতে ডেনমার্ক রাজি না হওয়ায় ও দখলে বাধা দেওয়ায় ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে অন্তত আটটি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, যেহেতু তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়নি, তাই তিনি আর শান্তির তোয়াক্কা করেন না। এখন থেকে তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কথাই ভাববেন। আর সেই স্বার্থেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় ওয়াশিংটন।
আজ সোমবার নরওয়ের সংবাদমাধ্যম ভিজিকে চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর। প্রধানমন্ত্রী স্টোর জানান, গত সপ্তাহে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে পাঠানো একটি বার্তার জবাবে ট্রাম্প এই চিঠি লিখেছেন।
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক শ বছর আগে একটি নৌকা সেখানে ভিড়েছিল বলেই তারা এর মালিক হতে পারে না।
ট্রাম্পের দাবি, ডেনমার্ক এই ভূখণ্ডকে রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। তাই বিশ্বকে নিরাপদ করতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ জরুরি।
প্রসঙ্গত, গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে মাচাদো নিজের পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন। তবে ট্রাম্প খুশিমনে সেই পদক গ্রহণ করলেও নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পদক হাতবদল হতে পারে, কিন্তু ‘নোবেল লরিয়েট’ খেতাবটি হস্তান্তরযোগ্য নয়। ধারণা করা হচ্ছে, কমিটির এই অনমনীয় অবস্থানই ট্রাম্পকে খেপিয়ে তুলেছে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড বিক্রিতে ডেনমার্ক রাজি না হওয়ায় ও দখলে বাধা দেওয়ায় ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

কানাডায় খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সপক্ষে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরবর্তী সময় সেই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় পশ্চিমের সঙ্গে ভার
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ যখন ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তিনি কি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন?
৬ ঘণ্টা আগে
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন
৬ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
৯ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

ব্যয় বৃদ্ধি, করছাড় ও নতুন নিরাপত্তা কৌশলের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। নির্বাচনে সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনে ভোট হবে। গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা।
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তাকাইচি খাদ্যপণ্যে ৮ শতাংশ ভোগকর দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তাঁর দাবি, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, পরিবারের ব্যয়ক্ষমতা বাড়বে এবং পরোক্ষভাবে অন্যান্য খাত থেকে রাজস্ব আদায় বাড়বে।
তবে সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তে বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। এ ঘোষণার প্রভাব পড়েছে আর্থিক বাজারেও। আজ জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার গত ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসমর্থন পেয়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন সেই সমর্থন কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভেতরেও নিজের অবস্থান শক্ত করতে চান তিনি। এ ছাড়া নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করাও তাঁর উদ্দেশ্য।
তাকাইচির সরকার চলতি বছর একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এর আওতায় জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির কয়েক দশক ধরে থাকা ব্যয়ের দ্বিগুণ।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো জরুরি।
আগামী নির্বাচনে তাকাইচির এলডিপি ও ইশিন পার্টির জোটে ২৩৩টি আসন রয়েছে। তাকাইচি জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা।
অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামছে সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স। তারা প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও কোমেইতোকে একত্র করেছে। তাকাইচি এলডিপির নেতৃত্ব নেওয়ার পর কোমেইতো ২৬ বছরের জোট ভেঙে বেরিয়ে আসে। নতুন জোটটির হাতে রয়েছে ১৭২টি আসন।
কান্দা ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জাপানবিষয়ক গবেষক জেফ্রি হল বলেন, এই বিপুল জনপ্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য এখনই হয়তো তাকাইচির সবচেয়ে ভালো সময়। তবে বিরোধীরা একজোট হওয়ায় জয় নিশ্চিত বলা কঠিন।

ব্যয় বৃদ্ধি, করছাড় ও নতুন নিরাপত্তা কৌশলের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। নির্বাচনে সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনে ভোট হবে। গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা।
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তাকাইচি খাদ্যপণ্যে ৮ শতাংশ ভোগকর দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তাঁর দাবি, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, পরিবারের ব্যয়ক্ষমতা বাড়বে এবং পরোক্ষভাবে অন্যান্য খাত থেকে রাজস্ব আদায় বাড়বে।
তবে সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তে বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। এ ঘোষণার প্রভাব পড়েছে আর্থিক বাজারেও। আজ জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার গত ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসমর্থন পেয়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এখন সেই সমর্থন কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভেতরেও নিজের অবস্থান শক্ত করতে চান তিনি। এ ছাড়া নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করাও তাঁর উদ্দেশ্য।
তাকাইচির সরকার চলতি বছর একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এর আওতায় জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির কয়েক দশক ধরে থাকা ব্যয়ের দ্বিগুণ।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন তাইওয়ানের আশপাশে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো জরুরি।
আগামী নির্বাচনে তাকাইচির এলডিপি ও ইশিন পার্টির জোটে ২৩৩টি আসন রয়েছে। তাকাইচি জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা।
অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামছে সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স। তারা প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও কোমেইতোকে একত্র করেছে। তাকাইচি এলডিপির নেতৃত্ব নেওয়ার পর কোমেইতো ২৬ বছরের জোট ভেঙে বেরিয়ে আসে। নতুন জোটটির হাতে রয়েছে ১৭২টি আসন।
কান্দা ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জাপানবিষয়ক গবেষক জেফ্রি হল বলেন, এই বিপুল জনপ্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য এখনই হয়তো তাকাইচির সবচেয়ে ভালো সময়। তবে বিরোধীরা একজোট হওয়ায় জয় নিশ্চিত বলা কঠিন।

কানাডায় খালিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সপক্ষে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পরবর্তী সময় সেই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় পশ্চিমের সঙ্গে ভার
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এনবিসি নিউজ যখন ট্রাম্পকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তিনি কি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন?
৬ ঘণ্টা আগে
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন
৬ ঘণ্টা আগে
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
৯ ঘণ্টা আগে