
সিরিয়ার আল-রোজ ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা আইএসপত্নী শামীমা বেগম এখন মুক্তির দ্বারপ্রান্তে, তবে তা কোনো আইনিপ্রক্রিয়ায় নয়, বরং যুদ্ধের ডামাডোলে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ তাদের নিয়ন্ত্রিত রাকা ও দেইর আল-জোর প্রদেশ থেকে পিছু হটায় সেখানকার কারাগার ও ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের মধ্যে চুক্তি হলেও আজ সোমবার রাকার তিনটি প্রধান কারাগারের কাছে ভয়াবহ সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই তিন কারাগার হলো আল-আকতান, দেইর আল-জোর ও আল-শাদ্দাদি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই তিন কারাগারে প্রায় ৯ হাজার দুর্ধর্ষ আইএস যোদ্ধা, শামীমা বেগমসহ প্রায় ৪০ হাজার নারী ও শিশু রয়েছে। কোনো কারণে এই তিন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে গেলে এই আইএস যোদ্ধারা মুক্ত হয়ে যাবেন এবং বড় ধরনের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে তাঁদের পুনরুত্থান ঘটাতে পারেন।
ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইতিমধ্যে আল-আকতান ও দেইর আল-জোর কারাগার থেকে বেশ কয়েকজন জঙ্গি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরাক তাদের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আইএসের বন্দিশিবিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সহিংস লড়াইয়ের মধ্যে সিরিয়ায় আটক থাকা শামীমা বেগমও শিগগির মুক্তি পেতে পারেন। ২৬ বছর বয়সী শামীমা বেগম এক দশকের বেশি আগে পূর্ব লন্ডন ছেড়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-রোজ বন্দিশিবিরে আটক রয়েছেন। আইএসে যোগ দেওয়ার পর ২০১৯ সালে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে যুক্তরাজ্য।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একসময় এই আইএস বন্দিশিবিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের হাতে। কিন্তু চুক্তির পর তারা পিছু হটায় বন্দিশিবিরগুলোর নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একসময় নিজেও জিহাদি যোদ্ধা ছিলেন। পরে রাজনীতিতে আসেন এবং সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অধিকাংশ এলাকা দখলে নিয়ে এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন। কিন্তু এসডিএফ পিছু হটায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এলাকায় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে এই বন্দীরা মুক্ত হয়ে যেতে পারেন।
এ বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, যদি বন্দিশিবিরগুলো ভেঙে পড়ে, তাহলে সেখানে থাকা আইএস জঙ্গিরা বেরিয়ে পড়বে।
এসডিএফ জানিয়েছে, নতুন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা জিহাদি গোষ্ঠীগুলোই এই সহিংসতায় জড়িত থাকতে পারে। তারা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছে।
আজ সোমবার আল-আকতানের বাইরে সরকারি সেনাদের কুর্দি বাহিনীর দিকে রকেট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ছুড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে সেনাদের ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে শোনা গেছে এবং পাল্টা গুলিও ছুড়তে দেখা গেছে।

এর আগে গতকাল রোববার দেইর আল-জোর কারাগার থেকে খালি পায়ে বন্দীদের দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের বেশির ভাগই আরব গোত্র বা ফ্রি সিরিয়ান আর্মির হলেও জীবনে মুক্ত হব—এটা ভাবিনি।’
এসডিএফ সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তাহলে তা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসবাদের পথ খুলে দিতে পারে।
এই অঞ্চলের আটককেন্দ্রে ২০ জন ব্রিটিশ নারী, ৪০টি শিশু ও ১০ জন পুরুষ বন্দী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুর্দি কর্মকর্তারা এসব কারাগারকে ‘টাইমবোমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এসডিএফের সঙ্গে আহমেদ আল-শারার চুক্তিতে বলা হয়েছে, আইএস বন্দী ও শিবিরগুলোর পূর্ণ আইনি ও নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন দামাস্কাস নেবে। তবে সরকার বন্দীদের নিয়ে কী করবে—তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে চুক্তির পরেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে এসডিএফ ও শারার সরকার একে অপরকে দোষারোপ করছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন ছেড়ে দুই বন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ার পথে পাড়ি জমান শামীমা বেগম। কয়েক দিন পর তুরস্কের সীমান্ত পার হয়ে সিরিয়ায় রাকার আইএস সদর দপ্তরে পৌঁছান তিনি। সেখানে ধর্মান্তরিত হয়ে তিনি আইএসে যোগ দেওয়া এক ডাচ্ নাগরিককে বিয়ে করেন। চার বছর পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিয়ার একটি শরণার্থীশিবির থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ একটি ট্রাইব্যুনাল রায় দেন, শামীমা বেগম ‘বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক’। এর প্রতিক্রিয়ায় সে সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়ার পর ফিরে আসা যুক্তরাজ্যের নাগরিক শামীমা বেগম কখনোই বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না। কাজেই তাঁকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না।

নেপালের রাজনীতিতে রীতিমতো বড় ভূমিকম্প ঘটে গেছে। গত বছরের জেন-জি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, দমনপীড়ন ও অপরাধমূলক অবহেলার অভিযোগে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নির্বাচনের পরপরই নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের ঘটনা ঘটল। গত বছরের জেন-জি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমনপীড়ন চালানোর অভিযোগে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৩ ঘণ্টা আগে
জেন-জি বিপ্লবের হাত ধরে নেপালের নতুন সরকার গঠনের পরদিনই গেপ্তার হলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। গত বছর বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
এটি ইরানের জন্য রাশিয়ার পাঠানো চিকিৎসা সহায়তার দ্বিতীয় চালান। রেলপথে এই সহায়তা ইরানের সীমান্ত সংলগ্ন আজারবাইজানের শহর আস্তারায় পৌঁছানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রুশ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান সরকারের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কাছে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করেন।
১১ ঘণ্টা আগে