
শহরের ব্যস্ততম একটি ট্রাম স্টপেজ। পাশেই হলুদ ড্যাফোডিল আর কমলা টিউলিপে ঘেরা সবুজ চত্বর। এমন ব্যস্ত জায়গায় আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন থাকাটাই স্বাভাবিক। আর তেমনই ছিল। গত সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানে চিকেন নাগেট, এসইউভি গাড়ি কিংবা সাশ্রয়ী ভ্রমণের বিজ্ঞাপন দেখা যেত, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে জাদুঘর ও পিয়ানো কনসার্টের প্রচারণামূলক পোস্টার। এ চিত্র নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম শহরের।
বিশ্বে প্রথম শহর হিসেবে মাংস এবং জীবাশ্ম জ্বালানির প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে আমস্টারডাম। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে বিলবোর্ড, ট্রাম শেল্টার এবং মেট্রো স্টেশনগুলো থেকে বার্গার, পেট্রলচালিত গাড়ি এবং এয়ারলাইনসের সব বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শহরের রাজনীতিকেরা বলছেন, স্থানীয় সরকারের পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতি রেখে আমস্টারডামের রাজপথকে সাজাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো, ২০৫০ সালের মধ্যে ডাচ রাজধানীটিকে কার্বন নিঃসরণমুক্ত করা এবং একই সময়ের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাংস খাওয়ার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা।
গ্রিনলেফট পার্টির আনেকে ভেনহফ বলেন, ‘জলবায়ু সংকট এখন অত্যন্ত জরুরি এক বিষয়। আপনি যদি জলবায়ু নীতিতে নেতৃত্ব দিতে চান, আবার নিজের দেয়ালগুলোই তার ঠিক উল্টো প্রচারণার জন্য ভাড়া দেন, তবে তা স্ববিরোধী হয়। আমাদের পাবলিক স্পেস ভাড়া দিয়ে এমন কিছু থেকে পৌরসভা কেন আয় করবে, যার বিরুদ্ধে আমাদের সক্রিয় অবস্থান রয়েছে, তা অধিকাংশ মানুষই বুঝতে পারেন না।’
একই সুর শোনা গেছে ডাচ রাজনৈতিক দল ‘পার্টি ফর দ্য অ্যানিমেলস’-এর আমস্টারডাম শাখার নেতা আঙ্কে বাকারের কণ্ঠে। মূলত তাঁর উদ্যোগেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। তবে এটি নিয়ে ‘ন্যানি স্টেট’ বা নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে সরকারের খবরদারির অভিযোগ উঠেছে। এমন কথা অস্বীকার করে বাকার বলেন, ‘প্রত্যেকেই নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন। কিন্তু আমরা চাইছি বড় কোম্পানিগুলো যেন সব সময় আমাদের কী খেতে হবে বা কী কিনতে হবে, তা ঠিক করে না দেয়।’
বাকার আরও বলেন, ‘একভাবে আমরা মানুষকে আরও স্বাধীনতা দিচ্ছি যাতে তাঁরা নিজেরাই পছন্দটা করতে পারেন। চোখের সামনে থেকে এসব প্রলোভন সরিয়ে নিলে ঝোঁকের মাথায় কেনাকাটা কমবে। একই সঙ্গে সস্তা মাংস বা জীবাশ্ম জ্বালানি-নির্ভর ভ্রমণ যে আর আধুনিক জীবনযাত্রার অংশ নয়, সেই বার্তাও পৌঁছাবে।’
আমস্টারডামের উন্মুক্ত বিজ্ঞাপনের বাজারে মাংসের বিজ্ঞাপন ছিল খুবই নগণ্য, ব্যয়ের মাত্র ০.১ শতাংশ। যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিজ্ঞাপন ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। বাকি বাজার মূলত পোশাকের ব্র্যান্ড, চলচ্চিত্রের পোস্টার এবং মোবাইল ফোনের দখলে।
তবে রাজনৈতিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। মাংসকে উড়োজাহাজ, ক্রুজ শিপ কিংবা পেট্রল-ডিজেল চালিত গাড়ির কাতারে ফেলার মাধ্যমে একে শুধু ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের বিষয় হিসেবে না দেখে জলবায়ু সংকটের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই খাতে প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডাচ মিট অ্যাসোসিয়েশন’ এই পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট। তারা একে ‘ভোক্তার আচরণ প্রভাবিত করার অনভিপ্রেত পদ্ধতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, মাংসে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে এবং এটি ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে থাকা উচিত। অন্যদিকে, ‘ডাচ অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস’ বলছে, বিমান ভ্রমণের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক স্বাধীনতার ওপর একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাত।
তবে ‘অ্যাডভোকেটস ফর দ্য ফিউচার’-এর আইনজীবী হান্না প্রিন্সের মতো অ্যাকটিভিস্টদের কাছে এটি উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী খাবারের বিরুদ্ধে একটি ‘টোব্যাকো মোমেন্ট’ বা তামাক-বিরোধী আন্দোলনের মতো মুহূর্ত তৈরির চেষ্টা। তিনি বলেন, ‘পুরোনো ছবি দেখলে দেখা যায় নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি ফুটবলার জোহান ক্রুইফ তামাকের বিজ্ঞাপনে অংশ নিতেন। তখন সেটা স্বাভাবিক ছিল। অথচ তিনি ফুসফুসের ক্যানসারেই মারা গেছেন।’
প্রিন্স আরও যোগ করেন, ‘এক সময় ট্রেন বা রেস্তোরাঁয় ধূমপান করা যেত। এখন ভাবলে অবাক লাগে যে মানুষ কেন এমনটা করত! আমরা আমাদের পাবলিক স্পেসে যা দেখি, সমাজ সেটাকেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়। আমি মনে করি না বিলবোর্ডে জবাই করা প্রাণীর ছবি দেখা স্বাভাবিক কোনো বিষয়। তাই এই পরিবর্তন আসাটা খুব জরুরি।’
অবশ্য ডাচ রাজধানীই এই পথে প্রথম নয়। আমস্টারডাম থেকে ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত হারলেম শহর ২০২২ সালেই প্রথম মাংসের বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছিল, যা ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে। এরপর উট্রেখট এবং নাইমেখেন শহরও একই পথ অনুসরণ করে। বিশ্বজুড়ে এডিনবার্গ, শেফিল্ড, স্টকহোম এবং ফ্লোরেন্সের মতো অনেক শহরই জীবাশ্ম জ্বালানির বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার দিকে হাঁটছে। এমনকি ফ্রান্সে দেশজুড়ে এমন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা আশা করছেন, মাংস ও জীবাশ্ম জ্বালানিকে একই সুতোয় গেঁথে আমস্টারডামের এই ‘ডাচ মডেল’ অন্যদের জন্য একটি আইনি ও রাজনৈতিক রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।
এখন আর আমস্টারডামের ট্রাম স্টপে দাঁড়ালে কোনো রসালো বার্গার বা বার্লিন যাওয়ার সস্তা টিকিটের বিজ্ঞাপন হয়তো চোখে পড়বে না। কিন্তু সেই একই হাতছানি দেওয়া অফারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমে ঠিকই ভেসে উঠতে পারে। আর সত্যি বলতে, ট্রাম না আসা পর্যন্ত অনেকেই মোবাইলের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকেন।
প্রশ্ন উঠেছে, পৌরসভার এই নিষেধাজ্ঞা যদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্পর্শ করতে না পারে, তবে এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে? এটি কি কেবলই প্রতীকী কোনো উদ্যোগ?
এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই, বিজ্ঞাপন সরালেই মানুষ মাংস ছেড়ে শাকসবজি খাওয়া শুরু করবে। তবে আমস্টারডাম ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের এপিডেমিওলজিস্ট অধ্যাপক জোরিন্টজে ম্যাকেনবাখ কিছুটা আশাবাদী। তিনি একে একটি ‘চমৎকার প্রাকৃতিক পরীক্ষা’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় ফাস্ট ফুডের বিজ্ঞাপন দেখলে আমাদের মধ্যে দ্রুত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। পরিবেশ থেকে এই সংকেতগুলো সরিয়ে নিলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব পড়বে।’
তিনি ২০১৯ সালে লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড রেলে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার পরবর্তী গবেষণার উদাহরণ টানেন, যেখানে দেখা গিয়েছিল ওই পদক্ষেপের ফলে জাঙ্ক ফুড কেনার পরিমাণ কমেছে।
আইনজীবী প্রিন্স মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা যা ভালোবাসি, সেসবের কথা আমরা বিজ্ঞাপনে শুনি না। আমরা পরিচিতদের মাধ্যমে বা পাশ দিয়ে হাঁটার সময় এসব জানতে পারি। বিজ্ঞাপন না থাকলে স্থানীয় ব্যবসাগুলো আরও বিকশিত হবে। আমি আশা করি বড় দূষণকারী কোম্পানিগুলো এতে ভীত হবে এবং তারা কী ধরনের পণ্য বিক্রি করছে তা নিয়ে নতুন করে ভাববে। পরিবর্তন যে সম্ভব, তা এখন স্পষ্ট।’

ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনতে যাচ্ছে জাপান। ধারণা করা হচ্ছে, আজ সোমবারের মধ্যেই রাশিয়ান তেলবাহী একটি ট্যাংকার জাপানি বন্দরে নোঙর করতে পারে। মূলত, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট তীব্র চাপ কাটাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৮ মিনিট আগে
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির প্রতিষ্ঠাতাও দেশটির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ ৫২ বছর বয়সে এসে ফের বিয়ে করতে যাচ্ছেন। এমন খবরই দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। জেমিমা গোল্ডস্মিথের হবু স্বামী কোটিপতি অর্থনীতিবিদ ক্যামেরন ও’রেইলি।
২ ঘণ্টা আগে
অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় এগিয়ে আছেন। তিনি দুটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন—পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি ইস্ট। দুই আসনেই প্রাথমিক প্রবণতায় এগিয়ে থেকে নিজের রাজনৈতিক অভিষেকে বড় ধরনের গতি এনে দিয়েছেন এই অভিনেতা।
৩ ঘণ্টা আগে
আটলান্টিক মহাসাগরে নেদারল্যান্ডসের একটি প্রমোদতরিতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইঁদুরবাহিত হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজন অসুস্থ হয়ে গেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে