Ajker Patrika

স্টারমার কেন পদত্যাগ করছেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১৭: ২০
স্টারমার কেন পদত্যাগ করছেন
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: এএফপি

ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে নেতৃত্ব দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার আগেই তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে এসেছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, তিনি পদত্যাগ করবেন এবং আজ সোমবার তাঁর পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে গত এক দশকে ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী আসার পথ খুলে যেতে পারে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্টারমার বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অস্থির রাজনীতির অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই জয়ের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি সপ্তাহান্তে ভেবেছেন পদ ছাড়বেন, নাকি নেতৃত্ব ধরে রাখতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি বলেছে, ‘কিয়ার বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে পছন্দ করেন।’

মাসের পর মাস ধরে বাড়ছিল চাপ

স্টারমারের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। তবে গত শুক্রবার পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে স্পষ্ট জয় পেয়ে ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান। তিনি পরাজিত করেন নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে দলের প্রার্থীকে। দলটি এক বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে। তাঁদের ধারণা, দীর্ঘদিনের রাজনীতিক এবং যোগাযোগ দক্ষতার জন্য পরিচিত বার্নহাম দলটির ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারেন। কারণ স্টারমারের নেতৃত্বে দলটির জনসমর্থন কমেছে এবং তাঁর জনপ্রিয়তার হার নেমে গেছে, যা ব্রিটিশ নেতৃত্বের ইতিহাসে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই প্রত্যাশিত প্রক্রিয়ায় ঝুঁকিও কম নয়। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও, বৈদেশিক নীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে বার্নহাম এখনো নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। স্টারমারের মতো তিনিও হয়তো দেখবেন, তাঁর নীতিগত চালচলনের জায়গা খুব সীমিত। কারণ একদিকে থাকবে অতিরিক্ত ঋণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীরা, অন্যদিকে থাকবে এমন এক ক্ষুব্ধ জনমত যারা মনে করে দেশটি সঠিকভাবে চলছে না।

উচ্চ ঋণ, সুদের চাপ, বছরের পর বছর দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর সংগ্রাম এবং প্রতিরক্ষার মতো খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-৭ ধনী দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ব্রিটেনের ঋণ গ্রহণ ব্যয় সবচেয়ে বেশি।

রয়টার্স যেসব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলেছে, তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বার্নহাম গত সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ব্রিটেনকে ‘বন্ডবাজারের কাছে জিম্মি হয়ে থাকার মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবে তিনি পরে দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিটিব্যাংকের অর্থনীতিবিদেরা শুক্রবার বলেন, ‘আমাদের মূল্যায়নে, বার্নহামের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি নাজুক আর্থিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে এবং অর্থবহ পরিবর্তন আনার মতো কার্যকর উপকরণ খুব সীমিত থাকবে।’

স্টারমার বলেছিলেন—যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন

শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লেবারের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা হলে তিনি তাতে অংশ নেবেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানিয়েছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন লেবার আইনপ্রণেতার সমর্থন তাঁর রয়েছে। তবে দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, তাঁর বিশ্বাস স্ট্রিটিং বার্নহামের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালে বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।

স্টারমারের ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাঁর বিপুল জয় তাঁকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার রাজনৈতিক ম্যান্ডেট দিয়েছে। তবে ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল রোববার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ‘এই মুহূর্তে তাঁর সামনে থাকা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে ভাবছেন।’

যদি স্টারমার আজ সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটের মঞ্চ থেকে তাঁর বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করেন, তবে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতাদের দীর্ঘ তালিকায় নতুন সংযোজন হবেন। আর বার্নহাম সফল হলে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে তিনি হবেন ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। এই সপ্তাহেই সেই গণভোটের ১০ বছর পূর্ণ হচ্ছে।

প্রায় দুই শতকের মধ্যে এত দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের নজির ব্রিটেনে নেই। এটি দেখায়, জীবনমানের উন্নয়ন, জনসেবা শক্তিশালী করা এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া বলেছে, সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হতে পারে যদি স্টারমার ঘোষণা দেন যে তিনি সেপ্টেম্বরে পদ ছাড়বেন। এতে তিনি জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্ক পুনর্গঠন সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন এবং একই সঙ্গে সরকার পরিচালনার প্রস্তুতির জন্য বার্নহামও সময় পাবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত