Ajker Patrika

৩৫ বছর পর উদ্ধার কমর বেগমের পালঙ্ক, থাকবে জাদুঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
৩৫ বছর পর উদ্ধার কমর বেগমের পালঙ্ক, থাকবে জাদুঘরে
আজ দুপুরে পালঙ্কটি উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীর পুঠিয়ার চারআনি রাজবংশের শেষ পুরুষ নরেশ নারায়ণের স্ত্রী কমর বেগমের ব্যবহৃত পালঙ্ক দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর উদ্ধার করা হয়েছে। পুঠিয়ার মাছচাষি ইকবালুর ওরফে ইলুর বাড়ি থেকে আজ রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পালঙ্কটি উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৭ মে ‘আজকের পত্রিকা’র শেষ পাতায় কমর বেগমের পালঙ্ক নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তিনি পালঙ্কটি উদ্ধারের নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করে এবং রোববার ইলুর বাড়ি থেকে পালঙ্কটি উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে কমর বেগমের পালঙ্ক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ইয়াকুব স্বর্ণকারের বাড়ি থেকে রাজবাড়ীর আরও একটি পুরোনো খাট ও একটি ড্রেসিং টেবিলের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোলানাথ দত্তের বাড়ি থেকে তিনটি ঝাড়বাতি উদ্ধার করা হয়।

ইউএনও লিয়াকত সালমান জানান, উদ্ধার করা এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন দর্শনার্থীদের জন্য পুঠিয়া রাজবাড়ীতে সংরক্ষণ করা হবে।

যেভাবে পালঙ্কটি ইলুর বাড়িতে

পুঠিয়া রাজবাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে ইলুর বাড়ি। ইলু সম্প্রতি আজকের পত্রিকার কাছে দাবি করেছিলেন, মামলা-মোকদ্দমা টানতে টানতে দৈন্যদশায় পড়েছিলেন কমর বেগমের মেয়ে রেজিনা জামাল। তাই ১৯৯১ সালের দিকে ১০ হাজার টাকায় এই পালঙ্ক বিক্রি করে যান। তিন মাসের বেতনের টাকা জমিয়ে পালঙ্কটি কিনেছিলেন ইলুর স্কুলশিক্ষক বাবা আবদুর রহমান খান। দীর্ঘদিন ধরে ইলুই ওই পালঙ্কে ঘুমাতেন।

কমর বেগমের পুঠিয়ায় আগমন

চারআনি রাজবংশের শেষ পুরুষ নরেশ নারায়ণ নাটোরের রাজা জিতেন্দ্র নাথের দ্বিতীয় কন্যা সুরেশ্বরীকে বিয়ে করেছিলেন। সুরেশ্বরী দেবীর কোনো ছেলে ছিল না। এ কারণে সুরেশ্বরীর সঙ্গে নরেশ নারায়ণের সুসম্পর্ক ছিল না বলে জানা যায়।

নরেশ নারায়ণ প্রায়ই কলকাতায় যেতেন। সেখানে মুসলিম নারী কমর বেগমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে নরেশ নারায়ণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁকে বিয়ে করেন।

কথিত আছে, পরবর্তী সময়ে রানি সুরেশ্বরী বিষ প্রয়োগ করে নরেশ নারায়ণকে হত্যা করেন। খবর পেয়ে কমর বেগম কলকাতা থেকে পুঠিয়ায় চলে আসেন এবং রাজপরিবারের দায়িত্ব নেন। পুঠিয়া কাছারিবাড়ির পাশে চারআনি রাজবাড়িতে দীর্ঘদিন বসবাসের পর ১৯৮৭ সালে তিনি মারা যান।

রোববার দুপুরে পুঠিয়ার ইউএনও লিয়াকত সালমানের নেতৃত্বে রাজবাড়ীর এসব নিদর্শন উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা অভিযানে পুঠিয়া রাজবাড়ীর কাস্টোডিয়ান হাফিজ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আসাদুল ইসলাম আসাদ, পুঠিয়া সাংবাদিক সমাজের সভাপতি ইসলাম লিটন, সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ডলার, পুঠিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক রুবেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ওয়াসিমুল হক ও উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিপন রেজাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত