Ajker Patrika

স্কুল বন্ধ থাকলেই অন্ধ মাকে নিয়ে ভিক্ষায় নামে নীরব

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
স্কুল বন্ধ থাকলেই অন্ধ মাকে নিয়ে ভিক্ষায় নামে নীরব
অন্ধ মা শিউলি আক্তারকে নিয়ে ভিক্ষা করতে বের হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নীরব মিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

নীরব মিয়ার জন্মের পরই তার অন্ধ মাকে রেখে চলে যান বাবা লালন মিয়া। এরপর জন্মান্ধ মা শিউলি আক্তারের সঙ্গে তারও আশ্রয় হয় নানা চাঁন মিয়ার বাড়িতে। সেখানেই কোনো রকমে বড় হচ্ছিল সে। কিন্তু সংসারের অভাব আর অসহায়ত্ব যেন তার শৈশবটাকেই কেড়ে নিয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছোট্ট এই শিশুকে এখন মায়ের হাত ধরে নামতে হচ্ছে মানুষের দ্বারে।

নিয়মিত বিদ্যালয়ে যায় নীরব। স্বপ্ন দেখে লেখাপড়া করে ভালো মানুষ হবে। কিন্তু অভাবের কাছে হার মানতে হয় তাকে। তাই তো বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেই মাকে নিয়ে নেমে পড়ে ভিক্ষায়। অন্যের দ্বারে হাত পেতে যে টাকা পায়, তা দিয়েই চলে তাদের সংসার আর তার খাতা-কলমের খরচ।

নীরবের মা শিউলি আক্তার নান্দাইল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে। জন্ম থেকেই দুই চোখ অন্ধ তাঁর। ২০১৭ সালে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রামের লালন মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দুই সন্তান জন্মের পরই লালন মিয়া আর তাঁদের দেখভাল করেন না। এর পর থেকে তিনি সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নেন দরিদ্র বাবা চান মিয়ার বাড়িতে।

জানা গেছে, নীরব মিয়া নান্দাইল পৌর সদরের নান্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট ভাই রাব্বি মিয়াও একই বিদ্যালয়ের শিশুশ্রেণিতে পড়ে। অন্ধ মা তাদের খরচ জোগাতে পারেন না। তাই প্রতি শুক্র ও শনিবার নান্দাইল বাজারে মাকে নিয়ে ভিক্ষা করে নীরব। দুই দিনে হাজারখানেক টাকা হয়। তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। সপ্তাহের অবশিষ্ট পাঁচ দিন বিদ্যালয়ে যায় নীরব।

নীরব মিয়া বলে, ‘স্কুলে পড়তে তো খরচ লাগে, কেউ তো টেহা দেয় না। স্কুল বন্ধ যে দিন, সেই দিনেই আম্মারে হাত ধইরা ভিক্ষা করি বাজারে। আব্বা তো দেহে না, কী করবাম?’

নীরবের মা শিউলি আক্তার বলেন, ‘১০ বছর আগে বিয়ে হলেও দুই সন্তান জন্মের পর আর খোঁজ রাখেনি স্বামী। তিন মাস পরপর প্রতিবন্ধী ভাতার কিছু টাকা পেলেও তা দিয়ে সংসার চলে না। দুই ছেলে স্কুলে গেলে মজা কেনার জন্য বায়না ধরে। তাই বড় ছেলেটার সঙ্গে ভিক্ষা করতে বের হই।’

নান্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলি আক্তার বলেন, ‘নীরব ও তার ছোট ভাই আমাদের স্কুলেই পড়াশোনা করে। শুনেছি শুক্র ও শনিবার স্কুল বন্ধের দিন সে তার মাকে নিয়ে ভিক্ষা করে। আমাদের স্কুল থেকে তাদের খাতা ও কলম দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।’

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘এ রকম মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রস্তুত। তাদের কীভাবে সহযোগিতা করলে নিয়মিত আয় হবে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত