Ajker Patrika

২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ট্রান্সফার করবেন: ডিএফওকে মন্ত্রীর ফোন

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৪১
২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ট্রান্সফার করবেন: ডিএফওকে মন্ত্রীর ফোন
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে লাউড স্পিকারে ফোন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার হলুদিয়া চালা বাজারে। ছবি: আজকের পত্রিকা

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) ফোন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ট্রান্সফার (অপসারণ) করতে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার হলুদিয়া চালা বাজারে গিয়ে জনসম্মুখে মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে তিনি ডিএফও নাজমুল আলমকে এ কথা বলেন।

এর আগে উপস্থিত জনতাকে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বন বিভাগকে দালালমুক্ত করব। বন বিভাগের যেসব কর্মকর্তা ঘুষ খাবে এবং ঘুষ না পেলেই মানুষের নামে মামলা করবে, তাদেরকে দেখব।’ ক্ষুব্ধ হয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওরে (রেঞ্জ কর্মকর্তা) সবার আগে মামলায় ঝোলাব ঘুষখোর।’

স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে লাউড স্পিকারে ডিএফওকে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের সখীপুরের হলুদিয়া চালায় একটি টিনের দোকান ছিল। এখানে আপনার রেঞ্জার এমরান দালালদের সমন্বয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি ঘর দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। হয়তো তারা এখানে আগের চেয়ে একটু বড় করে ঘর দিয়েছিল। সেখানে আপনার রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান টাকা বেশি পায় নাই অথবা নিজের গা বাঁচাতে গরিব মানুষের সেই ঘর ভেঙে দিয়েছে। কাজেই, সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন, এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ রইল।’

এ সময় আহমেদ আযম খান আরও বলেন, ‘আমি যত দিন এমপি (সংসদ সদস্য) আছি, আমার এলাকার মানুষকে আমি হয়রানি করতে দেব না। আমি এই আটিয়া বন আইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। এলাকার মানুষ আশায় বুক বেঁধে আমাকে ভোট দিয়েছে। অতএব, কাউকে আমি হয়রানির শিকার হতে দেব না।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়। আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই কর্মকর্তাকে এখান থেকে তুলে নেবেন এবং একজন ভালো মানুষকে এখানে দায়িত্ব দেবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছি। ওই ঘর ভাঙার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্বে দিয়েছেন। আমরা শুধু সহযোগিতা করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষার কাজ করব। এ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

উল্লেখ্য, ৯ আগস্ট ভোরে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়া চালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি করা প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘরটি যেখানে বানানো হয়েছিল, রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তাঁরা সেই জমির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগ বলছে, জমিটি সংরক্ষিত বন বিভাগের আওতাভুক্ত।

আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরেই হলুদিয়া চালা বাজারের ঘরটি ভাঙা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত