Ajker Patrika

সফরের মাঝপথে মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ১৪
সফরের মাঝপথে মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া
মিজানুর রহমান আজহারী । ছবি: সংগৃহীত

ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য, ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো এবং চরমপন্থার অভিযোগে জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আজ বুধবার তাঁর চলমান অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝপথেই তাঁকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’ এবং সিডনি ভিত্তিক ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ এই খবর প্রকাশ করেছে।

মিজানুর রহমান আজহারী ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ শীর্ষক একটি প্রচারণামূলক সিরিজের আওতায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোতে লেকচার দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিলেন। তাঁর সফরের সূচি অনুযায়ী ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরায় বড় ধরনের জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। গত রোববার ব্রিসবেনে তাঁকে দেখা যায় এবং গতকাল মঙ্গলবার তাঁর একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে সোমবারই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের দপ্তরের নজরে আসে এবং মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে তাঁর ভিসা বাতিল করে অস্ট্রেলীয় ইমিগ্রেশন বিভাগ। বর্তমানে তিনি সিডনিতে ডিপোর্টেশনের (বহিষ্কার) অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।

আজ বুধবার অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম আজহারীর সফরের কড়া সমালোচনা করে একে একটি ‘লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আজহারীর আন্তর্জাতিক রেকর্ড চরমপন্থা ও ঘৃণামূলক বক্তব্যে ভরপুর। সিনেটর ডুনিয়াম দাবি করেন, ‘২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক ভাষণে আজহারী অ্যাডলফ হিটলারকে ইহুদিদের জন্য “ঐশ্বরিক শাস্তি” হিসেবে বর্ণনা করে তাঁর প্রশংসা করেছিলেন। তিনি ইহুদিদের “বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী” এবং “বিষাক্ত কলঙ্ক” বলে অভিহিত করেছিলেন।’

আজহারীর বিরুদ্ধে আরও একটি বিদ্বেষমূলক অভিযোগ আনা হয়েছে। ইহুদিরা ‘এইডস’ রোগ উদ্ভাবন করেছে এবং তারা বিশ্বের যাবতীয় সমস্যার মূলে রয়েছে— আজহারী এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার ‘রেসিয়াল হেট্রেড অ্যাক্ট’ বা জাতিগত ঘৃণা বিরোধী আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা।

সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম আলবানিজ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইহুদি নিধনের জন্য হিটলারের গুণগান গায় এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ, তাঁকে কীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় আসার অনুমতি দেওয়া হলো? এটি বর্তমান সরকারের একটি দ্বিমুখী নীতি। একদিকে ইসরায়েলি রাজনীতিকদের অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, অন্যদিকে এমন একজন চরমপন্থী বক্তাকে অনায়াসেই ভিসা দেওয়া হয়।’ তিনি দাবি করেন, আজহারীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকার বিমানে তুলে দেওয়া উচিত।

অস্ট্রেলিয়ার আগে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যেও আজহারীর প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন জানিয়েছিল, তাঁর উপস্থিতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ‘অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ (AFERMB) নামক একটি সংগঠন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ককে চিঠি দিয়ে আজহারীর উপস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তাদের মতে, আজহারীর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং চরমপন্থাকে উসকে দিতে পারে। মন্ত্রীর দপ্তর বিষয়টি জানার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সফর আয়োজনের দায়িত্বে ছিল ‘ইসলামিক প্র্যাকটিস অ্যান্ড দাওয়াহ সার্কেল’ (আইপিডিসি)। আজহারীর ভিসা বাতিলের পর থেকে সংগঠনটি বেশ চাপের মুখে রয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত