Ajker Patrika

নেপালে বন্যা: মৃত নারীর কান থেকে গয়না চুরি, ভিডিও ভাইরালের পর গ্রেপ্তার ২

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নেপালে বন্যা: মৃত নারীর কান থেকে গয়না চুরি, ভিডিও ভাইরালের পর গ্রেপ্তার ২
মৃত নারীর কানের দুল খুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের পর দুজন গ্রেপ্তার। ছবি: স্ক্রিনশট

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে বিধ্বংসী বন্যায় সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি ও নিখোঁজের ট্র্যাজেডির মধ্যেই এক অমানবিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। বন্যায় ভেসে আসা এক নারীর লাশ থেকে সোনার কানের দুল চুরির অভিযোগে নেপাল পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চিতওয়ান জেলা পুলিশের বরাত দিয়ে নেপালি সংবাদমাধ্যম খবরহাব জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ভরতের ভরতপুর মেট্রোপলিটন সিটির-১ নম্বরের পোখারা বাস পার্ক এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নেপালের নারায়ণী নদীতে ঢলের পানিতে ভেসে আসা এক নারীর মৃতদেহ কয়েক ব্যক্তি কাঠের তক্তা এবং মাথার চুল ধরে পানির কিনারায় টেনে তুলছেন। লাশটি ওপরে তোলার পরপরই উপস্থিত জনতার সামনেই দুজন ব্যক্তি নিহতের দুই কান থেকে সোনার দুল খুলে নিয়ে সরিয়ে রাখছেন। সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একাধিক ব্যক্তি পুরো ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করছিলেন।

ভিডিওটি পরবর্তীতে নেপাল পুলিশের নজরে এলে তারা তদন্ত শুরু করে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মদন গুরুং (২৫) ও উমেশ চৌধুরী (৩৮)।

নেপাল পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘দুযোগের এই চরম মুহূর্তে দুর্গত বা নিহত মানুষদের লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের লুটপাট বা অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন নেপাল সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের মুখোমুখি। তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস ও আকস্মিক প্লাবনে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশাল পানির তোড়ে নদীর তীরবর্তী একাধিক গ্রাম, ঘরবাড়ি ও সেতু সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।

সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। চীন সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার জিরোং সীমান্ত পয়েন্টে একটি প্রলয়ংকরী কাদা-পাথরের স্রোত আঘাত হানে। এর প্রভাবে জিরোং পোর্টের বহুতল একটি প্রশাসনিক ভবন আংশিক ধসে পড়ে এবং বাস পার্কিং লট পুরোপুরি কাদামাটিতে তলিয়ে যায়। পুরো এলাকা জুড়ে গড়ে ১ দশমিক ৫ মিটার (প্রায় ৫ ফুট) পুরু কাদার স্তর জমা হয়েছে।

সীমান্তের সংযোগকারী সব প্রধান সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দল ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাটিতে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ফের ‘গৌণ ভূমিধস’ বা নতুন পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির আবহাওয়াবিদেরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত