কম্বোডিয়ার কুখ্যাত অনলাইন স্ক্যাম কম্পাউন্ড বা সাইবার প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে এত দিন কেবল পাচার হয়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের বন্দিদশার কথা শোনা গেলেও, এবার খোদ স্থানীয় কম্বোডীয় নাগরিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ার শিক্ষিত বেকার তরুণদের এসব ‘আধুনিক দাসত্বের’ কারখানায় আটকে রাখা হচ্ছে। চীনা নাগরিকদের ওপর ইলেকট্রিক শক ও শারীরিক নির্যাতনের মতো জঘন্য কাজে তাঁদের বাধ্য করা হচ্ছে।
‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়ংকর বাস্তবতা।
২৭ বছর বয়সী এক সাবেক কম্বোডীয় নিরাপত্তারক্ষী অনুশোচনার সঙ্গে জানান, তিনি প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিককে নির্যাতন করেছেন। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ-পশ্চিম কম্বোডিয়ার বোকর পাহাড়ের একটি স্ক্যাম সেন্টারে তাঁকে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁকে বাধ্য করা হয় সেসব চীনা কর্মীকে শাস্তি দিতে, যাঁরা প্রতারণার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হতো। রাতের বেলা চীনা কর্মীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়া এবং লাঠি দিয়ে পেটানো ছিল তাঁর নিয়মিত কাজ। এমনকি অনেক সময় তাঁদের যৌনাঙ্গেও শক দেওয়া হতো।
কম্পাউন্ডগুলো অনেকটা কারাগারের মতো। সেখানে শত শত কর্মীকে গাদাগাদি করে থাকতে হয় এবং তাঁদের বাইরে যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই। অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পশুর মতো জীবনযাপনে বাধ্য করা এই কেন্দ্রগুলো মূলত আধুনিক দাস ব্যবস্থার নগ্ন চিত্র।
জাতিসংঘের ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় প্রায় এক লাখ মানুষ এই স্ক্যাম শিল্পে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কম্বোডিয়া সরকার সম্প্রতি বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান চেন ঝিয়ের গ্রেপ্তার এবং চীনের কাছে হস্তান্তরের পর এই অভিযান গতি পায়।
কম্বোডিয়া সরকারের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বিদেশিকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২০০টি স্ক্যাম কম্পাউন্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার আগামী এপ্রিলের মধ্যে দেশ থেকে এই অবৈধ শিল্প নির্মূল করার অঙ্গীকার করেছে।
দা লং (ছদ্মনাম) নামে এক ব্যক্তি চার বছর এই শিল্পে কাজ করার পর জানিয়েছেন, কীভাবে এই চক্রগুলো বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়। তিনি জানান, তারা মূলত ‘পিগ বুচারিং’ (রোমান্স স্ক্যাম) এবং ভুয়া ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে প্রতারিত করে। লং নিজেই এক মাসে একটি কোম্পানিকে প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে দিয়েছিলেন। বিশ্বজুড়ে এই শিল্পের বার্ষিক আয় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বলে ধারণা করা হয়।
প্রতারণার কৌশলগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব তৈরি করে বিশ্বাস অর্জন করা হয়, তারপর ভুয়া ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়ে প্রতারকেরা উধাও হয়ে যায়। লংয়ের মতে, বড় কোম্পানিগুলো অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায়, ফলে মূল হোতারা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, দেশজুড়ে কড়াকড়ি চললেও টেলিগ্রাম এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে এখনো নিয়মিত কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কম্বোডিয়ার পোইপেট এবং সিহানুকভিলের মতো শহরগুলোতে এখনো অনেক স্ক্যাম সেন্টার চালু আছে। লিন্ডা নামে এক নিয়োগকারী জানান, পুলিশকে পর্যাপ্ত ঘুষ দেওয়া হয় বলে তাদের কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। যেসব তরুণ পড়াশোনা শেষে বেকার, তাঁরা বেশি বেতনের আশায় এই মরণফাঁদে পা দিচ্ছেন।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জ্যাকব সিমস মনে করেন, সরকারের এই অভিযান যতটা না অপরাধ নির্মূলের জন্য, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কম্পাউন্ডে লোকদেখানো অভিযান চালানো হচ্ছে, অথচ বড় বড় রাঘববোয়ালরা ধরা পড়ছে না।
কম্বোডিয়ার শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই শিল্পের গভীর যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। সিমস সতর্ক করে বলেন, এই অভিযান কেবল অপরাধীদের স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করছে (যেমন—শ্রীলঙ্কা এখন নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে), কিন্তু মূল সমস্যাটি সমাধান হচ্ছে না।
কম্বোডিয়া বর্তমানে সংঘটিত অপরাধের তালিকায় বিশ্বে ১৭তম অবস্থানে রয়েছে। সরকারের এই ‘চিরুনি অভিযান’ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। কারণ, এই শিল্পের শিকড় দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর অনেক গভীরে প্রোথিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত গোপন ইউএফও নথি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একটি রহস্যময় ‘আট কোনা’ উড়ন্ত বস্তুর ভিডিওকে ঘিরে ধর্মীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
২৫ মিনিট আগে
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা ও তিস্তা প্রকল্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার (১২ মে) নয়াদিল্লিতে এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
১ ঘণ্টা আগে
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর আরও দুজন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রথমে দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। পৃথক আরেকটি হামলায় অন্য দুই বাংলাদেশি নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
২ ঘণ্টা আগে
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভা থেকে এবার পদত্যাগ করলেন নারী ও মেয়েদের সুরক্ষা এবং সহিংসতাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জেস ফিলিপস। বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় এই খবর দিয়েছে বিবিসি। পদত্যাগপত্রে জেস লিখেছেন—তিনি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।
৪ ঘণ্টা আগে