Ajker Patrika

মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের বার্তা দিলেন আনোয়ার ইব্রাহিম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ২২: ০৩
ছবিটি আনোয়ার ইব্রাহিমের এক্স পোস্ট থেকে নেওয়া
ছবিটি আনোয়ার ইব্রাহিমের এক্স পোস্ট থেকে নেওয়া

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তিন দিনের মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এক্স মাধ্যমে পরপর তিনটি পোস্ট দিয়েছেন। এসব পোস্টে তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

প্রথম পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এ সময় রয়্যাল রেঞ্জার রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের গার্ড অব অনার পরিদর্শন করা হয়। পরে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক ও উষ্ণ পরিবেশে বন্ধ দরজার আলোচনায় অংশ নেন তাঁরা।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যে শুধু বন্ধুত্ব জোরদার নয়, বরং জনগণের কল্যাণে নতুন কৌশলগত সহযোগিতার পথ খুলে দেবে।

দ্বিতীয় পোস্টে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন, প্রতিরক্ষা, হালাল ইকোসিস্টেম, সংস্কৃতি বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন তিনি। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, হালাল ইকোসিস্টেম, এলএনজি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলগত সহযোগিতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি বিনিময় হয়।

তৃতীয় পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মানে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে তিনি অংশ নেন। এর আগে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সফরের সুফল ও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে এবং উভয় দেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ডিএনএ পাওয়ার দাবি একটি শিল্পকর্মে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: দ্য টাইমস
ছবি: দ্য টাইমস

রেনেসাঁ যুগের মহাবিস্ময় লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সঙ্গে যুক্ত একটি শিল্পকর্মে তাঁর ডিএনএ–এর সম্ভাব্য উপস্থিতির দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ এক দশকের গবেষণার ফল হিসেবে এই আবিষ্কারকে তাঁরা ‘উল্লেখযোগ্য মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণা একদিকে যেমন দা ভিঞ্চির পূর্ণ জিনোম পুনর্গঠনের পথে নতুন সম্ভাবনা খুলে দিচ্ছে, তেমনি বিতর্কিত শিল্পকর্মের প্রকৃত স্রষ্টা নির্ধারণ এবং তাঁর প্রতিভার জৈবিক ভিত্তি বোঝার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।

বুধবার রাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, ডিএনএটি উদ্ধার করা হয়েছে ‘হোলি চাইল্ড’ নামে একটি ছোট লাল চক দিয়ে আঁকা ড্রয়িং থেকে। শিল্পকর্মটির স্বত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে—কিছু শিল্প ইতিহাসবিদ এটিকে দা ভিঞ্চির কাজ বলে মনে করেন, আবার অনেকে ধারণা করেন এটি তাঁর কোনো শিষ্যের আঁকা।

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সতর্কভাবে শুকনো সোয়াব দিয়ে ড্রয়িংটির প্রান্ত স্পর্শ করেন। বিশ্লেষণে সেখানে বিভিন্ন অণুজীব, ছত্রাক ও উদ্ভিদের পাশাপাশি মানুষের জেনেটিক উপাদানের ক্ষুদ্র অংশ পাওয়া যায়, যেগুলোর অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে সেগুলো কয়েক শতাব্দী পুরোনো।

রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও সহলেখক জেসি আউসবেল বলেন, ‘এই ডিএনএ–গুলোর কিছু লিওনার্দোর হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

গবেষকেরা একই পদ্ধতি প্রয়োগ করেন পঞ্চদশ শতকের কিছু চিঠিতে, যেগুলো লিখেছিলেন দা ভিঞ্চির বংশের এক পুরুষ আত্মীয় ফ্রোসিনো দি সের জিওভান্নি দা ভিঞ্চি। ড্রয়িং ও চিঠি—উভয় স্থান থেকেই ওয়াই-ক্রোমোজোমের ক্ষুদ্র অংশ উদ্ধার করা হয়, যা পিতৃ উত্তরাধিকারসূত্রে বহন হয়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, উভয় উৎসের ডিএনএ একই বিস্তৃত ওয়াই-ক্রোমোজোম লাইনেজ–এর অন্তর্ভুক্ত, যা মূলত টাস্কানি অঞ্চলে প্রচলিত। সেখানেই ১৪৫২ সালে জন্মেছিলেন দা ভিঞ্চি। যদিও এই মিল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ডিএনএটি লিওনার্দোরই, তবে সম্ভাবনাটি জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষকেরা স্বীকার করেছেন, পরবর্তীকালের কোনো ইতালীয় শিল্প সংরক্ষকের ডিএনএ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই গবেষণা পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ডিএনএ প্রজেক্ট’। প্রকল্পটির একদিকে লক্ষ্য দা ভিঞ্চির পিতার বংশধারা ধরে জীবিত পুরুষ উত্তরসূরিদের শনাক্ত করা, অন্যদিকে তাঁর আত্মীয়দের কঙ্কালাবশেষ বিশ্লেষণ করে জিনগত তথ্য সংগ্রহ। ভবিষ্যতে এই তথ্য ফ্রান্সের শাতো দ’আম্বোয়াজে সংরক্ষিত সমাধিটি সত্যিই দা ভিঞ্চির কি না, তা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।

গবেষণায় আরও পাওয়া গেছে, রেনেসাঁ যুগের জীবনযাত্রার ইঙ্গিত। ‘হোলি চাইল্ড’–এ সাইট্রাস উদ্ভিদের ডিএনএ মিলেছে, যা মেডিচি পরিবারের বাগানে দা ভিঞ্চির সময় কাটানোর ঐতিহাসিক বিবরণের সঙ্গে মিলে যায়। এ ছাড়া উইলো গাছ ও ম্যালেরিয়া পরজীবীর জেনেটিক চিহ্নও শনাক্ত হয়েছে, যা তৎকালীন টাস্কানির পরিবেশ ও রোগব্যাধির বাস্তবতাকে সামনে আনে।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে দা ভিঞ্চির আরও বহু ড্রয়িং ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে—যার মাধ্যমে শিল্প, ইতিহাস ও বিজ্ঞানের সংযোগ আরও গভীরভাবে উন্মোচিত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

পাল্টা জবাব নয়, ইসরায়েলের হামলার আগেই আঘাত হানবে ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) গত সোমবার একটি বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে। ছবি: এপির সৌজন্যে
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) গত সোমবার একটি বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে। ছবি: এপির সৌজন্যে

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা চালানো হলে কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির নবগঠিত ‘ইরানি প্রতিরক্ষা পরিষদ’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং হুমকির ‘স্পষ্ট ইঙ্গিত’ পাওয়া গেলে প্রয়োজনে আগাম সামরিক ব্যবস্থা নেবে।

মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা হচ্ছে একটি ‘রেডলাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা, যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

তবে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা।

গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যদি শান্তিকামী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের ‘উদ্ধার’ করতে এগিয়ে আসবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সরাসরি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে তেহরান।

এ ছাড়া ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। ইরান সরকার দাবি করছে, এই বিক্ষোভের পেছনে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সরাসরি উসকানি রয়েছে।

এদিকে পরিষদের বিবৃতির দুই দিন আগেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও দূরপাল্লার মিসাইল ইউনিটের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। ইরানের সরকারি সংবাদপত্র তেহরান টাইমস এই কৌশলকে ‘আগাম আত্মরক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করে পরিষদের বার্তাকে আরও জোরালো করেছে।

যদিও ইরানি প্রতিরক্ষা পরিষদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, ‘যে আমাদের আক্রমণ করবে, তাকে একইভাবে আক্রমণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) একটি সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ঘটনা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বেশি সতর্ক ও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আগাম হামলার ঘোষণা মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কোনো গোয়েন্দা বা সামরিক অভিযান ঠেকানোর একটি কৌশল। তবে এই নীতি সরাসরি কার্যকর করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

সিরিয়ায় সরকার ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ, বাড়িছাড়া হাজারো মানুষ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সরকারি উদ্ধার বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
সরকারি উদ্ধার বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

সিরিয়ার বৃহত্তম শহর আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের এই লড়াইয়ে আজ বুধবার পর্যন্ত দুই নারী-শিশুসহ অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছে। এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ।

গতকাল মঙ্গলবার এই সংঘর্ষের সূচনা হয়। ওই দিন সিরীয় সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) মধ্যে গোলাগুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশু ছিল।

রাতভর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর আজ বুধবার আবার গোলাবর্ষণ শুরু হয় এবং বিকেলের দিকে তা আরও তীব্র হয় বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের সাংবাদিকেরা। আলেপ্পোর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন করে আরও চারজন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।

সিরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকার সামরিক অবস্থানগুলোকে তারা ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করছে। সিরিয়ার দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তাঁরা আলেপ্পোতে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আশঙ্কা করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক মানুষদের সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। শহরের বাস ব্যবহার করে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্ধার বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

আলেপ্পোর বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর অপারেশনপ্রধান ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মানুষ যেখানেই যেতে চান, তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা নিরাপদে পৌঁছে দিচ্ছি।’

সাম্প্রতিক এই লড়াই সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেপ্পোর স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিমানবন্দর ও তুরস্কগামী একটি প্রধান মহাসড়ক। শিল্পাঞ্চলের বহু কারখানায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে এবং শহরের কেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

দামেস্ক সরকার জানিয়েছে, এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ছোড়া রকেট, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের জবাব হিসেবেই তারা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

তবে কুর্দি বাহিনী পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলা এবং শহরের স্থিতিশীলতা ধ্বংসকারী এই বিপজ্জনক উত্তেজনার জন্য দামেস্কের সরকার সরাসরি দায়ী।

সিরিয়ার ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় কুর্দি কর্তৃপক্ষ উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার পাশাপাশি আলেপ্পোর কিছু অংশে আধা স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে। এরপর ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে ইসলামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসে। তখন থেকে সিরিয়ার বর্তমান সরকার ওই এলাকাগুলোকে একীভূত করতে চাইলেও কুর্দিদের অনিচ্ছায় তা সম্ভব হয়নি।

গত বছর দামেস্ক সরকার ও এসডিএফের মধ্যে একটি চুক্তি হয়, যেখানে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পূর্ণ একীভূতকরণের পরিকল্পনা ছিল। তবে এ নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গড়িমসি ও অসৎ উদ্দেশ্যের অভিযোগ তুলেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এসডিএফকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। এতে তুরস্কেরও জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আঙ্কারা কুর্দি যোদ্ধাদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

রাশিয়া আর চীন একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রকেই ভয় ও সম্মান করে: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীন ও রাশিয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই ভয় ও সম্মান করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ন্যাটো, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিজের ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবি করেন।

বাংলাদেশ সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) সমুদ্রপথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প লেখেন—যুক্তরাষ্ট্র সব সময় ন্যাটোর পাশে থাকবে। এমনকি ন্যাটো যদি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ালেও যুক্তরাষ্ট্র দাঁড়াবে।

একই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পেছনে মূল ভূমিকা তাঁরই। তিনি জানান, তাঁর আগে ন্যাটোর অধিকাংশ দেশ জিডিপির দুই শতাংশও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করত না এবং নিজেদের দায় ঠিকমতো পরিশোধও করছিল না। তখন যুক্তরাষ্ট্র ‘বোকার মতো’ তাদের হয়ে খরচ বহন করছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁর হস্তক্ষেপ না থাকলে রাশিয়া ইতিমধ্যেই পুরো ইউক্রেন দখল করে নিত। এ ছাড়াও তিনি দাবি করেন, তিনি একাই ৮টি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে লাখো মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন।

নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ন্যাটোভুক্ত দেশ নরওয়ে ‘বোকামির পরিচয় দিয়ে’ তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি। তবে তিনি বলেন, পুরস্কার না পাওয়াটা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

পোস্টের শেষ অংশে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, চীন ও রাশিয়া কেবল পুনর্গঠিত যুক্তরাষ্ট্রকেই ভয় ও সম্মান করে। তাঁর ভাষায়, ‘চীন ও রাশিয়া যে একমাত্র দেশকে ভয় ও সম্মান করে, সেটি যুক্তরাষ্ট্র।’

ট্রাম্পের এসব মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ন্যাটো, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তাঁর দাবিগুলোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ধরেই ফেলল মার্কিন বাহিনী, আটলান্টিকে টানটান উত্তেজনা

ঘুষের লাখ টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান বিক্রির আলোচনা, ভারতে উদ্বেগ কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত