Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সমর্থন আছে অন্তর্বর্তী সরকারেরও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
গতকাল বুধবার ওভাল অফিসে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস
গতকাল বুধবার ওভাল অফিসে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক বছর দেশটির তেল সম্পদের ওপর ওয়াশিংটনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা এখন ওয়াশিংটনকে ‘প্রয়োজনীয় সবকিছু’ দিচ্ছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে অবস্থান করবে।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলাকে পুনর্গঠন করব। আমরা দেশটির তেল ব্যবহার করব এবং তেল নেব।’ তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে।

ভেনেজুয়েলার ওপর হোয়াইট হাউস কত দিন সরাসরি নজরদারি বজায় রাখবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা সময়ই বলে দেবে।’ এক বছরের বেশি সময় হবে কি না, জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব, তার চেয়েও অনেক বেশি।’

গতকাল বুধবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজও মার্কিন বাজারে তেল বিক্রির পরিকল্পনাকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, নিকোলা মাদুরোকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর একটি ‘দাগ’ ফেলেছে, তবে এমন পরিস্থিতেও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা এমন জ্বালানি সম্পর্কের জন্য উন্মুক্ত, যেখানে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।’

মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপেরও একটি রূপরেখা ঘোষণা করেছে। মার্কিন জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান মজুত এবং ভবিষ্যতে উৎপাদিত সব তেল যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বাজারজাত করবে। বিক্রির অর্থ মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল আটকা পড়ে ছিল। গতকাল বুধবার এই তেল রপ্তানি করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কারাকাস একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। ট্রাম্প এই বিষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা তেলের দাম কমিয়ে আনছি এবং সেই অর্থ ভেনেজুয়েলাকেই দিচ্ছি। তাদের এখন জরুরি অর্থের প্রয়োজন।’

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলা শুধু মার্কিন পণ্যই কিনবে। তিনি লেখেন, ‘আমাকে এইমাত্র জানানো হয়েছে, আমাদের নতুন তেল চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলা শুধু আমেরিকায় তৈরি পণ্যই কিনবে।’

এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলা শুধু তখনই তেল বিক্রি করতে পারবে, যদি তা আমেরিকার ‘জাতীয় স্বার্থ’ রক্ষা করে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কারিনা মাচাদোকে সমর্থন না দিয়ে মাদুরোর সাবেক সহযোগী দেলসি রদ্রিগুয়েজকে বেছে নিলেন? ট্রাম্প এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে শুধু বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রদ্রিগুয়েজের সঙ্গে ‘সব সময়’ যোগাযোগ রাখছেন।

ভেনেজুয়েলায় কবে নাগাদ নির্বাচন হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

এদিকে আগামীকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে শেভরন, এক্সনমোবিল এবং কনোকো ফিলিপসের মতো বড় তেল কোম্পানিগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। সরকার চায় এই কোম্পানিগুলো দ্রুত ভেনেজুয়েলায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করুক। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিনিয়োগের আগে কোম্পানিগুলো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ‘আইনি ও আর্থিক নিশ্চয়তা’ দাবি করছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তারা বিপুল মূলধন বিনিয়োগের আগে সুরক্ষা চাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে সড়কপথে জয়শঙ্করের ৪০০ মাইলের রুদ্ধশ্বাস যাত্রা, নেপথ্য কাহিনি

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: মূল নকশার বাইরে চারটি র‍্যাম্প নির্মাণের ভাবনা

ওয়াশিংটন সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, যা আলোচনা হলো মার্কিনদের সঙ্গে

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

অধিবাসীদের নগদ অর্থ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড ‘কেনার’ কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত