Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন পুলিশের গুলিতে ফের একজন নিহত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ২৯
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন পুলিশের গুলিতে ফের একজন নিহত
অ্যালেক্স প্রেটিকে যেখানে আইসিই এজেন্ট গুলি করে হত্যা করে সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় স্থানীয়রা। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও একজন নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিনিয়াপোলিস থেকে ভারী অস্ত্রধারী ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের জোর দাবি উঠেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা সাংবাদিকদের জানান, ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শনিবার গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। নিহত ব্যক্তির মা-বাবা তাঁকে শনাক্ত করে বলেন, তাঁর নাম অ্যালেক্স প্রেটি। তিনি আইসিইউ নার্স হিসেবে কাজ করতেন।

এই প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অন্যান্য ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে তারা সেখানে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে।

এই ঘটনাটি এমন এক প্রেক্ষাপটে ঘটল, যার আগে গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড নামের এক নারী গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে শহরটিতে প্রতিদিন ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের একজন তাঁর গাড়ির দিকে গুলি চালালে রেনে গুড নিহত হন।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে পৃথক আরেকটি ঘটনায় ফেডারেল এজেন্টরা ভেনেজুয়েলার এক নাগরিককে গুলি করেন। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সেন্ট পল শহরে এক আলাদা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি এখন আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সংগঠিত নৃশংসতার একটি অভিযান। আর আজ সেই অভিযান আরও একটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।’ ওয়ালজ জানান, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য নিজেই পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের এক এজেন্ট একজন ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছেন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তির কাছে একটি হ্যান্ডগান ছিল এবং তাঁকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। ডিএইচএস মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, এক ব্যক্তি হ্যান্ডগান নিয়ে এজেন্টদের কাছে এগিয়ে আসেন এবং কর্মকর্তারা তাঁকে নিরস্ত্র করতে গেলে তিনি ‘সহিংস প্রতিরোধের’ চেষ্টা করেন। এ সময় এজেন্ট ‘আত্মরক্ষার্থে গুলি’ চালান।

ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিবাসন কর্মকর্তারা যে অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে দাবি করেছেন, তাঁর ছবি শেয়ার করেন। ট্রাম্প লেখেন, ‘এটা কী ব্যাপার? স্থানীয় পুলিশ কোথায় ছিল? কেন তাদের আইসিই কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে দেওয়া হয়নি?’ তিনি আরও বলেন, ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও মেয়র ‘তাদের দাম্ভিক, বিপজ্জনক এবং উদ্ধত বক্তব্যের মাধ্যমে বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যালেক্স প্রেটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের মোবাইল ফোনে ফেডারেল এজেন্টদের ভিডিও করছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক এজেন্ট প্রেটি ও অন্য বিক্ষোভকারীদের দিকে মরিচের গুঁড়া স্প্রে করেন। প্রেটি স্প্রে ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এ সময় কয়েকজন এজেন্ট তাঁকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং মাথা ও শরীরে আঘাত করতে থাকেন। প্রেটিকে মাটিতে চেপে ধরে রাখার সময় এক এজেন্ট তাঁর অস্ত্র বের করেন এবং একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা প্রেটির নিথর দেহ দেখা যায়।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষকদের সংগঠন বেলিংক্যাট জানায়, ভিডিও ফুটেজে ‘প্রথম গুলি ছোড়ার আগেই ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়।’ সংগঠনটি জানায়, ‘দুজন আলাদা এজেন্টকে স্পষ্টভাবে গুলি চালাতে দেখা যায়। মোট অন্তত ১০টি গুলির শব্দ শোনা গেছে। এর বেশির ভাগ গুলি ছোড়া হয়েছে তখন, যখন ওই ব্যক্তি ইতিমধ্যে মাটিতে নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন।’

পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেন, পুলিশ মনে করছে নিহত ব্যক্তি ‘আইনসম্মতভাবে অস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত একজন বৈধ অস্ত্র মালিক’ ছিলেন। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অনুমতি থাকলে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করা বৈধ। পুলিশপ্রধান সাধারণ জনগণ ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মিনিয়াপোলিসে আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। তাঁরা বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহিষ্কার অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতির অংশ।

তবে শহরের বাসিন্দা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ভারী অস্ত্রধারী বাহিনী রাস্তায় নামানোয় শহর আরও নিরাপদ হচ্ছে না। শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশপ্রধানের পাশে দাঁড়িয়ে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখনই একটি ভিডিও দেখলাম, যেখানে ছয়জনের বেশি মুখোশধারী এজেন্ট আমাদের এক বাসিন্দাকে মারধর করে গুলি করে হত্যা করেছে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আর কতজন বাসিন্দা, আর কতজন আমেরিকানকে মরতে হবে বা গুরুতর আহত হতে হবে, তারপর এই অভিযান বন্ধ হবে?’

শনিবারের হত্যাকাণ্ডের পর আরও অনেক স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য নেতা ট্রাম্পকে ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের নীরব থাকা রিপাবলিকানদের উদ্দেশে বলছি—এখনই আমাদের অঙ্গরাজ্য থেকে আইসিই সরিয়ে নিন।’

মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমর এই গুলির ঘটনাকে ‘একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প মিনিয়াপোলিসকে একটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলের জন্য আবেদন করেছিল পরিবার: বাগেরহাটের ডিসি

‘তোর পোলা-মাইয়াও যেন তোরে না দ্যাহে’, বাগেরহাটের ডিসি-এসপিকে হুমকি

‘পাকিস্তান না খেললে বিশ্বকাপ আর বিশ্বকাপ থাকবে না’

কুমিল্লা-১০: হাইকোর্টে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মোবাশ্বের, দেখালেন বিএনপির মনোনয়ন

খুলনায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার র‍্যাব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত