
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে আসায় ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম উল্লাস প্রকাশ করেছে। অনেকের মতে, এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জাইদি শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে পশ্চিমাসমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। চলতি সপ্তাহে তারা লোহিত সাগরের বেশ কয়েকটি উপকূলীয় শহর ও দ্বীপ নিজেদের দখলে নেয়, যা কার্যত গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে তেহরানে তাদের মিত্র হুতিদের এই সাম্প্রতিক বিজয়কে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতকাল শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মহেবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পশ্চিম উপকূলে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর এই জয় এক ঐশ্বরিক বিজয় এবং কঠিনতম যুদ্ধক্ষেত্রে বহু বছরের দৃঢ়তার ফসল।’
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সাম্প্রতিক পরাজয়ের পর ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের এই ইয়েমেনি মিত্রদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। গত শুক্রবার কৌশলগত বন্দর শহর মোখা হুতিদের দখলে চলে যাওয়ায় ইয়েমেন সরকার বড় ধরনের ধাক্কা খায়, কারণ এর ফলে লোহিত সাগরে তাদের সরাসরি যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ২০২৪ সালে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেওয়া বক্তব্য পুনরুল্লেখ করে বলেন, হুতিদের এই ‘প্রতিরোধ’ তাদের বিজয় এনে দেবে। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার আরবি ভাষায় গালিবাফ যোগ করেন, ‘বীর ইয়েমেনি জনগণ মহান আল্লাহর ইচ্ছায় অবশ্যই জয়ী হবে।’
ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ জানান, হুতিদের অগ্রযাত্রায় তাঁর সরকার অত্যন্ত আনন্দিত। একইসঙ্গে তিনি অঞ্চলের নেতাদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নির্ভরতা থেকে মুক্ত হওয়ার বুদ্ধিমত্তা লালন এবং ইসলামের পতাকাতলে একতাবদ্ধ হওয়ার’ আহ্বান জানান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেন, হুতিদের এই মহাবিজয় আবারও প্রমাণ করেছে যে, ‘নিরাপত্তা এমন কোনো পণ্য নয়, যা কিনে নেওয়া যায়।’
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে চাপ দেওয়ার অংশ হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা শুরু করে হুতিরা। এর জবাবে সানা, হুদেইদাহসহ হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল। তবে ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়া সৌদি আরব এবার তাদের এই নতুন সংঘাত থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে।
সাম্প্রতিক বিজয়ের ফলে এই ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি এখন লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারছে। ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) দূরে অবস্থিত ময়ুন (পেরিম) দ্বীপসহ লোহিত সাগরের বেশ কিছু দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় খুব কাছ থেকেই তারা এখন আন্তর্জাতিক এই পানিপথে নজর রাখতে পারবে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে এক হুতি কমান্ডারকে তাঁর সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচলে হুমকি তৈরি করতে তাদের এখন আর ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ওপর নির্ভর করতে হবে না। শুধু উপকূলে কামান বসিয়ে যেকোনো দিকে জাহাজে গোলাবর্ষণ করা সম্ভব। হুতিরা প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা না দিলেও শুক্রবার তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানান, ‘সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ থাকবে।’
একইভাবে, আরব উপদ্বীপের অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আংশিক নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি প্রধান অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যৎ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামাতে এই প্রণালি বন্ধ করার হুমকিকে কৌশলগত চাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কীভাবে স্বাভাবিক করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী সোমবারে আঞ্চলিক আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। তেহরান অবশ্য বলছে প্রণালিটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং এই পানিপথ তদারকিতে তারা একটি যৌথ আঞ্চলিক পদক্ষেপ চায়। ইরান দাবি করেছে, এই প্রণালিতে ভূখণ্ডগত সীমানা থাকা ওমানের সাথে তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে ওয়াশিংটন এই চুক্তির বিরোধিতা করছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ এবং নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে তেহরানের কর্তাব্যক্তিরা। গতকাল শনিবার আইআরজিসি-ঘনিষ্ট ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এক্সে লেখেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকান পক্ষ ইরানের সব শর্ত মেনে না নেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সংলাপ বা আলোচনা কোনো কাজেই আসবে না।’
গতকাল শনিবার ইরানি সপ্তাহের শুরুতেই কট্টরপন্থী এবং আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যমগুলো হুতিদের এই বিজয় উদযাপন করে। দৈনিক কায়হান (যার সম্পাদককে নিয়োগ দেন আলী খামেনি) হুতিদের এই সাফল্যকে ‘প্রতিরোধের অলৌকিক ঘটনা’ উল্লেখ করে লিখেছে, এটি ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।’ অন্যদিকে, মাশহাদের প্রভাবশালী আস্তান-ই কুদস রাজভি থেকে প্রকাশিত ‘কুদস’ সংবাদপত্র ইরান ও হুতিদের যৌথভাবে লর্ড অব দ্য স্ট্রেইট বা ‘প্রণালির শাসক’ (Lord of the straits) হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে, যুদ্ধ চলতে থাকলে বাব এল-মান্দেবে চলাচলের পথ আরও কঠিন করার হুমকি তেহরান দিলেও, ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে হুতিদের এই বিজয়কে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের সাথে সরাসরি মেলাচ্ছে না। বরাবরের মতো এবারও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হুতিরা তেহরানের প্রক্সি হিসেবে কাজ করে না; তারা নিজেদের স্বার্থ এবং ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ শেষ করার উদ্দেশ্যে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।
একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতিনিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর থেকে সৌদি অবরোধ তুলে নেওয়া, রিয়াদের সঙ্গে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনা শুরু করা এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেন, ‘ইয়েমেনে এখন যা ঘটছে তা হলো ইয়েমেনিদের ধৈর্যচ্যুত হওয়ার ফল। দীর্ঘদিন ধরে তারা এক নিষ্ঠুর অবরোধের মধ্যে ছিল এবং জাতিসংঘ বা আঞ্চলিক ব্যবস্থা যে তাদের সংকট মেটাতে পারবে না—তারা তা অনুধাবন করতে পেরেছে। তাই এই বাস্তবতা চেপে রাখাটা মোটেও ন্যায়সংগত নয়।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত গতকাল শনিবার রাতের নৈশভোজে ব্রিকস জোটের কয়েকজন নেতা অংশ নেননি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ।
৪৪ মিনিট আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জেলে আটক বাংলাদেশি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রসঙ্গ তুলে বাংলাভাষী হিন্দুদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করায়...
১ ঘণ্টা আগে
২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীদের চুল সাজানো, মেকআপ এবং সরকারি প্রতিনিধিত্বসংক্রান্ত খাতে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ টাকা) ব্যয় হয়েছে ইসরায়েল সরকারের।
১ ঘণ্টা আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে। এসব কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও প্রচারের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থান, স্থানীয় সৃজনশীল প্রতিভা এবং বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।
১ ঘণ্টা আগে