Ajker Patrika

এবার সোমালিয়া-মিসরের সঙ্গে সামরিক জোট গঠনের পথে সৌদি আরব

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৩০
এবার সোমালিয়া-মিসরের সঙ্গে সামরিক জোট গঠনের পথে সৌদি আরব
রিয়াদে বাদশাহ ফয়সাল এয়ার একাডেমিতে এফ–১৫ যুদ্ধবিমানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা। ছবি: এএফপি

সৌদি আরব সোমালিয়া ও মিসরের সঙ্গে এক নতুন সামরিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রভাব কমানো।

চুক্তি চূড়ান্ত করতে শিগগির সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ সৌদি আরব সফরে যাবেন। এই চুক্তির মাধ্যমে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি দুই উপসাগরীয় শক্তি সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনে আমিরাতের সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা বন্ধের লক্ষ্যে সৌদি আরব ইউএইকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়।

গত ৩০ ডিসেম্বর সৌদি আরব ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লায় বোমা হামলা চালায়। সৌদি আরব দাবি করে, ইউএই থেকে আসা একটি অস্ত্রের চালান সেখানে পৌঁছাচ্ছিল, যা দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) জন্য ছিল।

এই হামলার পর সৌদি ও আমিরাতপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে অনলাইনে তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়। উপসাগরীয় ঐক্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সংযত ভাষা ব্যবহার করা হতো, তা থেকে এটি ছিল বড় ধরনের সরে আসা। সৌদি আরব এই অভিযানকে ‘সীমিত’ বলে আখ্যা দিয়ে জানায়, তাদের জাতীয় নিরাপত্তা একটি ‘চূড়ান্ত সীমা।’ একই সঙ্গে ইউএইর পদক্ষেপকে তারা ‘চরমভাবে বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দেয়। এরপর ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) ইউএইর বাহিনীকে ইয়েমেন ছাড়ার দাবি জানায়। তারা ইউএইর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করে এবং বন্দর ও সীমান্তে জরুরি বিধিনিষেধ আরোপ করে।

এই সপ্তাহে সোমালিয়াও ইউএইর সঙ্গে নিরাপত্তা ও বন্দর-সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করেছে। সোমালিয়ার অভিযোগ, ইউএই তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। ইউএই তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদিকে সরিয়ে নিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে ইউএই ও তাদের আঞ্চলিক মিত্র ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। সোমালিল্যান্ড সোমালিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন অঞ্চল, যার নিজস্ব সরকার রয়েছে।

সৌদি আরব সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। তারা কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সোমালিল্যান্ড স্বীকৃতি ও সেখানে রাষ্ট্রীয় সফরের নিন্দা করেছে। ইউএইও আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার কথা বলেছে। তবে তারা মোগাদিসুকে পাশ কাটিয়ে সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড ও সোমালিল্যান্ডের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

এ ছাড়া ইউএই সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দর এবং পুন্টল্যান্ডের বসোসো বন্দরে তাদের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্মকর্তারা সোমালিয়াকে ইউএইর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ দিচ্ছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, পূর্ব আফ্রিকার সঙ্গে সৌদি আরব আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী।

এদিকে সৌদি আরব ও মিসরের সম্পর্কও সম্প্রতি আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। মিডল ইস্ট আইকে এই সপ্তাহে মিসরের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কায়রো ইয়েমেনে ইউএইর কার্যক্রম সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সৌদি আরবকে দিয়েছে। একে ‘সতর্ক পরিকল্পিত পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূত্রটি বলেছে, ‘সৌদি সমর্থন ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মিসর ইউএইকে এক ধরনের বলি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।’ গত সেপ্টেম্বরে এক জ্যেষ্ঠ মিসরীয় কূটনীতিক মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘১৯৫০ সালের যৌথ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তির আওতায় একটি প্রতিরক্ষামূলক আঞ্চলিক বাহিনীর প্রস্তাব দেয় মিসর।’ লক্ষ্য ছিল দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল একটি জোট গঠন, যা সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে বাইরের হুমকি, বিশেষ করে ইসরায়েলের হাত থেকে রক্ষা করবে। তবে এই উদ্যোগটি মূলত কাতার ও ইউএইর বিরোধিতায় আটকে যায়।

রিয়াদের নেতৃত্বে নতুন এই সামরিক জোটের খবর এমন সময় এল, যখন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তুরস্ক সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে গঠিত একটি সামরিক চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী।

তুরস্কের সূত্রগুলো মিডল ইস্ট আইকে জানায়, ‘তুরস্ক এটিকে ন্যাটোর মতো কোনো জোট হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় না। বরং এটি একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামো, যেখানে ভবিষ্যতে পাকিস্তান ও সৌদি আরব অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।’ একই সঙ্গে আঙ্কারা চলতি বছর মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতেও আগ্রহী।

ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিংস কলেজ লন্ডনের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক এবং ইনস্টিটিউট অব মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজের ফেলো ড. আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ইউএই একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, ‘যেখানে ইসরায়েল আছে, কিন্তু অন্য আরব রাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশ এবং তুরস্ক নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমিরাত এমন একটি অক্ষ তৈরি করছে, যা সৌদি আরবকে বাইরে রাখার চেষ্টা করছে।’

সৌদি আরবের সঙ্গে একাধিক যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক চুক্তি বাড়তে থাকায় বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল ও ইউএইর প্রভাবের বিপরীতে একটি সংযুক্ত আরব প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব ও ইউএই বহু বছর ধরে নানা বিষয়ে নীরবে মতবিরোধে ছিল। তবে এখন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেভাবে প্রকাশ্যে বাড়ছে, তা এই অঞ্চলে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সৌদি আরব-পাকিস্তানসহ ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে থাকছে যে ৮ মুসলিম দেশ

এইচএসসি পাসে অফিসার পদে কর্মী নেবে সজীব গ্রুপ

আজকের রাশিফল: প্রেমে ‘পজেসিভ’ হলে বিবাদ বাড়বে, মোবাইল-মানিব্যাগ সাবধান

ইইউর সঙ্গে ‘উচ্চাভিলাষী’ নিরাপত্তা–প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, স্বাক্ষর আগামী সপ্তাহে

সিলেটের সকালটা আজ অন্যরকম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত