Ajker Patrika

১ দিনের মুরগির বাচ্চা আমদানি

নিষিদ্ধ করতে চায় সরকার, আপত্তি খাতসংশ্লিষ্টদের

  • জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়া।
  • দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোই লক্ষ্য।
  • পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া বাস্তবায়নের বিপক্ষে খাতসংশ্লিষ্টরা।
আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা 
নিষিদ্ধ করতে চায় সরকার, আপত্তি খাতসংশ্লিষ্টদের
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যিক পোলট্রি খামারের জন্য এক দিন বয়সী প্যারেন্ট স্টক বা প্রজননকারী মুরগির বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধ করতে চায় সরকার। জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় এ ধরনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ধাপে ধাপে আমদানিনির্ভরতা কমানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

নীতিমালার ৫.৮.১.২ ধারায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক পোলট্রি পালনের জন্য এক দিন বয়সী প্যারেন্ট স্টক বাচ্চা আমদানি করা যাবে না। তবে এক দিন বয়সী গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক (জিপিএস) আমদানির সুযোগ থাকবে। শুধু বাচ্চার সংকট দেখা দিলে ক্ষেত্রবিশেষে প্যারেন্ট স্টক আমদানির অনুমতি দেওয়া হতে পারে, কিন্তু বাণিজ্যিক খামারের জন্য সরাসরি এই আমদানির পথ খোলা থাকবে না।

তবে এই প্রস্তাব ঘিরে পোলট্রিশিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই খাতের প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার শিল্প ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে ডিম ও মুরগির মাংসের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে খাদ্যনিরাপত্তা ও ভোক্তাস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেশে এক দিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন এখনো মাত্র ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটিতে বার্ড ফ্লু বা বড় ধরনের রোগ সংক্রমণ হলে উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে প্রতিদিনের বাচ্চা সরবরাহ ব্যাহত হয়ে ব্রয়লার ও লেয়ার উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক থেকে প্যারেন্ট স্টক উৎপাদিত হয় এবং সেখান থেকে ডিম ও মুরগির উৎপাদন হয়। বর্তমানে জিপিএস আমদানিতে বাধা নেই, তবে প্যারেন্ট স্টক আমদানি শর্তসাপেক্ষ।

ব্রিডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের হিসাবে, দেশে বর্তমানে এক দিন বয়সী জিপিএস বাচ্চার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার, যার মাধ্যমে বছরে ৮৭ থেকে ৯০ লাখ প্যারেন্ট স্টক বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব। চাহিদা মেটাতে গত বছরে ১১ লাখ প্যারেন্ট স্টক বাচ্চা আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতি সপ্তাহে এক দিন বয়সী ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি বাচ্চার চাহিদা ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি, বিপরীতে উৎপাদিত হচ্ছে ২ কোটি ১৫ লাখ। অর্থাৎ এই ঘাটতি মেটাতে আংশিক আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ব্রিডার অ্যাসোসিয়েশনের এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছে, তাদের হিসাবে বর্তমানে বাজারে প্রতি সপ্তাহে ২ কোটি ৬০ লাখ বাচ্চা সরবরাহ হচ্ছে, যেখানে চাহিদা ২ কোটি ২০ লাখ। অধিদপ্তর জানায়, একসময় বছরে ৮০ লাখ প্যারেন্ট স্টক আমদানি হলেও তা কমে এখন ১০ লাখে নেমে এসেছে। সংকটকালে প্রয়োজনে ২০ লাখ প্যারেন্ট স্টক আমদানির অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

পোলট্রিশিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বাচ্চা ও ফিড উৎপাদনে কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য রয়েছে। ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনে খরচ ২৮ থেকে ৩০ টাকা হলেও অনেক সময় খামারিদের ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বাচ্চা কিনতে হয়। এই অস্থিরতায় বহু প্রান্তিক খামারি খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পোলট্রি সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ অঞ্জন মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেন, নীতিমালায় বাজার ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য সিন্ডিকেট মোকাবিলায় সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তাঁর মতে, সংকট বিবেচনায় আমদানির পথ উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম মনে করেন, স্বয়ংসম্পূর্ণতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করলে খাতটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, দেশীয় উৎপাদনে চাহিদা কতটা পূরণ সম্ভব এবং খামারিরা ন্যায্য দামে বাচ্চা পাচ্ছেন কি না, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সার্বিক বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) এ বি এম খালেদুজ্জামান বলেন, খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন আলোচনার পর নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। পোলট্রিশিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষাই এর লক্ষ্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইসিসির ভোটাভুটিতে মাত্র ২ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ

বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা

রমজানের সময়সূচি ২০২৬: সেহরি ও ইফতারের ক্যালেন্ডার

সরকারি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৯ হাজারের বেশি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত